• Home
  • News
  • Crime & Law
  • আলিপুরদুয়ারে বাংলার বাড়ি প্রকল্প

আলিপুরদুয়ারে বাংলার বাড়ি প্রকল্পে টাকার পরেও ঘর উধাও!

ALN NEWS DESK
ALN NEWS DESK
Updated : Jul 22, 2026, 06:14 PM IST
5 min read
  • linkedin
  • twitter
  • facebook
  • instagram
  • whatsapp

আলিপুরদুয়ারে বাংলার বাড়ি প্রকল্পে টাকা পেয়েও ঘর তৈরির কাজ শেষ হয়নি। ৪৫,৮৫৫ জন উপভোক্তার মধ্যে ৫০ শতাংশের কাজ অসম্পূর্ণ।

আলিপুরদুয়ার: টাকা পেয়েও হয়নি ঘর তৈরি। তৃণমূলের (TMC) আমলে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আলিপুরদুয়ার (Alipurduar) জেলার মোট ৪৫ হাজার ৮৫৫ জনকে বাংলার বাড়ি (গ্রামীণ) (Banglar Bari) প্রকল্পে ঘর তৈরির টাকা দেওয়া হয়েছিল। প্রত্যেক উপভোক্তা ৬০ হাজার টাকা পান। তবে যাঁরা টাকা পেয়েছেন তাঁদের মধ্যে ৫০ শতাংশ মানুষই ঘর তৈরির কাজ শেষ করেননি বলে জানা যাচ্ছে। দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়ার জন্য সমীক্ষা শুরু হতেই এই রকম তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে চিন্তায় জেলা প্রশাসনের কর্তারা। এদিকে, যাঁরা ঘরের কাজ নিয়মমাফিক শেষ করেননি, তাঁরা দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাবেন না।

বাংলার বাড়ি প্রকল্পটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ, যা গ্রামীণ এলাকায় গৃহহীন পরিবারগুলিকে ঘর নির্মাণের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো গৃহহীনতা দূর করা এবং সমাজের নিম্ন আয়ের শ্রেণীর জন্য একটি নিরাপদ আবাস নিশ্চিত করা। রাজ্য সরকার এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রত্যেক গৃহহীন পরিবারকে ১.২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত প্রদান করে, যা দুই কিস্তিতে বিতরণ করা হয়। প্রথম কিস্তিতে ৬০ হাজার টাকা দেওয়া হয়, যা দিয়ে ঘরের ভিত্তি এবং কাঠামোর কাজ শুরু করা হয়। দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাওয়ার জন্য উপভোক্তাদের প্রথম কিস্তির কাজ সম্পন্ন করতে হয়।

এদিকে, কবে থেকে প্রকল্পের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা ঢুকবে সেই বিষয়টিও এখনও পরিষ্কার নয়। মঙ্গলবার এপ্রসঙ্গে আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের এক আধিকারিক বলেন, ‘রাজ্য সরকারের তরফ থেকে ওই সমীক্ষা করতে বলা হয়েছে। সেই মতো সমীক্ষা করে রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে। আশা করা যায় শীঘ্রই দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়া হবে।’ বাংলার বাড়ি প্রকল্পে দুই কিস্তিতে রাজ্য সরকার টাকা দিয়ে আসছে। প্রথমে ৬০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। সেই টাকা দিয়ে পিলার ও প্লিন্থ বা ‘রিং’ পর্যন্ত ইট গাঁথনির কাজ করার পর সমীক্ষা হবে। ওই পর্যন্ত কাজ ঠিকমতো শেষ হলে দ্বিতীয় কিস্তির ৬০ হাজার টাকা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।

মোট উপভোক্তার মধ্যে আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের ৭,৭৭০ জন, আলিপুরদুয়ার-২ ব্লকের ৯,২৩৬, ফালাকাটার ১০,৪৪৭ ও মাদারিহাটের ৫,৩৩৯ জন ছিলেন। পাশাপাশি কালচিনির ৪,৬৯০ এবং কুমারগ্রামের ৮,৩৭৩ জনও টাকা পেয়েছেন। বর্তমানে বিজেপির সরকার গঠন হওয়ার পর দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। সেইমতো বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়গুলিতে সমীক্ষা শুরু করতে বলা হয়েছে। নিময় মেনে বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতের কর্মীরা সমীক্ষা করতে গিয়ে অবাক হচ্ছেন। বেশিরভাগ উপভোক্তাই নিয়ম মেনে ইট গাঁথনির কাজ করেননি। কেউ শুধু পিলার তৈরি করেছেন, কেউ আবার ঘরের কাজ শুরুই করেননি। আলিপুরদুয়ার জেলার বিভিন্ন গ্রামের ছবিটা একই। গ্রাম পঞ্চায়েতের কর্মীরা গিয়ে মানুষের থেকে বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনেছেন।

