• Home
  • News
  • Crime & Law
  • পুরুলিয়ার দম্পতি ও অন্নপূর্ণা যোজনা

অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেয়ে স্কুলের আবর্জনা সাফাই করলেন পুরুলিয়ার দম্পতি

ALN NEWS DESK
ALN NEWS DESK
Updated : Aug 26, 2026, 12:11 PM IST
4 min read
  • linkedin
  • twitter
  • facebook
  • instagram
  • whatsapp

পুরুলিয়ার মমতা মাহাতো ও তাঁর স্বামী লেলিন মাহাতো অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেয়ে গ্রামের স্কুলের নলকূপের কাছে জমে থাকা আবর্জনা পরিষ্কার করেন।

অন্নপূর্ণা যোজনা, যা ভারতের বিভিন্ন রাজ্য সরকারগুলির দ্বারা পরিচালিত একটি সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্প, মূলত দরিদ্র জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। এই প্রকল্পের আওতায়, উপভোক্তারা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ এবং খাদ্যশস্য পেয়ে থাকেন। রাজ্য সরকারগুলি এই প্রকল্পের মাধ্যমে খাদ্য মজুত এবং বিতরণ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে, যাতে দরিদ্র জনগণের মধ্যে পুষ্টির অভাব দূর করা যায়। প্রকল্পটি ভারত সরকারের খাদ্য ও জনবণ্টন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এবং এটি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে কার্যকরী।

অন্নপূর্ণা যোজনার মূল উদ্দেশ্য হল দরিদ্র জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে উপভোক্তাদের খাদ্যশস্য এবং নগদ অর্থ প্রদান করা হয়, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনে খাদ্য কেনার জন্য সহায়তা করে। প্রকল্পটি ২০০০ সালে শুরু হয়েছিল এবং এর আওতায় লক্ষ লক্ষ মানুষ উপকৃত হচ্ছে।

সম্প্রতি, পুরুলিয়ার হুড়ার আমলাতোড়ার বাসিন্দা মমতা মাহাতো অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় ৩ হাজার টাকা পেয়েছেন। এই টাকার আগমনে তিনি অনুভব করেন যে, রাজ্য সরকার তার পাশে দাঁড়িয়েছে এবং তাই সমাজের জন্য কিছু করার প্রয়োজন রয়েছে। মমতা মাহাতো এবং তার স্বামী লেলিন মাহাতো গ্রামের প্রাথমিক স্কুলের নলকূপের পাশে জমে থাকা আবর্জনা পরিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেন। এটি একটি উদাহরণ যে কিভাবে একজন সাধারণ নাগরিক তার সমাজের উন্নয়নে অংশগ্রহণ করতে পারেন।

মমতা দেবী জানান, "আমাদের মত দরিদ্র মানুষের দিকে মুখ তুলে তাকিয়েছে রাজ্য সরকার। তাই অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকা আমি পেয়েছি। সরকার যেভাবে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে, তাতে মনে হয়েছে সমাজের জন্য কিছু করা উচিত।" এই বক্তব্যটি স্পষ্ট করে দেয় যে, তিনি কেবল নিজের জন্য নয়, বরং তার সমাজের জন্যও চিন্তিত।

মমতা এবং লেলিনের উদ্যোগটি স্রেফ আবর্জনা পরিষ্কার করার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তারা ‘একটি গাছ মায়ের নামে’ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে বৃক্ষরোপণও করেন। বৃক্ষরোপণের এই উদ্যোগের মাধ্যমে তারা পরিবেশ সচেতনতারও একটি বার্তা দেন। লেলিন মাহাতো বলেন, "সমাজের জন্যই স্ত্রীর এই কাজ দেখে আর বসে থাকতে পারিনি। তাই নিজেও সাফাই কাজে হাত দিয়েছিলাম।"

এই দম্পতির উদ্যোগটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে শেয়ার করা হচ্ছে। এটি কেবল তাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগ নয়, বরং এটি একটি বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলনের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনও তাদের এই কাজের জন্য কুর্নিশ জানিয়েছে, যা প্রমাণ করে যে সরকারও তাদের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করছে।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক কৃত্তিবাস মাহাতো জানান, "নিয়মিত স্কুল চত্বরকে পরিষ্কার রাখা হয়। নলকূপটি নিচুতে থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলের সাথে আবর্জনা চলে আসে। অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তা সহ দম্পতির এই কাজ সত্যি প্রশংসনীয়।" এই মন্তব্যটি স্কুলের পরিচ্ছন্নতা এবং শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার গুরুত্বকে তুলে ধরে।

