• Home
  • News
  • Local & Regional
  • হলদিয়ায় তেল-গ্যাস পাইপলাইন বসানোর নতুন নিয়ম

হলদিয়ায় তেল-গ্যাস পাইপলাইন বসানোর নতুন নিয়ম এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা

ALN NEWS DESK
ALN NEWS DESK
Updated : Jul 15, 2026, 12:19 AM IST
4 min read
  • linkedin
  • twitter
  • facebook
  • instagram
  • whatsapp

হলদিয়ায় তেল ও গ্যাসের পাইপলাইন বসানোর জন্য নতুন নিয়ম তৈরি হচ্ছে। শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা ও নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ। বিস্তারিত পড়ুন।

সংবাদদাতা, হলদিয়া: হলদিয়া শিল্পাঞ্চলে দুর্ঘটনা এড়াতে অতি দাহ্য তেল ও গ্যাসের পাইপলাইন বসানোর জন্য নতুন নিয়মনীতি তৈরি হচ্ছে। এই উদ্যোগটি গত ৩০ জুন হলদিয়ায় পাইপলাইনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে শুরু হয়েছে, যেখানে ২০ জন অগ্নিদগ্ধ হন এবং তাদের মধ্যে ২ জনের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর জেলা প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে, যার মধ্যে হলদিয়ার প্রশাসন ও শিল্প সংস্থাগুলির সমন্বয়ে গঠিত রাইট অফ ওয়ে (আরওডব্লু) কমিটির মিটিং অনুষ্ঠিত হয়।

হলদিয়া রাজ্য তথা পূর্বভারতের বৃহত্তম পেট্রোকেমিকেল হাব হিসেবে পরিচিত। এখানে ১৬টি সরকারি ও বেসরকারি শিল্প সংস্থা একাধিক অতি দাহ্য এবং ঝুঁকিপূর্ণ হাইড্রো কার্বন জাতীয় পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ করে। এই শিল্পাঞ্চলে পাইপলাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসন একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি) তৈরি করছে, যা শিল্প সুরক্ষা ও বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য একটি আদর্শ নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করবে।

এদিনের মিটিংয়ে মহকুমাশাসক সুরভি সিংলা, এসডিপিও অলোক কুমার, কমিটির সদস্য সচিব তথা অ্যাসিসটেন্ট ডাইরেক্টর অব ফ্যাক্টরিজ দেবায়ন দে এবং ১৬টি শিল্প সংস্থার আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। এইচডিএ অফিসে অনুষ্ঠিত ওই মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয় যে, রাইট অফ ওয়ে কমিটির কাজ হল শিল্পাঞ্চলের সুরক্ষা ও নিরাপত্তায় একটি অভিন্ন নীতি তৈরি করা।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, হলদিয়ার পাইপলাইন মানচিত্র তৈরি করতে আধুনিক প্রযুক্তি যেমন রেডার স্ক্যানার ব্যবহার করা হবে। এর ফলে পাইপলাইনের অবস্থান ও গভীরতা সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে, যা গ্যাস লিকেজ বা অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনা এড়াতে সহায়ক হবে।

এখন পর্যন্ত, প্রতিটি সংস্থা পাইপলাইন বসানোর সময় আলাদা করে অনুমতি গ্রহণ করত, যার ফলে কোথায় কীভাবে লাইন রয়েছে তা সবার জানা থাকত না। পাইপলাইনগুলো বিভিন্ন গভীরতায় স্থাপন করা হতো, যেমন কোথাও ৩ মিটার মাটির নিচে, আবার কোথাও ১.৫ থেকে ২ মিটার নিচে। এর ফলে শহরের উন্নয়ন কাজের সময় বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হতো। একাধিক শিল্প সংস্থা একে অপরের বিরুদ্ধে লাইন নষ্ট হওয়ার অভিযোগ করত, কারণ সঠিক ভূ-পাইপলাইন মানচিত্র না থাকায় সমস্যা বাড়ছিল।

