দিল্লির যন্তর মন্তরে অনশনরত সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
নতুন দিল্লি, ভারত ১৪ জুল, ২০২৬ ALN: উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ দিল্লির যন্তর মন্তরে অনশনরত সমাজসৈনিক সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। (Mamata Banerjee Calls Sonam Wangchuk)। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই তথ্য জানিয়েছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক। জানা গিয়েছে, সোনমকে ভেঙে না পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।
অভিজিৎ দীপক সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে ফোনে কথা বলে তার স্বাস্থ্যের খোঁজ নিয়েছেন। একইসঙ্গে নিট (NEET) বিতর্কে পড়ুয়াদের ন্যায়বিচারের দাবিতে সিজেপি যে আন্দোলন করছে, তার প্রতিও মমতা সংহতি ও সমর্থন জানিয়েছেন। অভিজিৎ তার পোস্টে লিখেছেন, “আমাদের আন্দোলনের প্রতি মমতাদির সংহতি এবং সমর্থনের জন্য আমি তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।” উল্লেখ্য, এর আগেই তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র সোনমের কাছে অনশন প্রত্যাহার করার আর্জি জানিয়েছিলেন।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত ২০ জুন থেকে যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে ‘ককরোচ’ দল। কেন্দ্রের কাছ থেকে সদর্থক উত্তর না মেলায় গত ২৮ জুন থেকে লাদাখের সমাজসৈনিক সোনম ওয়াংচুক অনশনে বসেন। মঙ্গলবার তার অনশনের ১৭তম দিন ছিল।
সোনমের এই লড়াইকে সমর্থন জানাতে একের পর এক বিরোধী দল ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এগিয়ে আসছেন। স্থির হয়েছে, সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিন ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চের প্রতিনিধিদল সোনমের সঙ্গে দেখা করে তাকে অনশন ভঙ্গ করার অনুরোধ জানাবে। সোমবার অনশনমঞ্চে উপস্থিত হয়েছিলেন সাহিত্যিক অরুন্ধতী রায়, অভিনেতা নসীরুদ্দীন শাহ, রত্না পাঠক শাহ এবং অর্থনীতিবিদ জয়তী ঘোষ। তাঁদেরও সোনমসহ অন্যান্য অনশনকারীদের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অনশন তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ফোন এবং বিরোধী দলগুলির সক্রিয়তা সোনমের আন্দোলনকে জাতীয় স্তরে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
সোনম ওয়াংচুক, যিনি লাদাখের একজন বিশিষ্ট সমাজসেবী এবং শিক্ষাবিদ, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার ক্ষেত্রে ন্যায়বিচারের জন্য কাজ করছেন। তিনি নীতি নির্ধারকদের কাছে শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য অধিক সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছেন। তাঁর অনশন আন্দোলন মূলত NEET (ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট) নিয়ে বিতর্কের প্রেক্ষাপটে শুরু হয়েছে। NEET পরীক্ষাটি ভারতের মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য একটি কেন্দ্রীয় পরীক্ষার ব্যবস্থা, যা অনেক শিক্ষার্থীর জন্য চাপ সৃষ্টি করে এবং তাদের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
গত কয়েক বছরে, NEET নিয়ে বিভিন্ন রাজ্যে প্রতিবাদ এবং বিতর্ক দেখা দিয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন যে, পরীক্ষাটি তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন এবং এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে চাপ সৃষ্টি করছে। সোনম ওয়াংচুকের এই আন্দোলন সেই একই দাবির আওতায় আসছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যায়বিচার এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে সমতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থন সোনমের আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করেছে। তৃণমূল নেত্রীর এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক এবং সামাজিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। এটি বিরোধী দলের মধ্যে সংহতি এবং একত্রিত হওয়ার একটি উদাহরণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের সমর্থন আন্দোলনকে জাতীয় স্তরে একটি নতুন মাত্রা দিতে পারে এবং সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সহায়তা করতে পারে।
এদিকে, সোনম ওয়াংচুকের অনশন চলাকালীন, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং শিক্ষাবিদদের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি সমর্থন জানানো হচ্ছে। সাহিত্যিক অরুন্ধতী রায় এবং অভিনেতা নসীরুদ্দীন শাহের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁর আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে উপস্থিত হয়েছেন। তাদের উপস্থিতি আন্দোলনকে আরও জনপ্রিয় করে তুলেছে এবং এটি সামাজিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে।
সোনম ওয়াংচুকের অনশন থেকে যে বার্তা আসছে তা হল, শিক্ষার ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার এবং সমতা নিশ্চিত করা জরুরি। এই আন্দোলন শুধুমাত্র NEET পরীক্ষার বিরুদ্ধে নয়, বরং ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার সামগ্রিক সংস্কারের দাবিতেও। শিক্ষার্থীরা এখন তাদের অধিকারের জন্য সোচ্চার হচ্ছে এবং তাদের দাবির প্রতি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইছে।
সোনমের অনশন আন্দোলন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থন রাজনৈতিক এবং সামাজিক পরিবর্তনের জন্য একটি উদাহরণ হতে পারে। এটি একটি বৃহত্তর আন্দোলনের অংশ, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের অধিকার এবং সুযোগের জন্য লড়াই করছে। সোনমের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা এবং তাঁর আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানানো, এই সংকটের সময়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এখন দেখা যাক, সরকারের পক্ষ থেকে এই আন্দোলনের প্রতি কিভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো হয় এবং সোনম ওয়াংচুকের দাবি কতটা গুরুত্ব পায়। শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচারের দাবিতে এই আন্দোলন কীভাবে সামনে এগিয়ে যায়, সেটাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সোনমের স্বাস্থ্য এবং আন্দোলন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা এবং রাজনৈতিক সমর্থন পাওয়া, এই আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে পারে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে, সোনম ওয়াংচুকের অনশন আন্দোলন শুধুমাত্র একটি ব্যক্তিগত লড়াই নয়, বরং এটি একটি বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলনের অংশ। শিক্ষার্থীরা যখন নিজেদের অধিকারের জন্য সোচ্চার হচ্ছে, তখন এই আন্দোলন তাদের মৌলিক অধিকারের প্রতি একটি শক্তিশালী বার্তা প্রদান করছে। NEET পরীক্ষার মাধ্যমে যে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, তা শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপরও প্রভাব ফেলছে। ফলে, এই আন্দোলন শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা ব্যবস্থার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সোনম ওয়াংচুকের এই আন্দোলন শুধু শিক্ষার্থীদের মধ্যে নয়, বরং সমাজের বিভিন্ন স্তরে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিক্ষার ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার এবং সমতা নিশ্চিত করা হলে, তা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে সহায়ক হবে। সরকারের উচিত এই আন্দোলনকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা এবং শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়া।
এখন, সোনমের অনশনের পরিণতি এবং সরকারের প্রতিক্রিয়া কেমন হয়, সেটাই দেখার বিষয়। এই আন্দোলন যদি সফল হয়, তাহলে তা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুনভাবে চিন্তা করতে বাধ্য করবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নতুন পথ উন্মোচন করবে। সোনম ওয়াংচুকের এই লড়াই শুধু তাঁর জন্য নয়, বরং সমস্ত শিক্ষার্থীর জন্য একটি নতুন আশা এবং সম্ভাবনার সূচনা করতে পারে।
To learn more about the latest developments in Politics, stay updated with our exclusive reports and analyses on AiLensNews.