গ্রামের অন্যান্য বাসিন্দারাও মমতা ও লেলিনের উদ্যোগকে প্রশংসা করেছেন। তুষারকান্তি মাহাতো এবং শ্রীমন্ত মাহাতো মত প্রকাশ করেন যে, "সত্যিই এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। সকল অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের উপভোক্তা যদি সমাজের কাজে এগিয়ে আসেন, তাহলে সত্যি গ্রামগুলি বদলে যাবে।"

এই ঘটনা সমাজে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দেয়, তা হলো, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং সচেতনতা কেবল সরকারের উপর নির্ভরশীল নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকেরও দায়িত্ব রয়েছে তার সমাজের উন্নয়নে অংশগ্রহণ করা। মমতা ও লেলিনের কাজ শুধু তাদের গ্রামের জন্যই নয়, বরং এটি একটি উদাহরণ হিসেবে কাজ করবে যে কিভাবে সাধারণ মানুষ সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।

এছাড়া, এই ধরনের উদ্যোগগুলি সরকারী প্রকল্পগুলির সঠিক ব্যবহারের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা যেতে পারে। অন্নপূর্ণা যোজনার মতো প্রকল্পগুলি যখন সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয়, তখন তা সমাজের উন্নয়ন এবং পরিবেশের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মমতা ও লেলিনের এই উদ্যোগের মাধ্যমে, তারা শুধু নিজেদের জন্য নয়, বরং তাদের সমাজের জন্যও এক নতুন পথের সূচনা করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে, সমাজের উন্নয়ন কেবল সরকারের কাজ নয়, বরং প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্বও। তাদের এই উদ্যোগ অন্যান্যদের জন্য একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রতি উদ্বুদ্ধ করবে।

এভাবে, অন্নপূর্ণা যোজনার মতো প্রকল্পগুলি যে শুধু খাদ্য নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং সামাজিক সচেতনতা এবং পরিবেশ সুরক্ষার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ, তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মমতা ও লেলিনের উদাহরণ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, আমাদের সমাজের উন্নয়নে প্রতিটি নাগরিকের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তাদের এই উদ্যোগ শুধু তাদের নিজস্ব গ্রামের জন্য নয়, বরং সমগ্র দেশের জন্য একটি প্রেরণা হয়ে উঠতে পারে।

Get More Updates

To learn more about the latest developments in Crime & Law, stay updated with our exclusive reports and analyses on AILensNews.

Related News

গাঙনাপুরের দেবজিৎ ইসরোতে গবেষক হিসেবে যোগ দিচ্ছেন

গাঙনাপুরের দেবজিৎ ইসরোতে গবেষক হিসেবে যোগ দিচ্ছেন

নদীয়ার গাঙনাপুরের দেবজিৎ ভদ্র ইসরোতে 'টেকনিশিয়ান-বি' পদে কাজের সুযোগ পেয়েছেন। কঠ…

Updated : Aug 27, 2026, 12:22 PM IST
Read Full News >
কলকাতার প্রশিক্ষণ শিবিরে হারাল বিজেপির সর্বভারতীয় নেতার হলুদ ডায়েরি

কলকাতার প্রশিক্ষণ শিবিরে হারাল বিজেপির সর্বভারতীয় নেতার হলুদ…

বিজেপির একটি হলুদ ডায়েরি হারিয়ে যাওয়ায় গোপন তথ্য ফাঁসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ডায়ের…

Updated : Aug 27, 2026, 11:18 AM IST
Read Full News >
লালবাজারের নতুন নির্দেশিকা: ভিডিওর মাধ্যমে পুলিশ কর্তাদের নির্দেশনা

লালবাজারের নতুন নির্দেশিকা: ভিডিওর মাধ্যমে পুলিশ কর্তাদের নি…

লালবাজারের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, পুলিশ কর্মকর্তারা ভিডিওর মাধ্যমে অধস্তন পুলি…

Updated : Aug 27, 2026, 12:11 PM IST
Read Full News >
এবার ক্ষেপনাস্ত্র তৈরির দায়িত্বেও বেসরকারি সংস্থা

এবার ক্ষেপনাস্ত্র তৈরির দায়িত্বেও বেসরকারি সংস্থা

এবার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে দেশের বেসরকারি সংস্থার ভূমিকা বাড়তে চলেছে। প্রত…

Updated : Aug 27, 2026, 12:17 PM IST
Read Full News >
মে-জুনের মিড ডে মিলের টাকা পাচ্ছে না বহু স্কুল, বরাদ্দ বৃদ্ধি অকার্যকর

মে-জুনের মিড ডে মিলের টাকা পাচ্ছে না বহু স্কুল, বরাদ্দ বৃদ্ধ…

মিড ডে মিলের বরাদ্দ ১০ টাকা হলেও, বহু স্কুল জুলাইয়ের টাকা পাচ্ছে না। শিক্ষকদের অ…

Updated : Aug 27, 2026, 05:59 AM IST
Read Full News >