সোনম ওয়াংচুকের ১৯ দিনের অনশন, ৯ কেজি ওজন হ্রাস! হাইকোর্টের নির্দেশ দ্রুত পদক্ষেপের

ALN NEWS DESK
ALN NEWS DESK
Updated : Jul 16, 2026, 09:48 PM IST
5 min read
  • linkedin
  • twitter
  • facebook
  • instagram
  • whatsapp

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে সোনম ওয়াংচুকের অনশন ১৯ দিনে পড়েছে। দিল্লি হাইকোর্ট তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে এবং ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) আন্দোলনের সমর্থনে শুরু হওয়া সোনম ওয়াংচুকের অনশন ১৯ দিনে পড়ল। এরই মধ্যে তাঁর শরীরের ওজন প্রায় ৯ কেজি কমে গিয়েছে। আন্দোলনকারী সমাজকর্মী তথা শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকের (Sonam Wangchuk) শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি নিয়ে এবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল দিল্লি হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার সকালে এক শুনানিতে আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, ওয়াংচুকের জীবন বাঁচাতে যে ধরনের চিকিৎসার প্রয়োজন, তা অবিলম্বে সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।

আদালত সাফ জানিয়েছে: “ভারতের যেকোনো নাগরিকের জীবন অত্যন্ত মূল্যবান। সোনম ওয়াংচুকের জীবন বাঁচাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমস্ত রকম প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী অবিলম্বে চিকিৎসা শুরু করা দরকার।”

বুধবার দিল্লি হাইকোর্টে সোনম ওয়াংচুকের জীবন রক্ষার্থে একটি জরুরি আবেদন দায়ের করা হয়। সেই আবেদনে জানানো হয়, অনশনের জেরে ইতিমধ্যেই ৫৯ বছর বয়সী এই সমাজকর্মীর ওজন প্রায় সাড়ে আট কেজি কমে গিয়েছে। দ্রুত হস্তক্ষেপ না করলে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাঁর প্রাণসংশয় হতে পারে।

আবেদনে বলা হয়, “শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করা প্রত্যেক নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু ওয়াংচুকের মতো একজন মানুষের এভাবে মৃত্যু হলে তা দেশের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক হবে। তাই প্রয়োজনে তাঁকে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে লাইফ-সেভিং লিকুইড ডায়েট ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান দেওয়ার ব্যবস্থা করুক প্রশাসন।”

শুনানি চলাকালীন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিয়মিত করা হচ্ছে, তবে সবসময় সরকারি ডাক্তাররা থাকছেন না; মাঝে মাঝে বেসরকারি হাসপাতালের ডাক্তাররাও পরীক্ষা করছেন।

এতে অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত নির্দেশ দেয়, কোনো বেসরকারি নয়, প্রতিদিন সরকারি হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দিয়ে ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে। সেই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে যখনই প্রয়োজন হবে, তখনই যেন চিকিৎসকেরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বা হস্তক্ষেপ করেন।

আদালতের এই নির্দেশের ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেই সমাজমাধ্যমে একটি আবেগঘন ভিডিও বার্তা পোস্ট করেন সোনম ওয়াংচুক। একাধিক প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তাঁকে অনশন প্রত্যাহারের অনুরোধ জানালেও, তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে সরকারের তরফ থেকে কোনো সদর্থক সাড়া না পাওয়া পর্যন্ত তিনি অনশন ভাঙবেন না।

শারীরিক অবস্থার বিবরণ দিতে গিয়ে ওয়াংচুক বলেন: “শরীর দুর্বল হচ্ছে, পেশিগুলো ক্লান্ত। কিন্তু আমার হৃদযন্ত্র আর মনোবল এখনও পুরোপুরি ঠিক আছে। তাই শুধু ‘অনশন ভাঙুন’ না বলে, আমি দেশবাসীকে অনুরোধ করব আগামী ২০ জুলাই দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপি (CJP)-র প্রতিবাদে বিপুল সংখ্যায় যোগ দিন। আমরা সবাই মিলে সাংসদদের হাতে এই দাবি তুলে দেব।”

অভিজিৎ দিপকের নেতৃত্বাধীন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) দেশজুড়ে ক্রমশ শক্তিশালী আন্দোলনের সূত্রধার হিসেবে গড়ে উঠছে। গত মে মাসে আয়োজিত NEET-UG সহ একাধিক সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এই আন্দোলনের সূত্রপাত। এই যুব ও ছাত্র সমাজকে সমর্থন জানাতেই অনশনের পথে হেঁটেছেন লাদাখের পরিবেশবিদ ও শিক্ষাসংস্কারক সোনম ওয়াংচুক।