কোনও উপভোক্তা জানাচ্ছেন, ঘরের টাকা অন্য কাজে লাগানো হয়েছে। কেউ আবার তুলে ধরছেন বালি-পাথরের সমস্যা বা বালি-পাথরের বেশি দামের কথা। কেউ আবার বর্ষা বলে পর্ষাপ্ত কাজ শেষ করেননি। কেউ কাজ শুরুর পরিকল্পনা করেছেন, অথচ বাস্তবে কিছুই হয়নি। এই রকম অবস্থায় সমীক্ষার ক্ষেত্রেও সমস্যা হচ্ছে। যাঁদের কাজ পর্যাপ্ত হয়নি, স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের দ্বিতীয় কিস্তির ৬০ হাজার টাকা পাওয়ারও সম্ভাবনা থাকছে না। আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের এক বাসিন্দার বক্তব্য, ‘ঘরের টাকা পাওয়ার পরই নির্বাচনের কাজ শুরু হেয় যায়। তাই ভেবেছিলাম কয়েকদিন পর কাজ করাব। এখন আবার বালি-পাথরের দাম খুব বেশি। তাই আরও কিছুদিন অপেক্ষা করার ইচ্ছা ছিল।’

বাংলার বাড়ি প্রকল্পের এই পরিস্থিতি শুধুমাত্র আলিপুরদুয়ার জেলার জন্য নয়, বরং রাজ্যের অন্যান্য অংশেও একই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। অনেক উপভোক্তা অভিযোগ করেছেন যে তারা অর্থ পেয়েও বিভিন্ন কারণে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করতে পারেননি। এই সমস্যা সমাধানের জন্য রাজ্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে, তবে বাস্তবতা হলো, অর্থের অভাব এবং নির্মাণ সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি অনেক পরিবারকে সমস্যায় ফেলেছে।

এছাড়া, প্রকল্পের আওতায় ঘর নির্মাণের কাজ সম্পন্ন না হওয়ার ফলে উপভোক্তাদের মধ্যে হতাশা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন যে তারা সরকারের প্রতিশ্রুতির প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন। এই পরিস্থিতি যদি অব্যাহত থাকে, তবে এটি রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, নির্বাচনের সময়ে গৃহহীনতার সমস্যা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়ায়, এবং রাজনৈতিক দলগুলি এই বিষয়টিকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে পারে।

রাজ্য সরকারকে এখন এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে এবং উপভোক্তাদের মধ্যে আস্থা পুনরুদ্ধার করতে হবে। তারা যদি দ্রুত সমাধান খুঁজে না পান, তবে এটি প্রকল্পের সাফল্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং ভবিষ্যতে গৃহহীনতার সমস্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

অন্যদিকে, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জন্যও এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাদের কাজ হলো উপভোক্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা এবং তাদের সমস্যাগুলি সমাধান করা। এটি একটি সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া, তবে স্থানীয় প্রশাসন যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তবে এই সমস্যা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

এখন দেখা উচিত, রাজ্য সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসন এই সমস্যাগুলি সমাধান করতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং উপভোক্তাদের মধ্যে আস্থা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয় কি না। এই প্রকল্পের সাফল্য শুধুমাত্র অর্থের বিতরণের উপর নির্ভর করে না, বরং এটি উপভোক্তাদের জন্য একটি বাস্তবসম্মত এবং কার্যকরী সমাধান প্রদান করার উপরও নির্ভর করে।

বাংলার বাড়ি প্রকল্পের প্রেক্ষাপট এবং এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করতে গেলে, এটি জানা প্রয়োজন যে পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ অঞ্চলে গৃহহীনতা একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা। এই সমস্যা মোকাবেলার জন্য রাজ্য সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে বাংলার বাড়ি প্রকল্প অন্যতম। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্য সরকার গৃহহীন পরিবারগুলির জন্য একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। তবে, বাস্তবতার নিরিখে দেখা যাচ্ছে যে, অর্থের অভাব এবং নির্মাণ সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি অনেক পরিবারকে সমস্যায় ফেলছে।

এছাড়া, রাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে এই প্রকল্পের সাফল্য এবং ব্যর্থতা নিয়ে বিতর্কও চলছে। রাজনৈতিক বিরোধীরা এই প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এবং সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন যে তারা গৃহহীনতার সমস্যা সমাধানে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। এই রাজনৈতিক চাপের মধ্যে, রাজ্য সরকারকে প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং উপভোক্তাদের মধ্যে আস্থা পুনরুদ্ধার করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

সুতরাং, বাংলার বাড়ি প্রকল্পের সাফল্য এবং ব্যর্থতার বিষয়টি শুধুমাত্র অর্থের বিতরণের উপর নির্ভর করে না, বরং এটি রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ, সামাজিক সমস্যা এবং প্রশাসনিক দক্ষতার উপরও নির্ভর করে। রাজ্য সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসন যদি এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়, তবে এই প্রকল্পটি গৃহহীনতা মোকাবেলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।

Get More Updates

To learn more about the latest developments in Crime & Law, stay updated with our exclusive reports and analyses on AiLensNews.

Related News