বস্তারের অবুঝমাড়ে কফি চাষের উদ্যোগ শুরু হয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।
কলকাতা, ভারত ১২ জুল, ২০২৬ ALN: সুতপা গুহ, অবুঝমাড়: ছত্তিশগড়, বস্তার, অবুঝমাড়। এই নামগুলো উচ্চারিত হলেই এতদিন মনে পড়ত মাওবাদী আতঙ্ক, দুর্গম জঙ্গলের কথা। গত কয়েক দশক ধরে এই অঞ্চলে মাওবাদী আন্দোলনের প্রভাব ছিল ব্যাপক। মাওবাদীরা এই অঞ্চলে নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করতে বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে আসছিল, যা স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল। তবে, পরিস্থিতি এখন পরিবর্তিত হচ্ছে। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে ‘মাওবাদীমুক্ত ভারত’ ঘোষণা করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই অপারেশনেই ধীরে ধীরে পরিচয় বদলাতে শুরু করে বস্তার, অবুঝমাড়ের।
একসময়ের ‘মাওবাদী দুর্গ’ অবুঝমাড় এখন কফি চাষকে সামনে রেখে উন্নয়নের নতুন পথে হাঁটছে। কফি বোর্ডের বৈজ্ঞানিক সমীক্ষায় উঠে এসেছে, অবুঝমাড়ের জলবায়ু, বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ, তাপমাত্রা, মাটির ধরন এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা—সবই কফি চাষের অনুকূল। প্রবলভাবে। এই সম্ভাবনাকে বাস্তব রূপ দিতে উদ্যোগ নিয়েছে ছত্তিশগড়। প্রশাসনের আশা, এই প্রকল্প সফল হলে শুধু এলাকার অর্থনীতিই শক্তিশালী হবে তা নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে পিছিয়ে থাকা আদিবাসী ও গ্রামীণ পরিবারের জন্য স্থায়ী কর্মসংস্থান এবং আয়ের নয়া দিগন্ত খুলে দেবে।
বস্তারের জেলা পঞ্চায়েতের সিইও আকাঙ্খা খালকো জানিয়েছেন, ‘সম্প্রতি মাওবাদী মুক্ত হয়েছে অবুঝমাড়। ইতিমধ্যেই কফি বোর্ড অব ইন্ডিয়ার বিশেষজ্ঞরা অবুঝমাড়ের বিভিন্ন অঞ্চল পরিদর্শন করে জানিয়েছেন, এই অঞ্চল কফি চাষের উপযুক্ত। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল স্থানীয় গ্রামবাসীদের স্থায়ী আয়ের উৎস তৈরি করা।’ এই প্রক্রিয়ায় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে, যা তাদের উন্নয়ন ও স্বনির্ভরতার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
অবুঝমাড়ের দুর্গম পাহাড়ি জনপদের অধিকাংশটাই নারায়ণপুর জেলার অন্তর্গত। কফি চাষের প্রাথমিক প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে সেখানে। কফি বোর্ড অব ইন্ডিয়ার বিশেষজ্ঞ ও আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে কুতুল, কাচ্চাপাল, কোডলিয়ার, ইরকভাট্টি এবং তোকে-সহ অবুঝমাড়ের একাধিক দুর্গম গ্রাম সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন জেলাশাসক নম্রতা জৈন। সেই প্রাথমিক সমীক্ষায় বিশেষজ্ঞরা জানিয়ে দিয়েছেন, এই এলাকার জলবায়ু এবং ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য কফি চাষের জন্য উপযুক্ত।
ছত্তিশগড়ের কৃষিমন্ত্রী রামবিচার নেতাম ‘বর্তমান’-কে বলেন, ‘মাওবাদী আতঙ্ক অতীত। বস্তারের অবুঝমাড়ের স্থানীয়রা এখন স্বাধীনভাবে বাঁচতে শিখছেন। এর সম্পূর্ণ কৃতিত্ব কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। অবুঝমাড়ের জনগণের উন্নয়নে সেখানে কফি চাষের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রশাসন ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে।’ এই উন্নয়নমূলক প্রকল্পটি কেবল অর্থনৈতিক উন্নয়নই নয়, বরং সামাজিক পরিবর্তনেরও সূচনা করবে।
প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কফি বোর্ডের সুপারিশে ওড়িশার কোরাপুটে বিশেষ প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হবে কৃষিদপ্তরের আধিকারিকদের। সেখানে তাঁরা কফি উৎপাদনের আধুনিক পদ্ধতি, চারার পরিচর্যা, রোগ-পোকার দমন, ফলন বৃদ্ধির কৌশল সম্পর্কে প্রশিক্ষণ নেবেন। পরে তা স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে অবুঝমাড়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কফি চাষের ভিত গড়ে ওঠে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কফি গাছ রোপণের প্রায় চার বছর পর থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়। এই প্রকল্পে স্থানীয় স্বনির্ভর গোষ্ঠী এবং গ্রামবাসীদের সরাসরি যুক্ত করা হবে। এতে প্রতিটি পরিবারের অন্তত একজন সদস্যের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
নতুন এই প্রকল্পের মাধ্যমে অবুঝমাড়ের জনগণের জীবনযাত্রায় একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। কফি চাষের মাধ্যমে কৃষির আধুনিকীকরণ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হবে। এই অঞ্চলের জনসংখ্যার বেশিরভাগই আদিবাসী সম্প্রদায়ের সদস্য, যারা দীর্ঘকাল ধরে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়ে ছিলেন। তাঁদের জন্য এই প্রকল্পটি একটি নতুন আশার আলো নিয়ে আসবে।