সোনম ওয়াংচুক, যিনি লাদাখের একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও পরিবেশবিদ, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার পদ্ধতি এবং পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে তার অবদানের জন্য পরিচিত। তিনি মূলত 'লাদাখের গ্রিন ম্যান' হিসেবে পরিচিত, যিনি স্থানীয় পরিবেশের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে অনেক সামাজিক আন্দোলন সংগঠিত হয়েছে যা স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়ক হয়েছে।

ওয়াংচুকের এই অনশন আন্দোলন মূলত শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বিরুদ্ধে, যিনি NEET-UG সহ বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে অভিযুক্ত। শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগের দাবিতে ওয়াংচুকের এই পদক্ষেপ দেশের যুব সমাজের মধ্যে ব্যাপক সমর্থন লাভ করেছে। CJP আন্দোলনটি মূলত ছাত্র ও যুবকদের অধিকার এবং শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য গঠিত হয়েছে।

দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশনা এবং ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি, এই আন্দোলনটি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি নতুন মোড় নিয়ে আসতে পারে। বিশেষ করে, যখন দেশের যুব সমাজের মধ্যে এই ধরনের আন্দোলনের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি সরকারের জন্য একটি সংকেত হতে পারে যে, যুব সমাজের দাবি এবং তাদের সমস্যাগুলি গুরুত্ব সহকারে নিতে হবে।

এই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে, সরকারের প্রতি যুবকদের মধ্যে যে ক্ষোভ প্রকাশ পাচ্ছে, তা একটি বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলনের সূচনা হতে পারে। যদি ওয়াংচুকের আন্দোলন সফল হয়, তবে এটি অন্যান্য সামাজিক আন্দোলনকে উৎসাহিত করবে এবং সরকারের নীতির পরিবর্তনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হতে পারে।

সোনম ওয়াংচুকের অনশন এবং তার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে এই উদ্বেগের মধ্যেই, তিনি সমাজের প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, "আমাদের সকলকে একত্রিত হয়ে আন্দোলন করতে হবে, এবং আমাদের দাবি তুলে ধরতে হবে।" এর মাধ্যমে তিনি যুব সমাজকে সচেতন ও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, ওয়াংচুকের অনশনের ফলে সরকারের প্রতি চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদি সরকার দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তবে এটি তাদের জন্য রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিকর হতে পারে। সুতরাং, সরকারের উচিত ওয়াংচুকের দাবিগুলির প্রতি গুরুত্ব সহকারে মনোযোগ দেওয়া এবং একটি সমাধানের দিকে এগোনো।

যদিও ওয়াংচুকের আন্দোলন এখনো শেষ হয়নি, কিন্তু এটি দেশের যুব সমাজের মধ্যে একটি নতুন ধারার সূচনা করেছে। এই আন্দোলনটি কেবল একটি রাজনৈতিক দাবির জন্য নয়, বরং একটি বৃহত্তর সামাজিক পরিবর্তনের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করতে পারে। সুতরাং, সোনম ওয়াংচুকের এই অনশন দেশের রাজনৈতিক এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে, সোনম ওয়াংচুকের অনশন আন্দোলন শুধু একটি ব্যক্তিগত প্রতিবাদ নয়, বরং এটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির উপর একটি গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ওয়াংচুকের এই আন্দোলন দেশের যুব সমাজের মধ্যে একটি নতুন সচেতনতা তৈরি করতে পারে, যা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে।

শিক্ষার মান ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য ওয়াংচুকের এই আন্দোলন দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসতে পারে। দেশের যুব সমাজের মধ্যে যে অসন্তোষ এবং ক্ষোভ রয়েছে, তা সরকারের নীতির প্রতি একটি বড় সংকেত হতে পারে। যদি সরকার এই আন্দোলনের প্রতি গুরুত্ব দেয়, তবে এটি দেশের রাজনৈতিক এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

অবশেষে, সোনম ওয়াংচুকের অনশন এবং তার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে, দেশের যুব সমাজের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। যদি তারা একত্রিত হয়ে আন্দোলন করে, তবে তারা সরকারের কাছে তাদের দাবি তুলে ধরতে সক্ষম হতে পারে। ওয়াংচুকের এই অনশন কেবল একটি রাজনৈতিক আন্দোলন নয়, বরং এটি একটি বৃহত্তর সামাজিক পরিবর্তনের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করতে পারে।

Get More Updates

To learn more about the latest developments in Crime & Law, stay updated with our exclusive reports and analyses on AiLensNews.

Related News