গত ৯ মাস ধরে কেন্দ্রীয় সরকার চাকরির তথ্য গোপন করছে। মে মাসে বেকারত্বের হার ৫.৫%। কেন এই গোপনীয়তা? বিস্তারিত পড়ুন।
কলকাতা, ভারত ১৩ জুল, ২০২৬ ALN: বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: দেশের সংগঠিত চাকরির বাজারের হাল কেমন? মাসমাইনে পান, এমন কতজনের চাকরি হয়েছে সম্প্রতি? গত ৯ মাস ধরে অর্থাৎ ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে এই তথ্য গোপন করে যাচ্ছে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার।
যাঁরা মাসমাইনের চাকরি করেন, তাঁদের বড়ো অংশই পিএফের সুবিধা পান। কোন মাসে কত সংখ্যক কর্মী নতুন করে পিএফের আওতায় এলেন, সেই তথ্য প্রতি মাসে প্রকাশ করে এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন বা ইপিএফও। সেই ‘পে-রোল ডেটা’ থেকে সংগঠিত চাকরির বাজারের সার্বিক চিত্র সামনে আসে। গত অক্টোবর থেকে সেই তথ্যই প্রকাশ করছে না পিএফ কর্তৃপক্ষ। কেন এই গোপনীয়তা? সরকারিভাবে তার কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে সরকার প্রতি মাসে দেশে বেকারত্বের হার প্রকাশ করে। গত মে মাস পর্যন্ত সেই তথ্য সামনে এসেছে। তাতে দেখা গিয়েছে, মে মাসে বেকারত্বের হার তার আগের ১১ মাসের তুলনায় সর্বাধিক। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, ‘বিকশিত ভারত’-এ কাজের বাজার নিয়ে কেন এত গোপনীয়তা?
কেন্দ্রীয় সরকার প্রতি মাসে বেকারত্বের যে হার প্রকাশ করে, সেই হিসাবে কেবল তাঁদেরকেই গণ্য করা হয়, যাঁদের বয়স ১৫ বছরের বেশি এবং একমাস ধরে কাজ খুঁজছেন। সেই নিরিখে গত মে মাসে দেশে বেকারত্বের হার ছিল ৫.৫ শতাংশ। তবে এই পরিসংখ্যান নিয়েও রয়েছে একাধিক প্রশ্ন। বিশেষজ্ঞদের দাবি, অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতে বেকারত্ব কম করে দেখানোর জন্য নানা ‘কৌশল’ নেওয়া হয়। কেউ যদি সপ্তাহে মাত্র একদিনও এক ঘণ্টা কাজ করেন এবং তার জন্য পারিশ্রমিক নেন, তাহলে তিনি আর ‘বেকার’ রইলেন না। অর্থাৎ মাসে মাত্র চার ঘণ্টা কাজ করলেই ‘বেকার’ তকমা ঘুচে যায় সরকারি নথিতে। কিন্তু এই ‘জল মেশানো’ তথ্যেও গত মে মাসে বেকারত্বের হার গত ১১ মাসের তুলনায় সবচেয়ে বেশি হয়েছে। ২০২৫ সালের মে ও জুনে বেকারত্বের হার ছিল ৫.৬ শতাংশ। জুলাইতে তা কমে ৫.২ শতাংশ হয়। তারপর এই হার কিছুটা কমবেশি হলেও চলতি বছরের মে মাসে তা ৫.৫ শতাংশে পৌঁছে যায়।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে পিএফের আওতায় নতুন করে নাম উঠেছিল ২১ লক্ষ ৪ হাজার কর্মীর। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের তুলনায় বৃদ্ধির হার ছিল প্রায় ৫.৫৫ শতাংশ। তার পরের মাসগুলির তথ্য আর সামনে আসেনি। পিএফ কর্তাদের একাংশের বক্তব্য, ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্যগোপন করা হয়েছে। কারণ, গত বছর আগস্টে দেশে চালু হয়েছে ‘প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারত রোজগার যোজনা’। দেশে সংগঠিত ক্ষেত্রে চাকরির বাজার বৃদ্ধিই এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য। নরেন্দ্র মোদির এই ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পের সাফল্য সামনে আনতে ‘পে-রোল’ সংক্রান্ত তথ্য গোপন করা হচ্ছে বলে মনে করছেন তাঁরা। কারণ, ওই তথ্য সামনে এলে মোদির প্রকল্পের সাফল্য আলাদাভাবে প্রচার করা যাবে না।
ভারতের বেকারত্বের হার এবং চাকরির বাজারের প্রবণতা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সরকারের নীতি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতে হবে। গত দশক ধরে ভারতের অর্থনীতি বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে। ২০১৬ সালে নোটবন্দির পর থেকে দেশের অর্থনীতিতে স্থবিরতা দেখা দেয়। সেই সময় থেকেই বেকারত্ব বাড়তে শুরু করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার কমে যাওয়ার পাশাপাশি, চাকরির সুযোগের অভাবও একটি বড়ো কারণ।