এইচডিএ চিফ এগজিকিউটিভ অফিসার বিবেক দত্তাত্রেয় ভস্মে জানিয়েছেন যে, আরওডব্লু কমিটি একটি বিশেষজ্ঞ টিম তৈরি করছে, যা পাইপলাইন নিয়ে একটি এসওপি বা আদর্শ নির্দেশিকা তৈরি করবে। ১৫ দিনের মধ্যে ওই নির্দেশিকা তৈরির চেষ্টা চলছে এবং সেই এসওপি অনুযায়ী আগামীদিনে হলদিয়ায় পাইপলাইন বসানো বা কাজকর্মের অনুমোদন দেওয়া হবে।

নতুন নিয়মের অধীনে, শিল্প সংস্থাগুলো তাদের ক্রশকান্ট্রি বা কারখানার বাইরের পাইপলাইনগুলির ড্রয়িং জমা দেবে। এই প্রক্রিয়ায়, পুরনো পাইপলাইনে নজরদারি বাড়ানো হবে এবং নতুন পাইপলাইন বসানোর জন্য কড়াকড়ি আরোপ করা হবে।

এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, কারণ হলদিয়া শিল্পাঞ্চলে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে এই ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রয়োজন। পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়া ও কোলাঘাটে শিল্প দুর্ঘটনা এড়াতে যে ইমার্জেন্সি অফসাইট প্ল্যান তৈরি হচ্ছে, তা প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, এই নতুন নিয়ম ও নির্দেশিকা শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা বাড়াতে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হবে।

এখন পর্যন্ত, বিভিন্ন শিল্প সংস্থা একে অপরের বিরুদ্ধে লাইন নষ্ট হওয়ার অভিযোগ করে আসছে, এবং প্রশাসনের কাছে পাইপলাইন সংক্রান্ত কোনও নির্দিষ্ট মানচিত্র ছিল না। ফলে, গ্যাস লিকেজ বা অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনা ঘটলে তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ত। নতুন এসওপি তৈরির মাধ্যমে প্রশাসন আশা করছে যে, এই সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।

এছাড়া, প্রশাসন জানিয়েছে যে, শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে আরও প্রযুক্তিগত সহায়তা গ্রহণ করা হবে। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে পাইপলাইনের অবস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে, যা শিল্পাঞ্চলের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

হলদিয়া শিল্পাঞ্চলের ইতিহাসে এই ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব অপরিসীম। ১৯৬০-এর দশকে যখন হলদিয়া শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন থেকেই এখানে নানা ধরনের শিল্প ও কারখানা গড়ে উঠতে শুরু করে। তবে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই শিল্পাঞ্চলটির নিরাপত্তার বিষয়টি অনেকাংশে অবহেলিত ছিল। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনাগুলো প্রশাসনকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে, এবং তারা এখন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে।

নতুন নিয়মের ফলে শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তার মান বৃদ্ধি পাবে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমে আসবে। এই উদ্যোগের ফলে হলদিয়া এবং আশেপাশের অঞ্চলের মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে, কারণ তারা জানবে যে, প্রশাসন তাদের নিরাপত্তার জন্য সচেতন।

এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ, যা হলদিয়া শিল্পাঞ্চলের জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এই উদ্যোগ সকলের জন্য একটি আশার আলো। প্রশাসন আশা করছে যে, এই নতুন নিয়ম প্রবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে দুর্ঘটনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে এবং হলদিয়া শিল্পাঞ্চল একটি নিরাপদ কর্মস্থল হিসেবে পরিচিত হবে।

এই উদ্যোগের বাস্তবায়ন সঠিকভাবে হলে, হলদিয়া শিল্পাঞ্চল দেশের অন্যান্য শিল্পাঞ্চলের জন্য একটি মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এই ধরনের উদাহরণগুলি অন্যান্য অঞ্চলে অনুসরণ করা হতে পারে, যা সমগ্র দেশব্যাপী শিল্প নিরাপত্তার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে।

Get More Updates

To learn more about the latest developments in Local & Regional, stay updated with our exclusive reports and analyses on AiLensNews.

Related News