বর্ধমানে জঙ্গি হামিম মণ্ডল গ্রেপ্তার, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর গতিবিধির উপর নজর

ALN NEWS DESK
ALN NEWS DESK
Updated : Aug 1, 2026, 06:17 AM IST
5 min read
  • linkedin
  • twitter
  • facebook
  • instagram
  • whatsapp

বর্ধমানে জঙ্গি হামিম মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করেছে এসটিএফ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর গতিবিধির উপর নজর রাখছিল সে। বিস্তারিত পড়ুন।

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ২০১৪ সালের খাগড়াগড় কাণ্ডের স্মৃতি বঙ্গবাসীর মন থেকে এখনও মুছে যায়নি। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার খাগড়াগড়ের ঘটনায়, যেখানে একটি বাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটেছিল, সেখান থেকে পুলিশ বিপুল পরিমাণে বিস্ফোরক ও জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করেছিল। এই ঘটনার প্রভাব এখনও রাজ্যবাসীর মনে আছে, কারণ এটি বাংলাদেশের জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে ভারতের সীমান্তবর্তী অঞ্চলের সংযোগকে তুলে ধরেছিল। সেই ঘটনার ১২ বছর পর ফের জঙ্গিযোগে নাম জড়াল বর্ধমানের। বৃহস্পতিবার বর্ধমানের রেনেসাঁ উপনগরীতে অভিযান চালিয়ে জঙ্গি সন্দেহে হামিম মণ্ডল নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে বেঙ্গল এসটিএফ। সে কুখ্যাত পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন জয়েশ-ই-মহম্মদের সক্রিয় সদস্য বলেই অভিযোগ।

গোটা রাজ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য রাজ্য পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) জঙ্গি কার্যকলাপের উপর নজর রাখছে। হামিম মণ্ডলকে গ্রেপ্তারের পর, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে এই ধরনের কার্যকলাপের পিছনে আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের হাত রয়েছে। হামিমের গ্রেপ্তারি এই সংগঠনের কার্যকলাপের একটি অংশ, যা ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য একটি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

এসটিএফ সূত্রে খবর, পাকিস্তানি জঙ্গি শাহজাদ ভাট্টি ও লস্করের সাজ্জাদ গুল ঘনিষ্ঠ হামিম। বর্ধমানে বসেই সে নতুন একটি জঙ্গি মডিউল তৈরির কাজ করছিল। ধৃত হামিমের মূল কাজ ছিল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সহ রাজ্যের কয়েকজন মন্ত্রী এবং জনপ্রতিনিধির গতিবিধির উপর নজর রাখা। সেই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য একটি অ্যাপের মাধ্যমে পাঠানো হত পাকিস্তানে। সেখান থেকে যেমন নির্দেশ আসত, হামিম সেইমতো কাজ করত। এটি একটি ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে, যেখানে রাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্বের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অর্পিতা নামে ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা এক সুন্দরী বাঙালি তরুণীকে হানিট্র্যাপ হিসাবেও ব্যবহার করছিল সে। চলতি মাসেই হামিম হাওড়ায় বড়ো একটি ‘অপারেশনে’র টার্গেট নিয়েছিল। টার্গেট ছিল ওই জেলার বাসিন্দা রাজ্যের এক মন্ত্রী ও তাঁর এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। দু’জনকেই খুন করার ছক কষেছিল ওই সন্দেহভাজন জঙ্গি। কিন্তু, তার আগেই সে এসটিএফের জালে ধরা পড়ে। এই ধরনের পরিকল্পনা যে কতটা বিপজ্জনক, তা স্পষ্ট। হামিমের গ্রেপ্তারির মাধ্যমে যে অপরাধী নেটওয়ার্কের একটি অংশ ধরা পড়েছে, তা রাজ্যের নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য একটি বড় সাফল্য।

ধৃতের কাছ থেকে দু’টি মোবাইল সহ বেশ কিছু ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে ১৪ দিনের হেপাজতে নিয়ে জেরা শুরু করেছে এসটিএফ। পরে হামিমকে তুলে দেওয়া হতে পারে এনআইএর হাতে। এনআইএ বা জাতীয় তদন্ত সংস্থা দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত জঙ্গি কার্যকলাপের তদন্ত করে এবং তাদের কাছে হামিমের তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

গোয়েন্দা সূত্রে খবর, তিনমাস আগেই জাতীয় সড়কের পাশে রেনেসাঁয় ১০ হাজার টাকা দিয়ে বাড়ি ভাড়া নিয়েছিলেন হামিমের বাবা। তাঁদের আদি বাড়ি মন্তেশ্বরের কুসুমগ্রামে। যদিও গোটা পরিবার থাকত হাওড়ার পিলখানায়। ২৪ বছর বয়সি হামিমের জন্মও হয়েছে সেখানে। উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর সে কলেজে ভরতি হয়েছিল। কিন্তু, তারপর আর পড়াশোনা করেনি। এটি একটি উদ্বেগজনক বিষয়, কারণ যুবকদের মধ্যে জঙ্গি কার্যকলাপে যুক্ত হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে, যা সমাজের জন্য একটি বড় সংকট।

