বর্ধমানে বিজেপির নেতাদের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ, প্রতিবাদ করলেই হামলা!

ALN NEWS DESK
ALN NEWS DESK
Updated : Jul 23, 2026, 06:16 AM IST
4 min read
  • linkedin
  • twitter
  • facebook
  • instagram
  • whatsapp

বর্ধমানে বিজেপির নেতাদের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ উঠছে। প্রতিবাদ করলেই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে। বিস্তারিত পড়ুন।

সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: ‘তোলাবাজি চলবে না!’ ভোট প্রচারে বঙ্গে এসে গর্জে উঠেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বয়ং। কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পর দু’মাস কাটতে না কাটতেই দিকে দিকে বিজেপির নেতাদের বিরুদ্ধেই উঠতে শুরু করেছে তোলাবাজির অভিযোগ। ইতিমধ্যে রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের মন্ত্রী থেকে বিধায়ক সকলে এব্যাপারে সতর্ক করেছেন। কিন্তু বুধবার বর্ধমানে রীতিমতো সাংবাদিক বৈঠক করে দলের নেতাদের তোলাবাজির বিরুদ্ধে একজোটে সরব হলেন বিজেপিরই কয়েকজন নেতা-কর্মী। তাঁদের অভিযোগ, শুধু বালিখাদ নয়, বর্ধমান শহরের তেলিপুকুর এলাকায় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পর্যন্ত তোলাবাজি চলছে। তোলাবাজির প্রতিবাদ করায় বিজেপিরই এক নেতার বাড়িতে ভাঙচুর করা হয়েছে। অথচ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া তো দূরঅস্ত, ওই নেতাকেই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ওই নেতা-কর্মীদের সাফ বক্তব্য—তোলাবাজির বিষয়ে নেতৃত্বকে জানিয়েও লাভ হচ্ছে না। উলটে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাকেই সমর্থন করছেন শীর্ষ নেতারা।

বর্ধমান শহরের আদি বিজেপি নেতা মনোজকুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘যা চলছে সেটা বিজেপির সংস্কৃতি নয়। ৪ নম্বর মণ্ডলের এক নেতার নেতৃত্বে তোলাবাজি চলছে। বালিখাদ থেকে তোলা তুলছে। আবার লোকজনদের ডেকে নিয়ে এসে বলছে, ১০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হবে। কারও কারও কাছে থেকে আরও বেশি টাকা দাবি করছে। কোটি কোটি টাকা তোলা হচ্ছে। প্রতিবাদ করেছি বলে আমার বাড়িতে ভাঙচুর করা হয়েছে। এসব নেতার মাথার উপর নিশ্চয়ই কারও হাত রয়েছে। তাছাড়া তো এসব চলতে পারে না।’ দলের নেতাদের এমন কাজে তিনি যারপরনাই হতাশ। তাঁর সাফ কথা, ‘বিজেপি করতে গিয়ে জেল খেটেছি। তৃণমূলের আমলে জরিমানা দিতে হয়েছে। বাড়িতে হামলা হয়েছে। রাজ্যে সরকার বদলের পরেও একই অবস্থা চলছে। ভাবতে অবাক লাগে শহরের একটি পানশালায় দলের প্রশিক্ষণ শিবির করা হচ্ছে। আমি ৪ নম্বর মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। প্রতিবাদ করায় আমাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।’ মনোজবাবুর গলায় আক্ষেপের সুর, ‘ভেবেছিলাম বিজেপি এলে অবস্থার পরিবর্তন হবে। কিন্তু, এখন কেউ কেউ শেখ শাহাজাহান হতে চাইছে।’ অপর এক নেতা বুদ্ধদেব দাসের অভিযোগ, ‘প্রতিবাদ করায় দলের নেতা আমাকে হুমকি দিচ্ছে। যারা তোলাবাজি করছে, তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।’

