• Home
  • Sports
  • Basketball
  • টমাস টুচেল এবং ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ

টমাস টুচেল | ৬০ বছরের আক্ষেপের দায় টুচেলের? রক্ষণাত্মক কৌশলে বিশ্বজয়ের স্বপ্নভঙ্গ ইংল্যান্ডের

ALN NEWS DESK
ALN NEWS DESK
Updated : Jul 17, 2026, 12:25 PM IST
5 min read
  • linkedin
  • twitter
  • facebook
  • instagram
  • whatsapp

টমাস টুচেলের রক্ষণাত্মক কৌশল ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ স্বপ্নকে ভেঙে দিয়েছে। অ্যান্থনি গর্ডনের গোলের পর ইংল্যান্ডের হারের কারণ বিশ্লেষণ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

সুস্মিতা গঙ্গোপাধ্যায়, আটলান্টা: ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডন যখন গোলটা করলেন, আটলান্টার স্টেডিয়ামে তখন স্বপ্ন পূরণের হাতছানি। ৬০ বছরের বিশ্বকাপ খরা কাটানোর দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে ইংল্যান্ড! কিন্তু এরপরই টমাস টুচেল (Thomas Tuchel) যা করলেন, তাতেই কি সর্বনাশ ডেকে আনলেন?

গোলদাতা গর্ডন, ডেকলান রাইস এবং রিসি জেমসকে তুলে নিয়ে টুচেল মাঠে নামালেন তিন ডিফেন্ডার- এজরি কনসা, ড্যান বার্ন এবং নিকো ও’রেইলিকে। ছয়জন ডিফেন্ডার নিয়ে পুরোপুরি নিজেদের খোলসে ঢুকে গেল ইংল্যান্ড। আর সেই সুবর্ণ সুযোগটাই কাজে লাগাল আর্জেন্টিনা। ৮৫ থেকে ৯২ মিনিট- স্রেফ সাত মিনিটের একটা ঝড়ে খড়কুটোর মতো উড়ে গেল ইংল্যান্ডের বিশ্বজয়ের স্বপ্ন। আর এই হারের পর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম থেকে শুরু করে প্রাক্তন ফুটবলার- সবার কাঠগড়ায় এখন টুচেল।

প্রাক্তন ইংরেজ স্ট্রাইকার ওয়েন রুনি রেগে আগুন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা দারুণ একটা জায়গায় পৌঁছে গিয়েও বুঝতে পারলাম না কী করব! আমরা গুটিয়ে গিয়ে ওদের আক্রমণের সুযোগ করে দিলাম। একবার ওরা যখন গোল পেল, দ্বিতীয়টা আসা অনিবার্য ছিল। আপনি যদি ১-০ এগিয়ে গিয়ে ডিফেন্সে পাঁচ-ছয়জন লোক নামিয়ে লিওনেল মেসি আর আর্জেন্টিনাকে নিজেদের বক্সে ঢোকার আমন্ত্রণ জানান, তাহলে তো বিপদ ডাকছেনই!’ অ্যালান শিয়েরার এবং মাইকেল ওয়েনের গলাতেও এক সুর। ওয়েন তো স্পেনের উদাহরণ টেনে বলেছেন, ‘গত রাতে ১-০ এগিয়ে থেকে স্পেনের খেলাটা দেখা উচিত ছিল। ওটাকে বলে সাহস। আমরা আর্জেন্টিনার চেয়ে ভালো দল ছিলাম, কিন্তু শেষে আমাদের হারটাই প্রাপ্য ছিল।’

এমনকি প্রাক্তন জার্মান গোলকিপার অলিভার কানও রীতিমতো তুলোধোনা করেছেন তাঁর স্বদেশীয় কোচকে। তাঁর কথায়, ‘ইংল্যান্ড ভয়ের ফাঁদে পা দিয়ে ফেলেছিল। গোল করার পর ওরা শুধু ডিফেন্সই করে গেল। আর্জেন্টিনার মতো দলের বিরুদ্ধে এটা সম্ভব নয়। খেলার শেষে তো ইংল্যান্ড প্রায় ১০ জন ডিফেন্ডার নিয়ে খেলছিল! আমাদের টুচেলকে জিজ্ঞাসা করা উচিত, ও তখন কী ভাবছিল?’

