• Home
  • Politics
  • Government & Governance
  • বাংলায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধির জন্য ৯ সদস্যের কমিটি গঠন

অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে ৯ জনের কমিটি গঠন রাজ্যের, সদস্য তথাগত

ALN NEWS DESK
ALN NEWS DESK
Updated : Jul 12, 2026, 12:01 AM IST
4 min read
  • linkedin
  • twitter
  • facebook
  • instagram
  • whatsapp

বাংলায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করতে ৯ সদস্যের কমিটি গঠন করা হল। নেতৃত্ব দেবেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাই। বিস্তারিত পড়ুন।

কলকাতা, ১১ জুলাই: বাংলায় লাগু হবে ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি। এই বিধি বিভিন্ন ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক পটভূমিতে বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার এবং অন্যান্য পারিবারিক বিষয়গুলির জন্য একটি সাধারণ আইন প্রতিষ্ঠা করবে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা সমাজের বিভিন্ন অংশের মধ্যে আইনগত সমতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

বাংলার রাজ্য সরকার ইতোমধ্যে খসড়া বিল তৈরি করেছে এবং এই বিলের বিষয়বস্তু খতিয়ে দেখতে একটি কমিটি গঠন করার ঘোষণা করেছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই কমিটি ইউনিফর্ম সিভিল কোডের প্রভাব এবং এর বাস্তবায়ন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবে। কমিটির গঠন সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি সম্প্রতি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়েছে।

কমিটিতে ৯ জন সদস্য রয়েছেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল মেঘালয়ের প্রাক্তন রাজ্যপাল তথা বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা তথাগত রায়। তাঁর উপস্থিতি এই কমিটিকে রাজনৈতিক ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলছে। তথাগত রায় রাজনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন এবং তিনি বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে সরব থেকেছেন।

কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাই। বিচারপতি দেশাই ভারতের সুপ্রিম কোর্টে দীর্ঘকাল কাজ করেছেন এবং তিনি নারী অধিকারের বিষয়ে বিশেষভাবে পরিচিত। তাঁর নেতৃত্বে কমিটি অভিন্ন দেওয়ানি বিধির বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করবে এবং এই আইনটি সমাজে কীভাবে কাজ করবে সে সম্পর্কে সুপারিশ করবে।

কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন আইএএস অফিসার দুষ্যন্ত নারিয়ালা, রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব সংঘমিত্রা ঘোষ, অবসরপ্রাপ্ত আইএএস শত্রুঘ্ন সিংহ, বঙ্গবাসী কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপিকা রত্না ভট্টাচার্য, গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য গোপালচন্দ্র মিশ্র, কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী ওসমান গনি মল্লিক এবং বেঙ্গল সম্ভাগ-এর সহ সভাপতি নির্মাল্য ভট্টাচার্য।

এই কমিটি মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করবে: প্রথমত, তারা অভিন্ন দেওয়ানি বিধির খসড়ার বিষয়বস্তু বিশ্লেষণ করবে। দ্বিতীয়ত, তারা সমাজের বিভিন্ন অংশের মধ্যে আইনটির গ্রহণযোগ্যতা এবং প্রভাব নিয়ে আলোচনা করবে। এবং তৃতীয়ত, তারা সরকারের কাছে সুপারিশ করবে কিভাবে এই বিধি কার্যকরী করা যেতে পারে।

অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে আলোচনা ভারতে দীর্ঘদিন ধরে চলছে। ১৯৫৪ সালে প্রথমবার এই আইনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তা কার্যকর করা হয়নি। বর্তমানে, বিভিন্ন রাজ্যে ধর্মীয় ভিত্তিতে আলাদা আলাদা আইন কার্যকর রয়েছে, যা সমাজে বৈষম্য সৃষ্টি করে। এই কারণে ইউনিফর্ম সিভিল কোডের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে।

এখনকার পরিস্থিতিতে, যেখানে সমাজে বিভিন্ন ধর্ম, সংস্কৃতি এবং সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পর্কের জটিলতা বেড়ে চলেছে, সেখানে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি একটি সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি একদিকে যেমন আইনগত সমতা প্রতিষ্ঠা করবে, তেমনই অন্যদিকে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পর্ক উন্নত করবে।

অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর হলে, এটি কিভাবে সমাজের বিভিন্ন অংশের উপর প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে অনেকেই উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে, ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলির মধ্যে এটি কিভাবে গ্রহণযোগ্য হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি ধর্মীয় স্বাধীনতার উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

এই পদক্ষেপের ফলে রাজ্যের আইন ও বিচার ব্যবস্থায় একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। বিশেষ করে, নারীদের অধিকারের সুরক্ষায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। নারীদের জন্য বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ ও উত্তরাধিকার বিষয়ক আইনগুলির মধ্যে বৈষম্য দূর করা সম্ভব হবে।

কমিটি গঠন করা হলেও, এর কার্যক্রম এবং সুপারিশগুলি কতটা কার্যকর হবে, সেটি সময়ের সাথে সাথে দেখা যাবে। রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগের ফলে সমাজের বিভিন্ন স্তরে আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে, যা আগামী দিনে রাজ্যের আইন ও সংস্কৃতিতে প্রভাব ফেলবে।

অবশেষে, ইউনিফর্ম সিভিল কোডের বাস্তবায়ন নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তা কেবল আইনগত বিষয় নয়, বরং এটি একটি সামাজিক আন্দোলনেরও সূচনা করতে পারে। এই বিষয়ে রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত, সমাজের বিভিন্ন অংশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি ও আইনগত সমতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়ক হতে পারে।

অভিন্ন দেওয়ানি বিধির প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনা করার সময়, সমাজে বিদ্যমান ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে গুরুত্ব দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এটি সমাজের বিভিন্ন অংশের মধ্যে সমঝোতা এবং পারস্পরিক সম্মান প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করবে। বিশেষ করে, যেসব সম্প্রদায় ঐতিহ্যগতভাবে আইনগতভাবে অবহেলিত বা বৈষম্যের শিকার, তাদের জন্য এই বিধি একটি আশার আলো হতে পারে।

বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে, কারণ তারা মনে করেন যে এই বিধি তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস এবং প্রথাকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে। এই কারণে, কমিটির কাজ হবে ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং আইনগত সমতার মধ্যে একটি সঠিক ভারসাম্য স্থাপন করা।

কমিটির সদস্যদের মধ্যে বিভিন্ন পেশার পেশাদাররা আছেন, যা এই প্রক্রিয়াকে আরও সমৃদ্ধ করবে। তারা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিশ্লেষণ করবেন এবং সমাজের বিভিন্ন অংশের মতামত সংগ্রহ করবেন। এটি নিশ্চিত করবে যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বাস্তবায়নের সময় সমাজের সর্বস্তরের মানুষের স্বার্থ ও অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

রাজ্যের আইন ও বিচার ব্যবস্থায় এই পরিবর্তনগুলি কিভাবে কার্যকর হবে, তা নিয়ে সরকার এবং কমিটির মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের সদিচ্ছা এবং কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হবে। এটি নিশ্চিত করতে হবে যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি শুধুমাত্র একটি কাগজে লেখা আইন নয়, বরং এটি সমাজে বাস্তবিকভাবে কার্যকর হবে।

অভিন্ন দেওয়ানি বিধির প্রস্তাবনার ফলে রাজ্যের আইনগত কাঠামোতে একটি নতুন পরিবর্তন আসতে পারে, যা সমাজের বিভিন্ন অংশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি ঘটাতে পারে। এটি সমাজের জন্য একটি ইতিবাচক পরিবর্তন হতে পারে, যদি এর বাস্তবায়ন সঠিকভাবে করা যায় এবং সকল সম্প্রদায়ের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অবশেষে, ইউনিফর্ম সিভিল কোডের বাস্তবায়ন একটি জটিল প্রক্রিয়া, যা সময় এবং প্রচেষ্টা উভয়ই দাবি করবে। তবে, যদি এটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে এটি একটি নতুন যুগের সূচনা করতে পারে, যেখানে আইনগত সমতা এবং সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে।

Get More Updates

To learn more about the latest developments in Government & Governance, stay updated with our exclusive reports and analyses on AiLensNews.

Related News