• Home
  • Sports
  • Tennis
  • উইম্বলডনে ভারতীয় তোয়ালার প্রতি বিশ্বসেরা তারকাদের আকর্ষণ

জকোভিচ থেকে শিয়নটেক, উইম্বলডনের ভারতীয় তোয়ালের প্রেমে মজেছেন বিশ্বসেরা তারকারা

ALN NEWS DESK
ALN NEWS DESK
Updated : Jul 11, 2026, 09:10 PM IST
5 min read
  • linkedin
  • twitter
  • facebook
  • instagram
  • whatsapp

উইম্বলডনের গ্যালারিতে টেনিসের পাশাপাশি নজর কাড়ছে ভারতীয় তোয়ালেগুলি, যা এখন আভিজাত্যের প্রতীক।

বিশ্বের অন্যতম প্রধান টেনিস প্রতিযোগিতা উইম্বলডন, যা প্রতি বছর লন্ডনের ঐতিহাসিক উইম্বলডন টেনিস ক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়, ক্রীড়া প্রেমীদের জন্য একটি বিশেষ আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রতিযোগিতার গ্যালারিতে শুধুমাত্র টেনিসের প্রতিভা নয়, বরং খেলোয়াড়দের হাতে থাকা বিলাসী তোয়ালেগুলিও দর্শকদের নজর কাড়ে। এই তোয়ালেগুলি এখন শুধু কোর্টে ঘাম মুছার জন্য ব্যবহৃত হয় না, বরং এটি এক ধরনের স্টাইল এবং আভিজাত্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে, এই তোয়ালেগুলির উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং ভারতের সাথে এর সম্পর্ক গ্রীষ্মকালীন টেনিসের জন্য একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

উইম্বলডনের এই বিশেষ তোয়ালেগুলি তৈরি হয় গুজরাটের ভাপিতে, যা ভারতীয় বস্ত্রশিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ব্রিটিশ ব্র্যান্ড ‘ক্রিস্টি’ 1987 সাল থেকে উইম্বলডনের অফিশিয়াল তোয়ালে তৈরি করে আসছে। তবে, ২০০৭ সালে এই ব্র্যান্ডটি ভারতের ‘ওয়েলস্পান’ নামক একটি সংস্থার অধীনে চলে আসে। এর ফলে, তোয়ালেগুলির উৎপাদন ভারতে শুরু হয় এবং এটি ভারতীয় বস্ত্রশিল্পের জন্য একটি বড় সুযোগ সৃষ্টি করে। প্রতি বছর উইম্বলডনের শুরু থেকে দেড় বছর আগে তোয়ালেগুলির নকশা তৈরির কাজ শুরু হয়, এবং একটি তোয়ালে তৈরি করতে প্রায় সাত দিন সময় লাগে।

এই বছরের উইম্বলডনে নতুনত্ব হিসেবে ঐতিহ্যবাহী সবুজ এবং বেগুনি রঙের পাশাপাশি একটি নতুন ‘স্ট্রবেরি’ রঙের তোয়ালে যোগ হয়েছে। এই তোয়ালেটি টুর্নামেন্টের জনপ্রিয় খাবার ‘স্ট্রবেরি অ্যান্ড ক্রিম’ এর প্রতি সম্মান জানাতে তৈরি করা হয়েছে। প্রিমিয়াম কটন সুতোয় তৈরি এই তোয়ালেগুলি এতটাই নরম এবং জলশোষক যে, বিশ্বসেরা টেনিস খেলোয়াড়দের মধ্যে এটি একটি জনপ্রিয় পছন্দ হয়ে উঠেছে। যদিও নিয়ম অনুযায়ী ম্যাচ শেষে তোয়ালে ফেরত দেওয়ার কথা, বাস্তবে প্রায় ৮৫ শতাংশ তোয়ালে খেলোয়াড়দের কিট ব্যাগে আশ্রয় নেয় এবং মাত্র ১৫ শতাংশ তোয়ালে ফেরত আসে।

বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়রা এই তোয়ালেগুলির প্রেমে মজে গেছেন। পোল্যান্ডের ইগা শিয়াতেক নিয়মিতভাবে এই তোয়ালেগুলি বাড়িতে নিয়ে যান, এবং ভক্তরা তাঁকে মজা করে ‘উইম্বলডনের তোয়ালে চোর’ বলে ডাকেন। নোভাক জকোভিচ একবার ঠাট্টা করে বলেছিলেন যে, তিনি বন্ধু-বান্ধবদের উপহার দেওয়ার জন্য তোয়ালে জমিয়ে বাড়িতে নিয়ে যান। প্রতি বছর প্রায় ২৫০০ তোয়ালে এভাবে মাঠ থেকে উধাও হয়ে যায়। এই উদ্বৃত্ত তোয়ালে দিয়ে ক্রিস্টি বিলাসবহুল টোট ব্যাগ এবং পোশাক তৈরি করছে, যার দাম ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় পাঁচ হাজার টাকার কাছাকাছি।

উইম্বলডনের সাথে ভারতের এই সম্পর্ক কেবল তোয়ালেই সীমাবদ্ধ নয়। সম্প্রতি, উইম্বলডনের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম পেজে রজার ফেডেরারের একটি শট ‘পহেলা নেশা’ গানের সুরে ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়াও, জকোভিচের কোর্ট কাঁপানো মুহূর্তের নেপথ্যে বেজেছে ডিভাইন-এর ‘বাজিগর’। শুধু গানই নয়, দিল্লির শতবর্ষ প্রাচীন ‘কুরেমাল কুলফি’ এর সাথে হাত মিলিয়ে উইম্বলডন একটি বিশেষ স্ট্রবেরি কুলফি তৈরি করেছে। এই সাহেবি মেজাজ এবং ভারতীয় স্বাদের মেলবন্ধন খেলাধুলার আঙিনায় এক নতুন যুগের সূচনা করেছে।