কয়েকদিন আগে রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, দুর্গাপুরের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়, পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক জিতেন্দ্র তেওয়ারি তোলাবাজি নিয়ে দলীয় কর্মীদের সতর্ক করেছিলেন। জিতেন্দ্র তো একথাও বলেছেন, ‘১৫ বছর শাসন করার পর তৃণমূল নেতারা যেমন গুন্ডা হয়েছিল, দু’মাসের মধ্যে আমাদের লোকজন তার থেকেও বড়ো গুন্ডা হওয়ার চেষ্টা করছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে আগামী দিনে ডিম থেরাপি ব্যুমেরাং হয়ে আসবে।’ সেকথা যে অক্ষরে অক্ষরে সত্য, তার প্রমাণ মিলল এদিন। এপ্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানতে যোগাযোগ করা হলেও বিজেপির জেলা সভাপতি অভিজিৎ তা ফোন ধরেননি। তবে দলের এক নেতা জানিয়েছেন, যাঁরা সাংবাদিক বৈঠক করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। একজনকে সাময়িক বরখাস্তও করা হয়েছে।

বিজেপির নেতাদের মধ্যে এই অভিযোগগুলি সামনে আসার পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেস এবং কংগ্রেসের নেতারা এই পরিস্থিতিকে নিজেদের পক্ষে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন। তৃণমূল নেতা দেবু টুডু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিজেপির তোলাবাজি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। আমাদের এক নেতাকে ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছিল। তিনি দিতে না পারায় আত্মহত্যা করেছেন।’ এই পরিবর্তনই কি মানুষ চেয়েছিল? প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস নেতা গৌরব সমাদ্দার।

রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশেষ করে বর্ধমানের মতো এলাকাগুলিতে বিজেপির উত্থান এবং তার পরবর্তী কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিজেপি যখন রাজ্যে ক্ষমতায় আসে, তখন তাদের লক্ষ্য ছিল উন্নয়ন এবং স্বচ্ছতা। কিন্তু, এখন যে অভিযোগগুলি উঠছে, তা দলের ভাবমূর্তির উপর প্রভাব ফেলতে পারে। দলীয় নেতাদের মধ্যে এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং অভিযোগগুলি যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে বিজেপির কার্যক্রম এবং নীতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে।

বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের উচিত এই অভিযোগগুলির প্রতি গুরুত্ব দেওয়া এবং দ্রুত পদক্ষেপ করা। যদি দলের নেতাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি সত্যি হয়, তবে তা দলের শৃঙ্খলা এবং স্বচ্ছতার জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। তৃণমূল এবং কংগ্রেসের নেতারা এই পরিস্থিতিকে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন, যা বিজেপির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

এছাড়া, রাজ্যের অন্যান্য জায়গাতেও তোলাবাজির অভিযোগ উঠছে। বিজেপির নেতাদের মধ্যে এই অভিযোগগুলি যদি সমাধান না হয়, তবে তা আগামী নির্বাচনে দলের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে এবং এই পরিস্থিতিতে বিজেপির জন্য একটি সুস্পষ্ট নীতি এবং পরিকল্পনা প্রয়োজন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিজেপির নেতাদের মধ্যে এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং তোলাবাজির অভিযোগগুলি দলের ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় সংকট তৈরি করতে পারে। যদি দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই সমস্যা সমাধানে কার্যকরী পদক্ষেপ না নেয়, তবে তা দলের কার্যক্রম এবং ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিশেষ করে বর্ধমানের এই ঘটনা সমগ্র রাজ্যে বিজেপির কার্যক্রম এবং তার নীতির উপর একটি নতুন আলো ফেলে। দলের নেতাদের উচিত এই অভিযোগগুলির প্রতি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করা, যাতে আগামী দিনে দলের ভাবমূর্তি রক্ষা করা যায় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তাদের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।

এখন দেখার বিষয় হল, বিজেপি এই অভিযোগগুলির প্রতি কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায় এবং তারা কিভাবে নিজেদের শৃঙ্খলা এবং স্বচ্ছতা রক্ষা করে। রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে এবং এই পরিস্থিতিতে বিজেপির জন্য একটি সুস্পষ্ট নীতি এবং পরিকল্পনা প্রয়োজন।

Get More Updates

To learn more about the latest developments in Political Controversies, stay updated with our exclusive reports and analyses on AiLensNews.

Related News