দিলজিৎ দোসাঞ্ঝের ছবি ‘সতলুজ’ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে কেন্দ্র ওটিটি প্ল্যাটফর্মে সেন্সর লাগু করার পরিকল্পনা করছে।
কলকাতা, ভারত ১৫ জুল, ২০২৬ ALN: সম্প্রতি দিলজিৎ দোসাঞ্ঝের ‘সতলুজ’ ছবিটি নিয়ে গোটা দেশে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ছবিটি রবিবার আচমকাই জি ফাইভে মুক্তি পায়, কিন্তু এর মাত্র দু’দিনের মধ্যেই তা সরিয়ে নেওয়া হয়। ছবিটি নিয়ে অভিযোগ উঠেছে যে এটি জঙ্গি কার্যকলাপ এবং বিচ্ছিন্নতাবাদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে। এই বিতর্কের প্রেক্ষিতে কেন্দ্র সরকার ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য সেন্সর বোর্ডের নিয়মাবলী পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে।
ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাওয়া ছবিগুলোর জন্য সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র এখনও বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু ‘সতলুজ’ ছবির বিতর্কের পর কেন্দ্র সরকার এবার চাইছে, ওটিটি প্ল্যাটফর্মের কনটেন্টের উপরও সেন্সর বোর্ডের নজরদারি থাকুক। বর্তমানে, তথ্য প্রযুক্তি আইন, ২০২১ অনুযায়ী, সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র ছাড়াই যেকোনও কনটেন্ট ওটিটি প্ল্যাটফর্মে দেখানো যেতে পারে। কিন্তু কেন্দ্র সরকার এই নিয়ম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিচ্ছে।
কেন্দ্রের সূত্রে জানা গেছে, ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যাক্টের ৬৯এ ধারাকে কাজে লাগানো হতে পারে। এই ধারায় বলা হয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উপর আঘাত করা কনটেন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে সরকার। এর মানে হলো, কনটেন্ট যদি সেন্সর বোর্ডের আওতায় না-ও থাকে, তবুও কেন্দ্র সরকার সেই কনটেন্টের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারবে।
‘সতলুজ’ ছবিটি মুক্তির জন্য দীর্ঘ তিন বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। আইনি জটিলতার কারণে এটি বড়পর্দায় মুক্তি পায়নি এবং শেষ পর্যন্ত ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পায়। তবে মুক্তির পরেই ‘মেরুকরণে’র অভিযোগে ছবিটি নিষিদ্ধ হয়ে যায় এবং জি ফাইভ থেকে তা সরিয়ে নেওয়া হয়। ছবিটি নিয়ে বিতর্কের মূল বিষয় হলো, এটি হিন্দু ও শিখদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও কেন্দ্রের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনও সরকারিভাবে মন্তব্য করা হয়নি।
পাঞ্জাবের ক্ষমতাসীন দল আম আদমি পার্টির (আপ) সাংসদ মালবিন্দর সিং কাং ছবিটি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, “যখন কোনও দেশ নিজের ইতিহাসকেই ভয় পায়, তখন এভাবে সেন্সরশিপকে হাতিয়ার করে।” কংগ্রেস সাংসদ সুখপাল খাইরাও ছবিটি সরিয়ে নেওয়ার তীব্র নিন্দা করেছেন এবং অভিযোগ করেছেন যে বিজেপির অঙ্গুলিহেলনেই ছবির উপর খাঁড়া নেমে এসেছে।
এই বিতর্কের প্রেক্ষিতে দেশের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক পরিবেশের উপর একটি গভীর আলোচনার সূচনা হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই ধরনের সেন্সরশিপের উদ্যোগ দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি হুমকি। ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোতে কনটেন্টের স্বাধীনতা এবং সৃজনশীলতা বজায় রাখতে হলে সরকারকে আরও সজাগ থাকতে হবে।
বিভিন্ন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেন্সরশিপের এই উদ্যোগ কেবল ‘সতলুজ’ ছবির ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং ভবিষ্যতে অন্যান্য কনটেন্টের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে। দেশের সাংস্কৃতিক চর্চা এবং সৃজনশীলতার উপর এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে। অনেক নির্মাতা এবং শিল্পী এই ধরনের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে নিজেদের মতামত প্রকাশ করেছেন এবং তারা মনে করেন, স্বাধীনতা এবং সৃজনশীলতার অধিকার রক্ষা করা জরুরি।