এটি স্পষ্ট যে, উইম্বলডন এবং ভারতীয় বস্ত্রশিল্পের মধ্যে একটি বিশেষ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। এই সম্পর্ক কেবল ব্যবসায়িক নয়, বরং সাংস্কৃতিক এবং সামাজিকও। ভারতীয় বস্ত্রশিল্পের গুণগত মান এবং ঐতিহ্যকে বিশ্ব মঞ্চে তুলে ধরার সুযোগ এই তোয়ালেগুলি দিয়েছে। এটি ভারতীয় শিল্পীদের জন্য একটি গর্বের বিষয়, কারণ তারা বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জন করছে। পাশাপাশি, উইম্বলডনের মতো বৃহৎ টুর্নামেন্টে ভারতীয় শিল্পের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতীয় সংস্কৃতির পরিচয় দিচ্ছে।

উইম্বলডনের এই তোয়ালেগুলি শুধু ক্রীড়া জগতেই নয়, বরং ফ্যাশন জগতেও একটি বিশেষ স্থান অধিকার করেছে। খেলোয়াড়দের মধ্যে এগুলির জনপ্রিয়তা ফ্যাশন ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে, যেখানে অনেকেই এগুলিকে তাদের ব্যক্তিগত স্টাইলের অংশ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই তোয়ালেগুলির ছবি এবং ভিডিওগুলি ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে, যা তাদের জনপ্রিয়তা বাড়াচ্ছে।

এছাড়া, উইম্বলডনের এই তোয়ালেগুলির মাধ্যমে ভারতীয় বস্ত্রশিল্পের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ক্রিস্টি এবং ওয়েলস্পানের সহযোগিতায়, ভারতীয় বস্ত্রশিল্পের গুণগত মান এবং নকশার প্রতি আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করছে। এটি ভারতীয় শিল্পীদের জন্য নতুন বাজার তৈরি করছে এবং তাদের জন্য একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ভবিষ্যতে এই তোয়ালেগুলির জনপ্রিয়তা কিভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং এটি ভারতীয় বস্ত্রশিল্পের জন্য কিভাবে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। যদি এই প্রবণতা বজায় থাকে, তবে ভারতীয় বস্ত্রশিল্পের জন্য এটি একটি নতুন যুগের সূচনা করবে। এটি কেবল অর্থনৈতিক দিক থেকেই নয়, বরং সাংস্কৃতিক দিক থেকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।

সার্বিকভাবে, উইম্বলডনের এই ভারতীয় তোয়ালের প্রেম ক্রীড়া এবং সংস্কৃতির মধ্যে একটি বিশেষ সেতুবন্ধন তৈরি করেছে। এটি কেবল একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি একটি সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন, যেখানে ভারতীয় ঐতিহ্য এবং পশ্চিমা সংস্কৃতির সমন্বয় ঘটছে। এই মেলবন্ধন ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে, এবং এটি ক্রীড়া জগতের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

উইম্বলডনের তোয়ালেগুলির ইতিহাস এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে কিছু অতিরিক্ত তথ্য উল্লেখ করা যেতে পারে। গুজরাটের ভাপিতে তৈরি এই তোয়ালেগুলি বিশেষভাবে তাদের উচ্চ মানের কটন এবং নকশার জন্য পরিচিত। স্থানীয় শিল্পীরা এই তোয়ালেগুলির নকশা তৈরি করেন, যা প্রায়শই ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় নকশা এবং আধুনিক ডিজাইনের সংমিশ্রণ। এই প্রক্রিয়ায় স্থানীয় সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়, যা আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় বস্ত্রশিল্পের পরিচয় বৃদ্ধি করে।

এছাড়াও, উইম্বলডনের তোয়ালেগুলির মাধ্যমে ভারতীয় বস্ত্রশিল্পের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ক্রিস্টি এবং ওয়েলস্পানের সহযোগিতায়, ভারতীয় বস্ত্রশিল্পের গুণগত মান এবং নকশার প্রতি আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করছে। এটি ভারতীয় শিল্পীদের জন্য নতুন বাজার তৈরি করছে এবং তাদের জন্য একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে।

উইম্বলডনের এই তোয়ালেগুলির জনপ্রিয়তা কেবল টেনিসের মাঠেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ফ্যাশন ও লাইফস্টাইলের একটি অংশও হয়ে উঠেছে। অনেক খেলোয়াড় এবং সেলিব্রিটি এই তোয়ালেগুলিকে তাদের ব্যক্তিগত স্টাইলের অংশ হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে তাদের ছবি শেয়ার করছেন। এটি কেবল একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, বরং একটি সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অতএব, উইম্বলডনের ভারতীয় তোয়ালের প্রেম ক্রীড়া এবং সংস্কৃতির মধ্যে একটি বিশেষ সেতুবন্ধন তৈরি করেছে। এটি কেবল একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি একটি সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন, যেখানে ভারতীয় ঐতিহ্য এবং পশ্চিমা সংস্কৃতির সমন্বয় ঘটছে। এই মেলবন্ধন ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে, এবং এটি ক্রীড়া জগতের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

Get More Updates

To learn more about the latest developments in Tennis, stay updated with our exclusive reports and analyses on AiLensNews.

Related News