মে-জুনের মিড ডে মিলের টাকা পাচ্ছে না বহু স্কুল, বরাদ্দ বৃদ্ধি অকার্যকর

ALN NEWS DESK
ALN NEWS DESK
Updated : Aug 27, 2026, 05:59 AM IST
4 min read
  • linkedin
  • twitter
  • facebook
  • instagram
  • whatsapp

মিড ডে মিলের বরাদ্দ ১০ টাকা হলেও, বহু স্কুল জুলাইয়ের টাকা পাচ্ছে না। শিক্ষকদের অভিযোগ, পরিস্থিতি সংকটজনক। বিস্তারিত পড়ুন।

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মিড ডে মিলের বরাদ্দ ৬ টাকা ৭৮ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা করেছে রাজ্য সরকার। এই বর্ধিত বরাদ্দ ১ আগস্ট থেকে প্রাপ্য স্কুলগুলির জন্য কার্যকর হবে। কলকাতার বহু স্কুলে ইসকনের অধীন সংস্থার মাধ্যমে মিড ডে মিল দেওয়া হচ্ছে। এই উদ্যোগের ফলে, স্কুল পড়ুয়ারা খাবারের মান ও পরিমাণে কিছুটা উন্নতি পেয়েছে। এমনকি, অনেক বিতর্কের পর কলকাতায় ডিমও পাচ্ছে স্কুল পড়ুয়ারা। তবে, এর পাশাপাশি প্রদীপের নীচে রয়েছে খানিক অন্ধকার। কারণ, বর্ধিত বরাদ্দ পাওয়া তো দূরের কথা, জুলাইয়ের বরাদ্দই পায়নি রাজ্যের স্কুলগুলি।

বিভিন্ন জেলা থেকে আসা অভিযোগগুলি উদ্বেগজনক। বিশেষ করে বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম ইত্যাদি জেলাগুলি থেকে খবর এসেছে যে, তারা মে মাস থেকে মিড ডে মিলের টাকা পায়নি। এর ফলে মিড ডে মিল চালাতে ব্যাপক সমস্যায় পড়ছে স্কুলগুলি। শিক্ষার্থীদের জন্য এই প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি তাদের পুষ্টির চাহিদা পূরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। কিন্তু বরাদ্দের অভাবে স্কুলগুলিকে খাদ্য সামগ্রী কিনতে বাধ্য হতে হচ্ছে, যা তাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী বলেন, ‘ধার করে বাজার আনলে অনেক বেশি দাম ধরে নেন দোকানদাররা। সবজি বাজারে বেশি ধার রাখাও যায় না। এমনিতেই দ্রব্যমূল্য হু হু করে বাড়ছে। কীভাবে চলবে এই প্রকল্প? কেনই বা তিন মাসের বেশি বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া হচ্ছে না?’ বঙ্গীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনন্দ বুধবার হান্ডা বলেন, ‘আজ বাঁকুড়া জেলায় সংগঠনের বৈঠক করেছি। সেখানেও তিন মাসের বেশি বকেয়া রয়েছে। এছাড়া ঝাড়গ্রাম, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর তো রয়েছেই। মূল্যবৃদ্ধির বাজারে এভাবে চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব।’ এই সংগঠনের তরফে মিড ডে মিল অধিকর্তার দপ্তরে অবিলম্বে টাকা ছাড়ার দাবিও জানানো হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জুলাইয়ে শিক্ষা বিষয়ক রিভিউ বৈঠকের পরে বিকাশ ভবন থেকে রাজ্যের মিড ডে মিল পরিস্থিতির উন্নতি সাধনের জন্য নানা ঘোষণা করেন। ইসকনের মাধ্যমে মিড ডে মিল বিলির পাশাপাশি রাজ্যের স্কুলগুলিতে নতুন এলপিজি সংযোগের জন্য অর্থ প্রদান, রাঁধুনিদের ভাতা ২ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার টাকা করার কথা বলেন। মিড ডে মিলের নতুন বাসনের বরাদ্দ দেওয়ার ঘোষণা করেছিলেন। আগেও নানাভাবে এই ঘোষণাগুলি হয়েছিল। এলপিজি সংযোগের জন্য ৮ হাজার ৩৭৫টি স্কুলকে ৩ হাজার টাকা ছাড়ার অর্ডার আগেই হয়ে গিয়েছে। রাঁধুনিদের ভাতাবৃদ্ধির অর্ডারও হয়েছে। আগস্টের ভাতা তাঁরা বর্ধিত হারেই পাবেন।

