এবার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে দেশের বেসরকারি সংস্থার ভূমিকা বাড়তে চলেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এমনই ঘোষণা করেছেন।
কলকাতা, ভারত ২৭ আগ, ২০২৬ ALN: নয়াদিল্লি: ভারত সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন যে দেশের বেসরকারি সংস্থাগুলির ভূমিকা ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে বৃদ্ধি পাবে। এই পদক্ষেপটি ভারতীয় প্রতিরক্ষা শিল্পে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং এটি বেসরকারি খাতের জন্য নতুন সুযোগের দরজা খুলে দিচ্ছে। ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও) এর প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই ক্ষেত্রের বেসরকারি সংস্থাগুলিকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এই নতুন উদ্যোগের আওতায়, বেসরকারি সংস্থাগুলি লং রেঞ্জ ল্যান্ড অ্যাটাক ক্রুজ মিসাইল তৈরি করতে সক্ষম হবে। এই মিসাইলগুলির পাল্লা ১,০০০ থেকে ১,৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে, যা দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। এছাড়াও, ১৫০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার পাল্লার ‘প্রলয়’ ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়নও পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নতি ঘটবে এবং বিদেশি নির্ভরতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বেসরকারি সংস্থাগুলির মধ্যে আইসিওএমএম, ভারত ফোর্জ এবং আদানি ডিফেন্সের মতো প্রতিষ্ঠানগুলি এই প্রকল্পে অংশগ্রহণ করার জন্য সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই সংস্থাগুলি ইতিমধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তিতে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে এবং তারা নতুন প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের প্রতিরক্ষা খাতে অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, নতুন উদ্যোগের আওতায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানো হবে। যেমন, ১০০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার পাল্লার নেক্সট জেন অ্যান্টি রেডিয়েশন মিসাইল, ৩০০ কিমি পর্যন্ত পাল্লার রুদ্রম-২ হাইপারসনিক এয়ার-টু-গ্রাউন্ড মিসাইল, এবং ১০০ কিলোমিটার পাল্লার লং রেঞ্জ গ্লাইড বম্বের উন্নয়নও এই উদ্যোগের অন্তর্ভুক্ত।
লং রেঞ্জ গ্লাইড বম্বের ক্ষেত্রে, এটি এক টন পর্যন্ত ওজনের ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম হবে, যা যুদ্ধক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হতে পারে। এছাড়াও, ২৫-৩০ কিলোমিটার পাল্লার কুইক রিয়াকশন সারফেস টু এয়ার মিসাইলও তৈরি করা হবে, যা একসঙ্গে ছটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারবে। এই সব প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রতিযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থার প্রবেশকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে বড়ো পরিবর্তনের প্রথম ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে, ক্ষেপণাস্ত্রের বিভিন্ন উপাদান ও সাব-সিস্টেমের প্রায় ৫০টি ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থাগুলি সরবরাহ করে। এই নতুন পদক্ষেপের ফলে, বেসরকারি সংস্থাগুলি সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে অংশ নিতে পারবে, যা দেশের প্রতিরক্ষা খাতে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, কেন্দ্রের এই পদক্ষেপের ফলে দেশে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের পরিমাণ বাড়বে এবং এটি দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। ভারত সরকার ইতোমধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে আত্মনির্ভরশীলতার দিকে নজর দিচ্ছে এবং এই উদ্যোগ সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে নেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও, বেসরকারি খাতের এই অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বাজারে ভারতকে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে আসবে। বিদেশি প্রযুক্তির উপর নির্ভরতা কমিয়ে, দেশীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যা ভারতের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এই উদ্যোগের বাস্তবায়নের জন্য সরকারের নীতিগত সমর্থন এবং বেসরকারি খাতের উদ্ভাবনশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের পক্ষ থেকে যদি যথাযথ নীতি এবং সহায়তা প্রদান করা হয়, তবে বেসরকারি সংস্থাগুলি প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবেলা করতে সক্ষম হবে এবং তাদের উৎপাদন প্রক্রিয়া আরও উন্নত করতে পারবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভারতীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা বাড়বে এবং এটি দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। তবে, এই উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করবে বেসরকারি সংস্থাগুলির প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং সরকারের নীতিগত সমর্থনের উপর।
সার্বিকভাবে, ভারতীয় প্রতিরক্ষা খাতে বেসরকারি সংস্থাগুলির অংশগ্রহণ বাড়ানোর এই উদ্যোগ একটি নতুন যুগের সূচনা করছে। এটি দেশের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং আশা করা হচ্ছে যে, এই উদ্যোগ দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পকে আরও শক্তিশালী এবং আত্মনির্ভরশীল করে তুলবে।
এই পরিবর্তনের ফলে, ভারত আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে সক্ষম হবে, যা দেশের জন্য একটি বড় সাফল্য হতে পারে।
To learn more about the latest developments in Crime & Law, stay updated with our exclusive reports and analyses on AILensNews.
নদীয়ার গাঙনাপুরের দেবজিৎ ভদ্র ইসরোতে 'টেকনিশিয়ান-বি' পদে কাজের সুযোগ পেয়েছেন। কঠ…
বিজেপির একটি হলুদ ডায়েরি হারিয়ে যাওয়ায় গোপন তথ্য ফাঁসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ডায়ের…
লালবাজারের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, পুলিশ কর্মকর্তারা ভিডিওর মাধ্যমে অধস্তন পুলি…
মিড ডে মিলের বরাদ্দ ১০ টাকা হলেও, বহু স্কুল জুলাইয়ের টাকা পাচ্ছে না। শিক্ষকদের অ…
পুরুলিয়ার মমতা মাহাতো ও তাঁর স্বামী লেলিন মাহাতো অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেয়ে গ্র…