কিন্তু টুচেল কি সত্যিই এই হারের দায় নিচ্ছেন? মিক্সড জোনে ইংরেজ কোচের মুখে অবশ্য আত্মপক্ষ সমর্থনের সুরই শোনা গেল। তাঁর যুক্তি, ‘আর্জেন্টিনা তখন মরিয়া হয়ে উঠেছিল। ওরা প্রতিটা হেডে জিতছিল আর বক্সের ভেতর একের পর এক ক্রস ভাসিয়ে দিচ্ছিল। ফাঁকফোকর বোজাতে এবং হাওয়ায় বলের দখল নিতেই আমরা পাঁচ ডিফেন্ডারে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। আমি আগে আক্রমণাত্মক পরিবর্তনও করেছি। আসলে হারলে সমালোচনা হবেই, এটাই খেলার নিয়ম। তবে আমার কোনও আক্ষেপ নেই। আমরা সেরাটাই দিয়েছি, খুব কাছ থেকে ফিরতে হল।’

অধিনায়ক হ্যারি কেন অবশ্য স্বীকার করে নিচ্ছেন যে, শেষ ২০ মিনিট এবং স্টপেজ টাইম শুধু রক্ষণ সামলে কাটানোটা বড্ড দীর্ঘ সময়। ইংল্যান্ড বারবার এই ভুলটা করে। ১৯৯৬ সাল থেকে বড় টুর্নামেন্টের নকআউটে এক গোলে এগিয়ে থেকেও আটবার হারল ইংল্যান্ড!

যে টুচেলকে ‘সুপার কোচ’ তকমা দিয়ে ইংল্যান্ডে আনা হয়েছিল, সেই তিনিই এখন খলনায়ক। আপাতত শনিবার তৃতীয় স্থানের লড়াইয়ে ফ্রান্সের মুখোমুখি হতে হবে তাঁদের। তবে টুচেল জানিয়ে দিয়েছেন, ২০২৮ সালের ইউরো কাপ পর্যন্ত তিনি ইংল্যান্ডের সঙ্গেই থাকছেন। যদিও এই হারের পর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম তাঁকে কতদিন স্বস্তিতে থাকতে দেয়, সেটাই এখন দেখার।

ফুটবল ইতিহাসে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ খরা একটি দীর্ঘ এবং বেদনাদায়ক অধ্যায়। ১৯৬৬ সালে একমাত্র বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে ইংল্যান্ডের জাতীয় দলের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা অভাব ছিল। বহুবার তারা টুর্নামেন্টের শেষ ষোলোর বা কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছিল, কিন্তু সেখান থেকে পরাজিত হয়েছে। এই পরাজয়ের পেছনে অনেকগুলো কারণ কাজ করে, যার মধ্যে রক্ষণাত্মক কৌশল, খেলার শেষ মুহূর্তে চাপের মধ্যে ভেঙে পড়া এবং কখনো কখনো ভাগ্যের অভাবও রয়েছে।

টুচেলের কৌশলগত সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইংল্যান্ডের কোচ হিসেবে তার দায়িত্ব গ্রহণের পর, টুচেলকে 'সুপার কোচ' হিসেবে অভিহিত করা হয়েছিল, যিনি খেলোয়াড়দের দক্ষতা এবং কৌশলগত চিন্তাভাবনার মাধ্যমে দলের উন্নতি ঘটাতে সক্ষম। তবে এই ম্যাচের পর, বিশেষ করে শেষের সাত মিনিটে যে কৌশল তিনি নিয়েছিলেন, সেটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, টুচেলের রক্ষণাত্মক কৌশলটি আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে কার্যকরী হতে পারে না। আর্জেন্টিনা, যা তাদের গতিশীল আক্রমণ এবং লিওনেল মেসির মতো তারকা খেলোয়াড়দের জন্য পরিচিত, তাদের বিরুদ্ধে রক্ষণাত্মক খেলা বিপজ্জনক হতে পারে। টুচেলের সিদ্ধান্তের ফলে ইংল্যান্ডের আক্রমণাত্মক শক্তি কমে যায় এবং আর্জেন্টিনার আক্রমণকে আরও সহজ করে দেয়।

অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের মনোবল এবং আত্মবিশ্বাসের অভাবও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গোল করার পর, তারা যেন নিজেদের মধ্যে অস্থিরতা অনুভব করছিল। এই পরিস্থিতিতে টুচেলের কৌশলগত পরিবর্তন তাদের আরও চাপের মধ্যে ফেলেছিল। খেলোয়াড়দের মধ্যে যে আস্থার অভাব দেখা দিয়েছিল, সেটি ম্যাচের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।

হ্যারি কেন এবং অন্যান্য খেলোয়াড়দের মন্তব্যও বিষয়টিকে স্পষ্ট করে। কেনের কথায়, শেষ ২০ মিনিটে রক্ষণ সামলে কাটানো দীর্ঘ সময় ছিল এবং এটি ইংল্যান্ডের জন্য একটি পরিচিত সমস্যা। তারা অতীতে বহুবার এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে তারা একটি গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তে হারতে হয়েছে।

এই পরাজয়ের পর, ইংল্যান্ডের ফুটবল সমর্থক এবং বিশ্লেষকদের মধ্যে হতাশা এবং ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা আশা করেছিল যে, এইবার ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ জিতবে এবং ৬০ বছরের খরা কাটাবে। কিন্তু টুচেলের কৌশল এবং খেলোয়াড়দের মনোবল এই আশা ভঙ্গ করেছে। সামনে ইউরো কাপ ২০২৮ রয়েছে, যেখানে ইংল্যান্ডকে নিজেদের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিতে হবে এবং নতুন করে প্রস্তুতি নিতে হবে।

অবশ্যই, টুচেলের অধীনে ইংল্যান্ডের ভবিষ্যৎ এখনও উজ্জ্বল। তিনি যদি তার কৌশলগত সিদ্ধান্তগুলো পুনর্বিবেচনা করেন এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে পারেন, তবে ইংল্যান্ড আবারও বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের শক্তি প্রমাণ করতে সক্ষম হবে। তবে এই পরাজয়ের পর তার উপর চাপ বাড়বে এবং সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে তাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।

বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে ইংল্যান্ডের পারফরম্যান্স সবসময়ই আলোচনা ও বিশ্লেষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। বিশেষ করে, যখন তারা দীর্ঘ সময় ধরে শিরোপা থেকে বঞ্চিত থাকে, তখন সেই চাপ আরও বেড়ে যায়। ইংল্যান্ডের ফুটবল ইতিহাসে ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ জয় একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়, কিন্তু এরপর থেকে তারা যতবার টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করেছে, ততবারই তাদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।

টুচেলের এই পরাজয়ের পর, ইংল্যান্ডের মিডিয়া এবং সমর্থকরা তার কৌশল ও সিদ্ধান্তের প্রতি আরও বেশি নজর দেবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, টুচেলকে তার কৌশলগত চিন্তাভাবনা পরিবর্তন করতে হবে এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে আস্থার অভাব দূর করতে হবে। যদি তিনি তা না পারেন, তাহলে ইংল্যান্ডের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

শেষ পর্যন্ত, ফুটবল একটি অপ্রত্যাশিত খেলা। এখানে যে কোনো মুহূর্তে কিছু পরিবর্তন হতে পারে। তাই টুচেল এবং ইংল্যান্ডের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, তারা নিজেদের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নেয় এবং সামনে এগিয়ে যায়। ২০২৮ সালের ইউরো কাপের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে এবং নতুন উদ্যমে মাঠে নামতে হবে।

Get More Updates

To learn more about the latest developments in Basketball, stay updated with our exclusive reports and analyses on AiLensNews.

Related News