অন্যদিকে, সরকার বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চেষ্টা করেছে। প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারত রোজগার যোজনার মতো প্রকল্পগুলি মূলত যুবকদের জন্য তৈরি করা হয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠছে, এই প্রকল্পগুলি কতটা কার্যকরী? কর্মসংস্থানের প্রকৃত সংখ্যা এবং গুণগত মান নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। সরকারের তরফ থেকে তথ্য গোপন করার পেছনে রাজনৈতিক কারণও থাকতে পারে। সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা বাড়ছে, এবং এর ফলে নির্বাচনী প্রচারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি সরকার প্রকৃত তথ্য প্রকাশ না করে, তাহলে তা দেশের যুবকদের মধ্যে হতাশা তৈরি করবে। চাকরির বাজারের অস্থিরতা এবং তথ্যের অভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। যুবকরা যদি চাকরি না পায়, তাহলে দেশের ভবিষ্যৎ কী হবে, সেই প্রশ্ন উঠছে। অনেক যুবক বিদেশে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করছেন, কারণ তারা মনে করছেন যে, সেখানে তাদের জন্য বেশি সুযোগ রয়েছে।
এদিকে, বেকারত্বের হার ৫.৫ শতাংশ হলেও, এটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। শহরাঞ্চলে বেকারত্বের হার সাধারণত বেশি থাকে, কারণ সেখানে প্রতিযোগিতা বেশি। গ্রামীণ এলাকায়, যদিও বেকারত্বের হার কম, কিন্তু সেখানে কাজের সুযোগের অভাব এবং স্বল্প আয়ের সমস্যা রয়েছে।
সরকারের উচিত হবে, স্বচ্ছতার সঙ্গে তথ্য প্রকাশ করা এবং যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা। কারণ, একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নির্ভর করে তার যুবকদের কর্মসংস্থানের উপর। সরকারের উচিত হবে, রাজনৈতিক লাভের জন্য তথ্য গোপন না করে, দেশের যুবকদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সচেতন থাকা।
অতএব, দেশের চাকরির বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি এবং বেকারত্বের হার নিয়ে আলোচনা চলতে থাকবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, সরকারের উচিত হবে তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করা। কারণ, তথ্যের অভাবে জনগণের মধ্যে সন্দেহ এবং হতাশা সৃষ্টি হতে পারে, যা দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য ক্ষতিকর।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সরকার কি এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাবে? নাকি তারা আগের মতোই তথ্য গোপন রাখতে চাইবে? দেশের যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য সরকারের পদক্ষেপের দিকে সবার নজর।
বেকারত্বের এই অবস্থার প্রভাব শুধু অর্থনীতির উপরই নয়, বরং সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও পড়তে পারে। যুব সমাজের মধ্যে হতাশা ও অসন্তোষ দেখা দিলে, তা রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণ হতে পারে। অতীতে, বেকারত্বের কারণে বিভিন্ন আন্দোলন ও বিক্ষোভের উদ্ভব ঘটেছে। এটি সরকারের জন্য একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে কাজ করতে পারে।
সুতরাং, সরকারের উচিত হবে, তাদের নীতিগুলি পর্যালোচনা করা এবং যুবকদের জন্য কার্যকরী কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার জন্য নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করা। দেশের অর্থনীতির স্বাস্থ্য এবং যুবকদের ভবিষ্যৎ উভয়ই এর উপর নির্ভরশীল।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারকে সঠিক তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। কারণ, তথ্যের অভাবে জনগণের মধ্যে সন্দেহ ও হতাশা তৈরি হতে পারে, যা দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য ক্ষতিকর। সরকারের উচিত হবে, যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা। দেশের যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে না পারলে, তা দেশের অর্থনীতির জন্য একটি গুরুতর সংকট হিসেবে দেখা দিতে পারে।
অতএব, দেশের চাকরির বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি এবং বেকারত্বের হার নিয়ে আলোচনা চলতে থাকবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, সরকারের উচিত হবে তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করা। কারণ, তথ্যের অভাবে জনগণের মধ্যে সন্দেহ এবং হতাশা সৃষ্টি হতে পারে, যা দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য ক্ষতিকর।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সরকার কি এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাবে? নাকি তারা আগের মতোই তথ্য গোপন রাখতে চাইবে? দেশের যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য সরকারের পদক্ষেপের দিকে সবার নজর।
To learn more about the latest developments in Economy, stay updated with our exclusive reports and analyses on AiLensNews.