সিনেমা এবং অন্যান্য কনটেন্টের উপর সেন্সরশিপের বিষয়টি একটি জটিল এবং বিতর্কিত বিষয়। এটি কেবল সরকারের জন্য নয়, বরং সমাজের জন্যও একটি গুরুতর প্রশ্ন। দেশের সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং ইতিহাসকে সঠিকভাবে তুলে ধরার জন্য শিল্পীদের স্বাধীনতা থাকা প্রয়োজন। এই ধরনের সেন্সরশিপের ফলে শিল্পীরা তাদের কাজের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন দিক তুলে ধরতে পারবে না, যা শেষ পর্যন্ত দেশের সাংস্কৃতিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করবে।
এখন দেখা যাচ্ছে, সরকারের এই উদ্যোগের ফলে আগামী দিনে ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোর কনটেন্টে কি ধরনের পরিবর্তন আসবে এবং এর ফলে দর্শকদের অভিজ্ঞতা কেমন হবে। এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চলছেই।
‘সতলুজ’ ছবির মুক্তির পর থেকেই যে বিতর্ক শুরু হয়েছে, তা কেবল ছবির কনটেন্টের উপরই সীমাবদ্ধ নয়। এটি দেশের রাজনৈতিক এবং সামাজিক পরিবেশের একটি প্রতিফলন। অনেকেই মনে করছেন, ছবিটি যে ধরনের বিষয়বস্তু নিয়ে কাজ করেছে, তা বর্তমান সময়ে একটি স্পর্শকাতর বিষয়। বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশে বিচ্ছিন্নতাবাদ এবং জঙ্গি কার্যকলাপের প্রসঙ্গ অত্যন্ত সংবেদনশীল।
ভারতের ইতিহাসে, সেন্সরশিপের বিষয়টি দীর্ঘকাল থেকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সরকারের অধীনে এটি একটি বিতর্কিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক নির্মাতা ও শিল্পী এই ধরনের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে নিজেদের মতামত প্রকাশ করেছেন এবং তারা মনে করেন, এটি সৃজনশীলতার উপর আঘাত হানছে।
এছাড়া, এই বিতর্কের প্রেক্ষিতে দেশের জনগণের মধ্যে একটি বিভাজনও দেখা দিয়েছে। কিছু মানুষ মনে করেন, সেন্সরশিপের মাধ্যমে সরকার দেশের নিরাপত্তা বজায় রাখতে চায়, অন্যদিকে অনেকেই মনে করছেন, এটি একটি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিরুদ্ধে।
সিনেমা এবং টেলিভিশনের মাধ্যমে সমাজে যে ধরনের বার্তা পৌঁছায়, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কারণে, নির্মাতাদের স্বাধীনতা এবং সৃজনশীলতা রক্ষা করা জরুরি। সেন্সরশিপের ফলে নির্মাতারা তাদের কাজের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন দিক তুলে ধরতে পারবে না।
এখন দেখা যাচ্ছে, সরকারের এই উদ্যোগের ফলে আগামী দিনে ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোর কনটেন্টে কি ধরনের পরিবর্তন আসবে এবং এর ফলে দর্শকদের অভিজ্ঞতা কেমন হবে। এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চলছেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের এই পদক্ষেপ যদি কার্যকর হয়, তাহলে এটি দেশের সাংস্কৃতিক চর্চা এবং সৃজনশীলতার উপর একটি গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, ‘সতলুজ’ ছবির বিতর্ক এবং কেন্দ্র সরকারের সেন্সরশিপের উদ্যোগ দেশের সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক পরিবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরছে। এটি বোঝাতে পারে যে, দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি একটি হুমকি রয়েছে এবং এর ফলে দেশের সাংস্কৃতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
এখন দেখা যাচ্ছে, সরকারের এই উদ্যোগের ফলে আগামী দিনে ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোর কনটেন্টে কি ধরনের পরিবর্তন আসবে এবং এর ফলে দর্শকদের অভিজ্ঞতা কেমন হবে। এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চলছেই।
To learn more about the latest developments in Crime & Law, stay updated with our exclusive reports and analyses on AiLensNews.