সিকিমে নির্মীয়মান সুড়ঙ্গ বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২০, উদ্ধারকাজ চলছে

ALN NEWS DESK
ALN NEWS DESK
Updated : Jul 23, 2026, 12:22 AM IST
4 min read
  • linkedin
  • twitter
  • facebook
  • instagram
  • whatsapp

সিকিমে নির্মীয়মান সুড়ঙ্গ বিপর্যয়ের ঘটনায় মৃত্যু সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০। উদ্ধারকাজ চলছে, তবে আটকে থাকা শ্রমিকদের বেঁচে থাকার আশা ক্ষীণ।

সিকিমের নামচি জেলার ঝোলুঙ্গে উপজেলার সমরদুং এলাকায় এনএইচপিসি তিস্তা স্টেজ ৬ (ভিআই) জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মীয়মান সুড়ঙ্গের বিপর্যয় একটি মারাত্মক ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সোমবার ঘটে যাওয়া এই বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০। এই ঘটনায় উদ্ধারকাজ চলছে এবং এখনও পাঁচজন শ্রমিক আটকে রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকর্মীরা অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করে তাদের উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক।

ভূমিধসের ফলে টানেলের ভেতরে প্রবলভাবে মিথেন গ্যাস নির্গমন হচ্ছে, যা অক্সিজেনের ঘাটতি সৃষ্টি করেছে। এই বিপর্যয়টি শুধুমাত্র শ্রমিকদের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলেনি, বরং উদ্ধারকাজের জন্যও চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা ঝুঁকি নিয়ে টানেলের ভেতরে প্রবেশ করছেন, কিন্তু অন্ধকার এবং বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে তাদের কাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাঙ এবং রাজ্যপাল ওমপ্রকাশ মাথুর ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন। এর পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গ থেকে খনি উদ্ধারকারী বিশেষ টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। উদ্ধারকাজে জোরদার তৎপরতা চলছে, এবং প্রশাসন ইতোমধ্যে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে যাতে এই বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা যায়।

এই বিপর্যয়ের পেছনে মূল কারণ হিসেবে টানেলের ভেতরে মিথেন গ্যাসের আকস্মিক বিস্ফোরণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এনএইচপিসি’র এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পাথরের ভেতরে মিথেন গ্যাসের বিস্ফোরণের ফলে টানেলের ভেতরে অন্ধকার নেমে আসে এবং বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতির কারণে উদ্ধারকর্মীদের জন্য কাজ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

মৃতদের পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেছে সিকিম সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সিকিমের মুখ্যমন্ত্রীর সাথে যোগাযোগ করে পরিস্থিতির খোঁজ নিয়েছেন এবং নিহতদের পরিবারের জন্য ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার টাকা প্রদান করার ঘোষণা করেছেন। সিকিমের বিধানসভায় দুই মিনিট নীরবতা পালন করে শোক প্রকাশ করা হয়েছে।

এটি একটি মারাত্মক দুর্ঘটনা, যা সিকিমের জনগণের মধ্যে গভীর শোক সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এবং শ্রমিকদের পরিবারগুলো এই বিপর্যয়ে গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে অনেকেই স্থানীয় শ্রমিক, যারা জীবিকা অর্জনের জন্য এই প্রকল্পে কাজ করছিলেন। তাদের অকাল মৃত্যু কেবল তাদের পরিবার নয়, বরং পুরো সম্প্রদায়ের জন্য একটি বড় ক্ষতি।

সিকিমের সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত উদ্ধারকাজ এবং সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে, এই বিপর্যয়ের পর নির্মাণ প্রকল্পের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে, মিথেন গ্যাসের উপস্থিতি এবং ভূমিধসের কারণে ভবিষ্যতে আর কোনো বিপর্যয় এড়াতে কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

এছাড়া, এই ঘটনার পর সিকিমের নির্মাণ প্রকল্পগুলোতে নিরাপত্তা নিয়মাবলী এবং মান নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে ভাবনা চিন্তা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে নির্মাণ কাজের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে।

এই বিপর্যয়টি সিকিমের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবেও কাজ করবে। সিকিম একটি পাহাড়ি রাজ্য, যেখানে ভূমিকম্প এবং ভূমিধসের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি থাকে। তাই, নির্মাণ প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মোকাবেলার প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এখনো উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারের জন্য। তবে, পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে। মিথেন গ্যাসের কারণে অক্সিজেনের ঘাটতি এবং অন্ধকার পরিবেশ উদ্ধারকর্মীদের কাজকে আরও কঠিন করে তুলছে।

এই বিপর্যয়ের পর সিকিমের জনগণের মধ্যে উদ্বেগ এবং শোকের আবহাওয়া বিরাজ করছে। সব ধরনের রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ জনগণ নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছেন। তারা আশা করছেন, সরকার দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে যাতে ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় এড়ানো যায়।

সিকিমের এই বিপর্যয়টি শুধুমাত্র একটি স্থানীয় ঘটনা নয়, বরং এটি সারা দেশের জন্য একটি শিক্ষা। নির্মাণ কাজের সময় নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার গুরুত্ব প্রতিটি নির্মাণ প্রকল্পে অপরিহার্য।

এই বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে, সিকিমে নির্মাণ প্রকল্পগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে হলে নির্মাণ কাজের নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যবিধির প্রতি আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

সিকিমের ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে, এই রাজ্যে নির্মাণ কাজের সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। সিকিমের পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে ভূমিধস এবং ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই, নির্মাণ প্রকল্পের পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের সময় এই ঝুঁকিগুলোকে মাথায় রেখে কাজ করতে হবে।

এই বিপর্যয়ের পর, সিকিমের সরকার এবং এনএইচপিসি কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্মাণ কাজের সময় সঠিক গবেষণা এবং ঝুঁকি মূল্যায়ন করতে হবে।

এছাড়া, স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা উচিত। শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং সেমিনারের আয়োজন করা অপরিহার্য। এই ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা কমানোর ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।

সিকিমের এই বিপর্যয়টি আমাদেরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ দেয় যে, নির্মাণ প্রকল্পের সময় সঠিক পরিকল্পনা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা কতটা জরুরি। ভবিষ্যতে এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে হলে আমাদেরকে আরও সচেতন হতে হবে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে।

সর্বশেষে, সিকিমের এই বিপর্যয়টি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি মোকাবেলা করা এবং মানুষের জীবন রক্ষার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। সবার সহযোগিতায়, আমরা আশা করতে পারি যে, ভবিষ্যতে এ ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হবে।

Get More Updates

To learn more about the latest developments in Crime & Law, stay updated with our exclusive reports and analyses on AiLensNews.

Related News