জানা গেছে, কফি চাষের জন্য উপযুক্ত মাটি এবং আবহাওয়ার কারণে এই অঞ্চলে কফি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। কফির চাষের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি এবং প্রশিক্ষণ পাওয়ার মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকরা তাদের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে সক্ষম হবেন। এই প্রকল্পটি কেবল কৃষকদের জন্যই নয়, বরং পুরো এলাকার জন্য একটি অর্থনৈতিক বিপ্লবের সূচনা করতে পারে।
অবুঝমাড়ের কফি চাষের এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার যে দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছে, তা দেশের অন্যান্য পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের জন্যও একটি উদাহরণ হতে পারে। কফি চাষের পাশাপাশি অন্যান্য কৃষি পণ্য উৎপাদনের উপরও গুরুত্ব দেওয়া হলে, অঞ্চলটির সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব হবে।
এছাড়া, এই প্রকল্পের ফলে স্থানীয় বাজারের উন্নয়ন এবং কফির আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সম্ভাবনাও তৈরি হবে। কফির উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে স্থানীয় কৃষকদের জন্য নতুন বাজারের সুযোগ তৈরি হবে, যা তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি ঘটাবে।
নতুন এই উদ্যোগের ফলে অবুঝমাড়ের জনগণ কেবল মাওবাদী আতঙ্কের ছায়া থেকে মুক্তি পাবে না, বরং একটি স্বনির্ভর এবং উন্নত জীবনযাপনের সুযোগও পাবে। কফির সুবাসে সেই অবুঝমাড়ে রচিত হতে চলেছে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও নতুন স্বপ্নের ইতিহাস।
এখন, অবুঝমাড়ের এই পরিবর্তন কেবল একটি অর্থনৈতিক উদ্যোগই নয়, বরং এটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দীর্ঘদিন ধরে মাওবাদী কার্যকলাপের কারণে এই অঞ্চলের জনগণ যে ভীতির মধ্যে জীবনযাপন করছিল, তা ধীরে ধীরে দূর হচ্ছে। এই পরিবর্তন স্থানীয় জনগণের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের জন্ম দেবে এবং তারা তাদের জীবনযাত্রাকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।
অবুঝমাড়ের কফি চাষ প্রকল্পের ফলে স্থানীয় জনগণের মধ্যে শিক্ষা ও সচেতনতারও বৃদ্ধি ঘটবে। কফি চাষের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ পাওয়ার মাধ্যমে তারা আধুনিক কৃষি পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত হবে। এতে তাদের কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি উন্নত জীবনযাপন করার সুযোগ তৈরি হবে।
অবুঝমাড়ের এই প্রকল্পের সফলতা অন্যান্য অঞ্চলের জন্য একটি উদাহরণ হতে পারে। যেখানে মাওবাদী কার্যকলাপের কারণে উন্নয়ন ব্যাহত হয়েছে, সেখানে এই ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে সেখানকার জনগণের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা সম্ভব।
এছাড়া, কফি চাষের মাধ্যমে অবুঝমাড়ের কৃষকরা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করতে সক্ষম হবে। এতে তাদের উৎপাদিত কফির জন্য নতুন বাজারের সুযোগ তৈরি হবে, যা তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি ঘটাবে।
অবুঝমাড়ের এই কফি চাষ প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার যে দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছে, তা দেশের অন্যান্য পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের জন্যও একটি উদাহরণ হতে পারে। কফি চাষের পাশাপাশি অন্যান্য কৃষি পণ্য উৎপাদনের উপরও গুরুত্ব দেওয়া হলে, অঞ্চলটির সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব হবে।
অবুঝমাড়ের এই কফি চাষের উদ্যোগের ফলে স্থানীয় বাজারের উন্নয়ন এবং কফির আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সম্ভাবনাও তৈরি হবে। কফির উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে স্থানীয় কৃষকদের জন্য নতুন বাজারের সুযোগ তৈরি হবে, যা তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি ঘটাবে।
নতুন এই উদ্যোগের ফলে অবুঝমাড়ের জনগণ কেবল মাওবাদী আতঙ্কের ছায়া থেকে মুক্তি পাবে না, বরং একটি স্বনির্ভর এবং উন্নত জীবনযাপনের সুযোগও পাবে। কফির সুবাসে সেই অবুঝমাড়ে রচিত হতে চলেছে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও নতুন স্বপ্নের ইতিহাস।
To learn more about the latest developments in Community Stories, stay updated with our exclusive reports and analyses on AiLensNews.