• Home
  • News
  • Crime & Law
  • কলকাতা পুলিশের অভিযানে টাটা ক্যাপিটাল জালিয়াতি ফাঁস

২৫ হাজার টাকার এক সামান্য সূত্র, আর তাতেই ওলটপালট কলকাতার আন্ডারগ্রাউন্ড সাইবার দুনিয়া!

ALN NEWS DESK
ALN NEWS DESK
Updated : Jul 11, 2026, 10:33 PM IST
5 min read
  • linkedin
  • twitter
  • facebook
  • instagram
  • whatsapp

টাটা ক্যাপিটালের নাম ভাঙিয়ে কম সুদে লোন দেওয়ার টোপ দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এক চক্রের পর্দাফাঁস করল কলকাতা পুলিশ।

আজকাল ওয়েবডেস্ক: টাটা ক্যাপিটালের নাম ভাঙিয়ে কম সুদে লোন দেওয়ার টোপ দিয়ে সাধারণ মানুষের থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এক বিরাট চক্রের পর্দাফাঁস করল কলকাতা পুলিশ। মাত্র ২৫ হাজার ৫০০ টাকা খোয়ানো এক মহিলার অভিযোগের তদন্তে নেমে পুলিশ শেষ পর্যন্ত হদিস পেল শহরের বুকে চলা দুটি ভুয়ো কল সেন্টারের। পোর্ট ডিভিশনের সাইবার সেল ও মেটিয়াবুরুজ থানার যৌথ উদ্যোগে গত ৯ জুলাই বউবাজার এলাকার দুটি গোপন ডেরায় অতর্কিতে অভিযান চালানো হয়। মালাঙ্গা লেন এবং বিবি গাঙ্গুলি স্ট্রিটের এই দুটি ভুয়ো কল সেন্টার থেকে হাতেনাতে ৯ জন প্রতারককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ধৃতদের জেরা করে পাটুলি এলাকা থেকে এই চক্রের আরও এক সহযোগীকে জালে তোলা হয়। সব মিলিয়ে এই কোটি টাকার লোন জালিয়াতি কাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ৩ জন মহিলাসহ মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এই ঘটনায় কলকাতা পুলিশের সাইবার সেল এবং মেটিয়াবুরুজ থানার যৌথ অভিযান একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য পুলিশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং তদন্তের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে, এই ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার অপরাধীদের জন্য কতটা সুবিধাজনক হয়ে উঠছে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তদন্তে জানা গেছে, ধৃতরা হলো হাওড়ার রানা বর্মন ও দীপ রায় চৌধুরী, নদীয়ার অংশুমান দে ও রাজু দত্ত, কলকাতার প্রশান্ত হাজরা, সুধীর মাহাতো এবং নিমতার রণি মণ্ডল। লোন দেওয়ার নাম করে টোপ ফেলতে তারা যে শুধু পুরুষদেরই কাজে লাগিয়েছিল তা নয়, এই চক্রে পিঙ্কি সাহা, সঞ্চিতা মণ্ডল ও অঙ্কিতা সাহার মতো তরুণীদেরও লোন এজেন্ট সাজিয়ে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। এই ধরনের কৌশল প্রয়োগ করে তারা সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা অর্জন করার চেষ্টা করেছিল, যা তাদের প্রতারণার জালে আটকে পড়া মানুষদের জন্য আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল।

ধৃতদের কাছ থেকে ৪৮টি কিপ্যাড মোবাইল, ল্যাপটপ, একাধিক সিম কার্ড, জালিয়াতির স্ক্রিপ্ট এবং টাটা ক্যাপিটালের নামে তৈরি ভুয়ো রাবার স্ট্যাম্প উদ্ধার হয়েছে। প্রতারণার জাল এতটাই নিখুঁত ছিল যে, জাল নথিপত্র ও ডিমান্ড ড্রাফট দেখিয়ে তারা সহজেই মানুষের বিশ্বাস অর্জন করত। তারা গ্রাহকদের বোঝাতো যে, তাদের লোনের আবেদন খুব দ্রুত কার্যকর হবে, তবে এর জন্য কিছু প্রাথমিক ফি দিতে হবে। পরে ক্রমাগত বিভিন্ন অজুহাতে টাকা চাইত। পুলিশ জানিয়েছে, চক্রটি এতটাই বেপরোয়া ছিল যে, একজন গ্রাহকের কাছ থেকেই আলাদা আলাদা অজুহাতে ২০ বার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এই ধরনের প্রতারণার ঘটনা নতুন নয়, তবে কলকাতার মতো শহরে এর বিস্তার এবং প্রযুক্তির ব্যবহার নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সাইবার অপরাধীরা সাধারণ মানুষের আতঙ্ক হয়ে উঠেছে, কারণ তারা প্রায়শই তাদের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে দুর্বল এবং অসচেতন ব্যক্তিদের বেছে নেয়। এই পরিস্থিতিতে, সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং সাইবার নিরাপত্তার বিষয়ে শিক্ষা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে।

