হাইকোর্টের রায়ে হিজাব ইসলামের অপরিহার্য নয়: ছাত্রীর আবেদন খারিজ

ALN NEWS DESK
ALN NEWS DESK
Updated : Aug 25, 2026, 12:17 PM IST
4 min read
  • linkedin
  • twitter
  • facebook
  • instagram
  • whatsapp

প্রয়াগরাজে হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, হিজাব ইসলামের অপরিহার্য অংশ নয়। স্কুলের ড্রেস কোডে পরিবর্তন আনার অধিকার নেই।

প্রয়াগরাজ, ২৫ আগস্ট: পড়ুয়ারা চাইলেই নিজের ইচ্ছে মতো ড্রেস কোডে বদল আনতে পারে না। এই অধিকার তাঁদের নেই। এমনই রায় দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। স্কুলের নির্ধারিত ড্রেসের সঙ্গে হিজাব পরার অনুমতি দেওয়ার জন্য নির্দেশ চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল এক স্কুলছাত্রী। সেই মামলায় এমনই রায় দিয়েছে আদালত।

আবেদনকারী শহরের এক বেসরকারি স্কুলের পড়ুয়া। দশম শ্রেণিতে পাশ করার পরে একাদশে ওই স্কুলে পড়তে চায় সে। ওই পড়ুয়ার হয়ে আদালতে আবেদন করেছেন তার মা। যেখানে বলা হয়েছে, ইউনিফর্মের সঙ্গে ওই পড়ুয়াকে হিজাব পরার অনুমতি দেওয়ার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিক আদালত। আবেদনে আরও বলা হয়েছে, হিজাব ইসলামে অপরিহার্য অঙ্গ এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ওই ছাত্রী স্কুলে হিজাব পরে আসছে।

মামলার শুনানিতে বিচারপতি জে জে মুনির ও বিচারপতি ইন্দ্র শুক্লার ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, ‘আমরা আবেদনকারীর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ক্লাসের একাধিক ছবি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখেছি। ওই পড়ুয়া ছাড়া অন্য কোনো ছাত্রীকে মাথায় স্কার্ফ বা ওড়না পরতে দেখা যায়নি। এমনকি আবেদনকারী যে ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত, সেই সম্প্রদায়ের অন্য ছাত্রীও হিজাব পরে ছিল না।’

হিজাব ইসলামে অপরিহার্য, আবেদনকারীর এই বক্তব্যও খারিজ করে দিয়েছে আদালত। ডিভিশন বেঞ্চের সংযোজন, ‘আমাদের সর্বসম্মত অভিমত যে, মহিলাদের মাথায় স্কার্ফ বা হিজাব পরা ইসলাম বিশ্বাসের অপরিহার্য অংশ নয়।’

এই রায়ের প্রেক্ষিতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ড্রেস কোডের বিষয়টি এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্ন উঠে এসেছে। ভারতে, বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে, হিজাব পরিধান একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় চিহ্ন হিসেবে দেখা হয়। অনেকেই মনে করেন, এটি তাদের পরিচয়ের একটি অপরিহার্য অংশ। কিন্তু আদালতের এই রায় ধর্মীয় স্বাধীনতার ব্যাখ্যা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নীতিমালার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে।

ভারতের সংবিধানে ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার দেওয়া হয়েছে, তবে সেই অধিকার কতদূর পর্যন্ত সীমাবদ্ধ তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি তাদের নিজস্ব ড্রেস কোড স্থাপন করতে পারে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমতা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়তা করে। তবে, এই নীতিগুলি কখনও কখনও ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে পড়ে।

এদিকে, হিজাব নিয়ে বিতর্ক শুধু ভারতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এটি একটি আলোচিত বিষয়। পশ্চিমা দেশগুলিতে, বিশেষ করে ফ্রান্সে, হিজাব পরিধান নিষিদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর প্রশ্ন তুলে। অন্যদিকে, মুসলিম-majority দেশগুলিতে হিজাব পরিধানকে উৎসাহিত করা হয় এবং এটি অনেকের কাছে গর্বের বিষয়।

এই রায়ের পর, মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কিছু মানুষ আদালতের রায়ের সমালোচনা করেছেন, তাদের মতে, এটি ধর্মীয় স্বাধীনতার লঙ্ঘন। অন্যদিকে, কিছু মানুষ আদালতের রায়ের সমর্থন করেছেন, তাদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইউনিফর্মের নিয়ম মেনে চলা উচিত।

এছাড়া, শিক্ষাবিদদের মতে, এই রায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধর্মীয় পরিচয়ের গুরুত্ব এবং সামাজিক সমতা বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা শুরু করতে পারে। তারা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় বিষয়গুলো আলোচনা করা উচিত, যাতে শিক্ষার্থীরা একে অপরের সংস্কৃতি এবং বিশ্বাসকে বুঝতে পারে।

আদালতের এই রায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নীতির প্রতি সম্মান জানাতে এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবে। তবে, এটি মুসলিম ছাত্রদের মধ্যে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে, যা একটি সংবেদনশীল বিষয়।

এখন দেখার বিষয়, এই রায়ের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি কীভাবে তাদের ড্রেস কোড এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়ে নীতি গ্রহণ করে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়, যেখানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।

এই ঘটনা এবং রায়, ভবিষ্যতে আইনগত এবং সামাজিক বিতর্কের জন্ম দিতে পারে, যা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত অধিকারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করবে।

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় পোশাক পরিধানের বিষয়ে বিভিন্ন রায় এবং নীতিমালা রয়েছে। কিছু রাজ্যে, বিশেষ করে যেখানে মুসলিম জনসংখ্যা বেশি, সেখানে হিজাব পরিধানকে সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য মনে করা হয়। কিন্তু অন্যদিকে, কিছু রাজ্যে ধর্মীয় পোশাক পরিধানে কড়াকড়ি রয়েছে। ফলে, এই রায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে ধর্মীয় পোশাক পরিধানের বিষয়ে ভিন্নতা এবং বিভাজনকে আরও তীব্র করতে পারে।

এছাড়া, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধর্মীয় অনুভূতি এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়ের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা শুরু হতে পারে। বিশেষ করে, যখন দেশের মধ্যে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং পরিচয় নিয়ে বিতর্ক চলছে। এই রায় সেই বিতর্ককে আরও জোরালো করতে পারে এবং মুসলিম ছাত্রদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, আদালতের এই রায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত অধিকার এবং সামাজিক সমতার মধ্যে একটি জটিল সম্পর্ককে তুলে ধরেছে। এটি দেশের আইন এবং সমাজের মধ্যে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের গুরুত্ব এবং এর প্রভাবের উপর একটি নতুন আলোচনার সূচনা করতে পারে।

Get More Updates

To learn more about the latest developments in Islam, stay updated with our exclusive reports and analyses on AILensNews.

Related News