প্রোটন এক্সচেঞ্জ মেমব্রেন ফুয়েল সেল শক্তি জোগাবে হাইড্রোজেন ট্রেনকে

ALN NEWS DESK
ALN NEWS DESK
Updated : Jul 17, 2026, 06:05 PM IST
4 min read
  • linkedin
  • twitter
  • facebook
  • instagram
  • whatsapp

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শুক্রবার হরিয়ানার জিন্দে উদ্বোধন করেছেন ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন।

প্রোটন এক্সচেঞ্জ মেমব্রেন ফুয়েল সেল (পিইএমএফসি) প্রযুক্তি বর্তমানে পরিবহন খাতে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে, বিশেষ করে হাইড্রোজেন ট্রেনের ক্ষেত্রে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ১২০০ কিলোওয়াট শক্তি উৎপন্ন করা সম্ভব হচ্ছে, যা সঞ্চিত হাইড্রোজেন এবং বাতাস থেকে টেনে নেওয়া অক্সিজেনের রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলস্বরূপ। এই প্রক্রিয়া বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়, যা ট্রেনের চলার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করে।

শুক্রবার, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী হরিয়ানার জিন্দে এই ট্রেনের উদ্বোধন করেছেন, যা দেশের পরিবহন খাতে একটি নতুন প্রযুক্তির সূচনা। এই হাইড্রোজেন ট্রেনের প্রযুক্তি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যে এর উপজাত হিসেবে উৎপন্ন হবে জল, বাষ্প এবং তাপ, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নয়। এটি দেশের নিজস্ব কারিগরি কৌশল কাজে লাগিয়ে তৈরি করা হয়েছে, যা প্রযুক্তিগত স্বায়ত্তশাসনের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

হাইড্রোজেন ট্রেনের ধারণা নতুন নয়, তবে ভারত এই ক্ষেত্রে প্রথমবারের মতো প্রবেশ করছে। এর আগে, চীন, জার্মানি, জাপান এবং আমেরিকার মতো দেশগুলো হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণ করছিল। ভারতের এই উদ্যোগ দেশের পরিবহন খাতে একটি নতুন যুগের সূচনা করবে এবং বৈশ্বিক হাইড্রোজেন প্রযুক্তি ব্যবহারের তালিকায় যুক্ত হবে।

সরকারি স্তর থেকে বলা হয়েছে যে, এই প্রযুক্তি বায়ুদূষণের জন্য দায়ী গ্যাসের নির্গমন শূন্যে নামিয়ে আনতে সাহায্য করবে এবং ডিজেলের ওপর নির্ভরতা কমাবে। তবে, এই প্রযুক্তির আর্থিক দায় এবং এর সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে, এই ট্রেনের টিকিটের সর্বনিম্ন দাম ৫ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সাধারণ যাত্রীদের জন্য একটি সুবিধাজনক বিকল্প।

১০ কোচের এই ট্রেন সর্বোচ্চ ৭৫ কিলোমিটার বেগে চলতে সক্ষম এবং এটি ২৬০০ যাত্রীকে বহন করতে পারে। ট্রেনটি হরিয়ানার জিন্দ এবং সোনেপতের মধ্যে ৮৯ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করবে এবং ১২টি স্টেশনে থামবে। এই নতুন ট্রেনের উদ্বোধন ভারতের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

জিন্দে হাইড্রোজেন স্টোরেজ এবং রিফুয়েলিং পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে, যেখানে ৩ হাজার কেজি হাইড্রোজেন সঞ্চয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। এই প্রকল্পের কারিগরি এবং প্রযুক্তি অনুমোদন দিয়েছে রেলের রিসার্চ ডিজাইন অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অর্গানাইজেশন (আরডিএসও), যা ভারতের রেলওয়ে প্রযুক্তির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

জিন্দল স্টিল, একটি ভারতীয় স্টিল কোম্পানি, শুক্রবার জানিয়েছে যে তারা ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন চালিত ট্রেনের ৪০ শতাংশ স্টেনলেস স্টিল সরবরাহ করেছে। এটি দেশের প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য অবদান।

যদিও হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন প্রযুক্তি দেশের প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, তবে চালু রেল যোগাযোগে যাত্রী পরিষেবার ক্ষেত্রে কিছু অভিযোগ রয়েছে। দূরপাল্লা বা নিত্যযাত্রা, সব ধরনের ট্রেনে অব্যবস্থার ঘটনা নিয়মিতভাবে ঘটে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে, তবে বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

ভারতের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন একটি স্বাগত পরিবর্তন, যা পরিবেশবান্ধব এবং টেকসই। তবে, এই প্রযুক্তির সাফল্য নির্ভর করছে এর কার্যকারিতা, আর্থিক সঙ্গতি এবং যাত্রীদের অভিজ্ঞতার উপর। সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত এই প্রযুক্তির প্রয়োগের পাশাপাশি যাত্রী পরিষেবার মান উন্নয়নে মনোযোগ দেওয়া।

এছাড়া, হাইড্রোজেন ট্রেন প্রযুক্তির আরও বিস্তৃত প্রয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং প্রশিক্ষিত কর্মী তৈরির ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। এই প্রযুক্তির সফল বাস্তবায়ন এবং সম্প্রসারণের জন্য একটি সুসংগঠিত পরিকল্পনা এবং কার্যকরী নীতি গ্রহণ করা জরুরি।

সার্বিকভাবে, ভারতীয় রেলওয়ের এই নতুন উদ্যোগ দেশের পরিবহন খাতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার, ডিজেলের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং যাত্রীদের জন্য উন্নত পরিষেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে ভারত একটি টেকসই ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবে।

হাইড্রোজেন ট্রেন প্রযুক্তির উদ্ভাবন শুধুমাত্র পরিবহন খাতে নয়, বরং সারা বিশ্বের পরিবেশগত সংকট মোকাবেলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমাতে এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য এটি একটি উদাহরণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভারত যদি সফলভাবে হাইড্রোজেন ট্রেন প্রযুক্তির উন্নয়ন ও প্রয়োগে এগিয়ে যেতে পারে, তবে এটি দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং উদ্ভাবনী শক্তির একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে কাজ করবে। এটি দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা প্রদান করতে পারে।

তবে, এই প্রযুক্তির সফল বাস্তবায়নের জন্য কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যেমন, হাইড্রোজেন উৎপাদন এবং সঞ্চয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ, প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ, এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলি। সরকারের উচিত এই চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবেলা করার জন্য একটি সুসংগঠিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা।

এছাড়া, পরিবহন খাতে হাইড্রোজেন প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রকল্পের সুবিধা সম্পর্কে তথ্য প্রদানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি জনগণের মধ্যে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে।

অবশেষে, হাইড্রোজেন ট্রেন প্রযুক্তির সফল প্রয়োগের মাধ্যমে ভারত পরিবহন খাতে একটি নতুন উদাহরণ স্থাপন করবে এবং দেশের উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে একটি সঠিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবে। এটি কেবলমাত্র দেশের জন্য নয়, বরং সারা বিশ্বের জন্য একটি উদাহরণ হতে পারে, যেখানে পরিবেশ, প্রযুক্তি এবং অর্থনীতির মধ্যে সমন্বয় সাধন করা সম্ভব।

Get More Updates

To learn more about the latest developments in Artificial Intelligence, stay updated with our exclusive reports and analyses on AiLensNews.

Related News