মিড ডে মিলের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষকরা বলছেন, এই পদ্ধতিতে নিয়মিতভাবে টাকা আসা খুবই দরকার। কারণ এটি একটি রেকারিং খরচ। এককালীন যে খরচগুলি রয়েছে, সেগুলিতে দেরি হলেও চরম সংকট তৈরি হয় না। কিন্তু, এক্ষেত্রে হচ্ছে। পিএম পোষণ পোর্টালের রিপোর্টিং অনুযায়ী, রাজ্যের ৮৩ হাজার ৪২০টি স্কুলে মিড ডে মিল চলে। এর মধ্যে চারটি জেলা মিলিয়ে ১৯ হাজার ৬৭৮টি স্কুল তিন মাসের বকেয়া পায়নি বলে অভিযোগ। ফলে জেলাগুলির দোকানদার, সবজি বিক্রেতারাও সমস্যায় পড়ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক বলেন, ‘বেশি ছাত্রছাত্রী থাকা স্কুলে একরকম সমস্যা। আর কম পড়ুয়ার স্কুলে আর এক। বেশি ছাত্রছাত্রী থাকলে বেশি টাকার বাকি নিতে হচ্ছে। আর কম পড়ুয়া থাকলে একলপ্তে বেশি জিনিস কিনলে দামের ক্ষেত্রে যে সুবিধা পাওয়া যায়, তা সম্ভব হয় না। কম পড়ুয়ার স্কুলে বিনামূল্যে গ্যাস সংযোগ দেওয়ার পাশাপাশি আলু বা অন্যান্য জিনিসও বিনামূল্যে দেওয়া উচিত। তা তো হচ্ছেই না। উলটে টাকাই আটকে রয়েছে।’

এই পরিস্থিতিতে, রাজ্য সরকারের কাছে প্রশ্ন উঠেছে কেন এত সময় ধরে বরাদ্দ মেটানো হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা অবশ্য এই বিষয় নিয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারছেন না। মিড ডে মিল প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া ছাত্রদের পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং তাদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহী করা। কিন্তু যদি বরাদ্দে এই ধরনের দেরি চলতে থাকে, তাহলে প্রকল্পের লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে না। এই কারণে, শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবক ও সমাজের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

এদিকে, মিড ডে মিল প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যদি শিক্ষার্থীদের জন্য এই প্রকল্প কার্যকরী না হয়, তাহলে তা শিক্ষার মানের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। শিক্ষার্থীরা যদি সঠিক পুষ্টি না পায়, তাহলে তাদের শারীরিক এবং মানসিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি হবে। এই কারণে, সরকারের উচিত দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং বরাদ্দের সমস্যা সমাধান করা। এছাড়া, মিড ডে মিলের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য একটি কার্যকরী ব্যবস্থা গঠন করা উচিত।

মিড ডে মিল প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে সরকারের কার্যকরী পদক্ষেপের ওপর। যদি এই সমস্যা সমাধান না করা হয়, তাহলে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তা একটি বড় সংকট হয়ে দাঁড়াতে পারে।

Get More Updates

To learn more about the latest developments in Crime & Law, stay updated with our exclusive reports and analyses on AILensNews.

Related News

গাঙনাপুরের দেবজিৎ ইসরোতে গবেষক হিসেবে যোগ দিচ্ছেন

গাঙনাপুরের দেবজিৎ ইসরোতে গবেষক হিসেবে যোগ দিচ্ছেন

নদীয়ার গাঙনাপুরের দেবজিৎ ভদ্র ইসরোতে 'টেকনিশিয়ান-বি' পদে কাজের সুযোগ পেয়েছেন। কঠ…

Updated : Aug 27, 2026, 12:22 PM IST
Read Full News >
কলকাতার প্রশিক্ষণ শিবিরে হারাল বিজেপির সর্বভারতীয় নেতার হলুদ ডায়েরি

কলকাতার প্রশিক্ষণ শিবিরে হারাল বিজেপির সর্বভারতীয় নেতার হলুদ…

বিজেপির একটি হলুদ ডায়েরি হারিয়ে যাওয়ায় গোপন তথ্য ফাঁসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ডায়ের…

Updated : Aug 27, 2026, 11:18 AM IST
Read Full News >
লালবাজারের নতুন নির্দেশিকা: ভিডিওর মাধ্যমে পুলিশ কর্তাদের নির্দেশনা

লালবাজারের নতুন নির্দেশিকা: ভিডিওর মাধ্যমে পুলিশ কর্তাদের নি…

লালবাজারের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, পুলিশ কর্মকর্তারা ভিডিওর মাধ্যমে অধস্তন পুলি…

Updated : Aug 27, 2026, 12:11 PM IST
Read Full News >
এবার ক্ষেপনাস্ত্র তৈরির দায়িত্বেও বেসরকারি সংস্থা

এবার ক্ষেপনাস্ত্র তৈরির দায়িত্বেও বেসরকারি সংস্থা

এবার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে দেশের বেসরকারি সংস্থার ভূমিকা বাড়তে চলেছে। প্রত…

Updated : Aug 27, 2026, 12:17 PM IST
Read Full News >
অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেয়ে স্কুলের আবর্জনা সাফাই করলেন পুরুলিয়ার দম্পতি

অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেয়ে স্কুলের আবর্জনা সাফাই করলেন পুরু…

পুরুলিয়ার মমতা মাহাতো ও তাঁর স্বামী লেলিন মাহাতো অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেয়ে গ্র…

Updated : Aug 26, 2026, 12:11 PM IST
Read Full News >