ধৃতদের বিরুদ্ধে মেটিয়াবুরুজ ও বউবাজার থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান কুনাল আগারওয়াল জানিয়েছেন, সাইবার সেলের টেকনিক্যাল টিমের সাহায্যে নিখুঁত লোকেশন ট্র্যাক করে এই সাফল্য মিলেছে। তবে জালিয়াতির জাল যে আরও গভীরে ছড়ানো, তা স্পষ্ট। এই চক্রের পেছনে অন্য কোনো রাজ্যের বড়সড় যোগসূত্র রয়েছে কিনা এবং দলের বাকি পান্ডারা কোথায় লুকিয়ে আছে, তা জানতে তদন্ত জারি রেখেছে পুলিশ।

এছাড়া, এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসন বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। সাইবার নিরাপত্তার জন্য বিশেষ কর্মশালা আয়োজন করা হচ্ছে, যেখানে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং প্রশিক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাইবার ক্রাইমের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে সাধারণ মানুষের সচেতনতা এবং সহযোগিতা অপরিহার্য।

এই ধরনের প্রতারণার কাহিনী কেবল কলকাতা শহরেই সীমাবদ্ধ নয়। সারা দেশে সাইবার অপরাধের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, এবং প্রতিদিন নতুন নতুন কৌশল উদ্ভাবন করছে অপরাধীরা। ফলে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য নতুন প্রযুক্তি এবং কৌশল প্রয়োগের পাশাপাশি, জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এভাবে, কলকাতা পুলিশের এই অভিযান সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা অন্যান্য শহরগুলোর জন্যও একটি উদাহরণ হতে পারে। সাইবার অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি, জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করাও অপরিহার্য। এই পরিস্থিতিতে, সাইবার নিরাপত্তার বিষয়ে শিক্ষা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে, ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধের সংখ্যা কমানো সম্ভব হবে।

সাইবার অপরাধের বিস্তার এবং এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্কের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাইবার অপরাধীরা সাধারণত প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণ করে এবং তাদের কৌশলগুলি ক্রমবর্ধমানভাবে উন্নত হচ্ছে। ফলে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে সহযোগিতা অপরিহার্য হয়ে উঠছে। সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য কেবল প্রযুক্তিগত উন্নয়নই নয়, বরং সচেতনতা এবং শিক্ষা বৃদ্ধিও অত্যন্ত জরুরি।

কলকাতার এই সাইবার অপরাধের কাহিনী একটি বৃহত্তর সমস্যা এবং এর সমাধানের জন্য একাধিক স্তরে পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। সরকারের পাশাপাশি, বিভিন্ন সংস্থা এবং প্রতিষ্ঠানগুলিকে একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে যাতে সাইবার অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যায়। সাইবার নিরাপত্তার জন্য বিশেষ কর্মশালা, সেমিনার এবং সচেতনতা প্রচারাভিযানের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে সাইবার নিরাপত্তার বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সাধারণ মানুষের মধ্যে সাইবার নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে, তারা নিজেকে সাইবার অপরাধীদের হাত থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হবে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে তথ্য প্রচার করা যেতে পারে, যেমন সামাজিক মিডিয়া, টেলিভিশন, রেডিও এবং সংবাদপত্র। সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন, যেখানে সরকার, পুলিশ এবং সাধারণ জনগণ একসাথে কাজ করবে।

এই ধরনের প্রতারণার ঘটনা কেবল কলকাতায় নয়, সারা দেশে ঘটছে, যা একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুতরাং, এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়ন অপরিহার্য। সাইবার নিরাপত্তার বিষয়ে শিক্ষার পাশাপাশি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন, যাতে তারা এই ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারে।

Get More Updates

To learn more about the latest developments in Crime & Law, stay updated with our exclusive reports and analyses on AiLensNews.

Related News