বাবা হাওড়ায় ‘ডায়োগ্রাফ’ অর্থাৎ বারকোড তৈরির কাজ করতেন। হামিমও মাঝেমধ্যে তাঁকে সাহায্য করত। এদিন হামিমের এক আত্মীয় বলেন, ‘অনেকদিন ধরেই ওর হাবেভাবে সন্দেহ হত। সব সময় মোবাইলে চ্যাট করত। কারও সঙ্গে তেমন কথা বলত না। ছেলে খারাপ কোনো কাজের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে বলে অনুমান করেছিল হামিমের বাবাও। সেই কারণেই তারা হাওড়া থেকে বর্ধমানে এসে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করে।’

এসটিএফের দাবি, সোশ্যাল মিডিয়ার একাধিক গ্রুপের মাধ্যমে পাকিস্তানি জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত হামিম। পাকিস্তান থেকে তার কাছে টাকা আসত কি না, সেটা গোয়েন্দারা তদন্ত করে দেখছেন। হামিমের সঙ্গে যে জঙ্গি নেটওয়ার্কের সম্পর্ক ছিল, তা রাজ্যের জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ। এসটিএফের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ভাট্টি ও গুলের সঙ্গে হামিমের যোগাযোগ ছিল। এরাজ্যে কয়েকটি অপারেশনের পর পাকিস্তানেও যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল সে। এই ধরনের আন্তর্জাতিক জঙ্গি কার্যকলাপের সাথে যুক্ত হওয়া, দেশের নিরাপত্তার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, হামিম মণ্ডলের গ্রেপ্তার রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশের জন্য একটি সতর্কবার্তা। রাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্বকে আরও সাবধান থাকতে হবে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার আরও উন্নতি করতে হবে। এই ধরনের ঘটনা সমাজের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং সাধারণ মানুষের মনে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করে।

সামগ্রিকভাবে, হামিম মণ্ডলের গ্রেপ্তারি দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং জঙ্গি কার্যকলাপের উপর নজর রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জঙ্গি কার্যকলাপের সম্ভাবনা বাড়ছে, যা কেবল নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য নয়, বরং সাধারণ মানুষের জন্যও একটি বড় উদ্বেগের কারণ।

বর্ধমানে হামিম মণ্ডলের গ্রেপ্তারি নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, যা পশ্চিমবঙ্গের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং জঙ্গি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সক্ষমতা সম্পর্কে প্রশ্ন তুলছে। রাজ্যের প্রশাসন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য এটি একটি সময়োপযোগী সতর্কবার্তা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, এই ধরনের ঘটনা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সমস্যা, যেখানে জঙ্গি সংগঠনগুলো সীমান্তের ওপার থেকে ভারতীয় ভূখণ্ডে কার্যকলাপ চালানোর চেষ্টা করছে।

এছাড়া, হামিমের গ্রেপ্তারি রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রভাব ফেলবে। রাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্বের নিরাপত্তা নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা রাজনৈতিক মহলে আলোচনা সৃষ্টি করবে। বিশেষ করে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং অন্যান্য মন্ত্রীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে ভাবনা চিন্তার প্রয়োজন। রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশে এই ধরনের ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং রাজনৈতিক নেতাদের উপর চাপ সৃষ্টি করে।

সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকেও হামিমের গ্রেপ্তারি একটি উদ্বেগের বিষয়। যুবকদের মধ্যে জঙ্গি কার্যকলাপে যুক্ত হওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সমাজের জন্য একটি বড় সংকট। যুবকদের মধ্যে এই ধরনের কার্যকলাপের বৃদ্ধি একটি গভীর সামাজিক সমস্যা, যা শুধুমাত্র নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং দেশের ভবিষ্যতের জন্যও একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং যুবকদের মধ্যে ইতিবাচক কার্যকলাপের সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি।

অতএব, হামিম মণ্ডলের গ্রেপ্তারি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, রাজনৈতিক পরিবেশ এবং সামাজিক সমস্যা সম্পর্কে একটি বৃহত্তর আলোচনার সূচনা করছে। নিরাপত্তা বাহিনী, প্রশাসন এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষের মধ্যে সহযোগিতা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি।

এই ঘটনার পর, রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতা এবং প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, এবং এই ধরনের ঘটনা যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। রাজ্যের প্রশাসনকে আরও কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে এবং জঙ্গি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আরও শক্তিশালী হতে হবে।

সার্বিকভাবে, হামিম মণ্ডলের গ্রেপ্তারি দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য একটি বড় সংকট হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। এটি একটি সংকেত যে, দেশের নিরাপত্তা বাহিনী এবং প্রশাসনকে আরও সতর্ক থাকতে হবে এবং জঙ্গি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আরও কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে।

Get More Updates

To learn more about the latest developments in Crime & Law, stay updated with our exclusive reports and analyses on AiLensNews.

Related News