মহারাষ্ট্রের 'মাজি লড়কি বহেন যোজনা' থেকে বাদ পড়েছে প্রায় ৯০ লক্ষ মহিলার নাম, যা সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নতুন দিল্লি, ভারত ১৩ জুল, ২০২৬ ALN: মহারাষ্ট্র সরকারের 'মাজি লাড়কি বহেন যোজনা' প্রকল্পটি মহিলাদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যের উন্নতির উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তবে, সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্প থেকে বাদ পড়েছে প্রায় ৯০ লক্ষ মহিলার নাম। এক মাস আগে মহারাষ্ট্র সরকার জানিয়েছিল যে 'ই-কেওয়াইসি' প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রায় ৮০ লক্ষ নাম বাদ পড়তে চলেছে। এই পরিস্থিতি মহারাষ্ট্রের মহিলাদের জন্য একটি বড় আঘাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ প্রকল্পটি তাদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করে এবং তাদের স্বনির্ভরতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
মহারাষ্ট্র সরকার ২০২৪ সালের ২৮ জুন 'মাজি লাড়কি বহেন যোজনা' প্রকল্পটি চালু করে। এর আওতায় রাজ্যের ২১ থেকে ৬৫ বছর বয়সী মহিলারা মাসিক ১৫০০ টাকা পান। এই প্রকল্পটি মহিলাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে এবং তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করতে সহায়ক। তবে, বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের আওতায় বাদ পড়া নামের সংখ্যা ৯২ লক্ষেরও বেশি হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে, এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে ২.৪ কোটি মহিলা নিবন্ধিত ছিলেন, যা এখন ৩৮% হ্রাস পেয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নাম বাদ পড়ার পেছনে শুধুমাত্র আবশ্যিক শর্ত পূরণে ব্যর্থতা দায়ী নয়, বরং যোগ্যতার মানদণ্ডের মতো একাধিক কারণও রয়েছে। বিশেষভাবে, প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লক্ষ মহিলা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে 'ই-কেওয়াইসি' প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেননি। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মহিলাদের তাদের পরিচয় প্রমাণ করতে হয়, যা প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য একটি আবশ্যকীয় পদক্ষেপ।
এছাড়াও, আরো ১২ লক্ষ মহিলার বার্ষিক আয় প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত সীমার তুলনায় বেশি হওয়ায় তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ৪.৫ লক্ষের বেশি মহিলার বয়স ৬৫ বছরের বেশি হওয়ায় তারা প্রকল্পের আওতায় আসেননি। এর পাশাপাশি, প্রায় ১৪ হাজার পুরুষ এই প্রকল্পের সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, যেটা প্রকল্পের নীতির বিরুদ্ধে। ফলে, তাদের নামও বাদ দেওয়া হয়েছে। বিড জেলা এই তালিকা থেকে বাদ পড়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে ২৮ লক্ষ মহিলার নাম বাদ পড়েছে।
সরকারের উঁচু পর্যায়ের একজন আধিকারিক জানিয়েছেন যে, উপভোক্তাদের ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য সরকার প্রায় আট মাস সময় দিয়েছিল। তবে, অনেক মহিলাই সেই সময়ের মধ্যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেননি, যার ফলে ৫৫ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতি মহিলাদের জন্য একটি বড় হতাশা সৃষ্টি করেছে, কারণ তারা এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থের উপর নির্ভরশীল।
মহারাষ্ট্রের বিজেপি জোট সরকার জানিয়েছে যে, নাম বাদ পড়ার বিষয়ে উপভোক্তাদের যে অভিযোগগুলি উঠেছে, সেগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনেক মহিলার অভিযোগ, ভুলবশত তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগগুলো নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হতে পারে।
এদিকে, গত শুক্রবার কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি) একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে সতর্ক করা হয়েছে যে, এই প্রকল্পের জন্য যে অর্থ ব্যয় হয়েছে তা রাজ্যের আর্থিক অবস্থার উপর বড় ধরনের বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে। সিএজি আরও উল্লেখ করেছে যে, এই প্রকল্পের আওতায় ৩,৫৪১ কোটি টাকা ব্যয়ের বিষয়টি কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। মহারাষ্ট্রে নারী কল্যাণে ব্যয় ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের ২৬১.৭৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ৩৩,৫৫৪.৩৬ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এই বিশাল বৃদ্ধি রাজ্যের বাজেটের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যা অন্যান্য সামাজিক ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির জন্য অর্থ বরাদ্দে প্রভাব ফেলতে পারে।
মহারাষ্ট্রের এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি বিধানসভা নির্বাচনের সময় 'অন্নপূর্ণা ভান্ডার' প্রকল্পের ঘোষণা করেছিল, যা মহিলাদের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে। তবে, সরকারে আসীন হওয়ার পর, বহু মহিলাই এই প্রকল্পের অর্থ পাচ্ছেন না। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে এই বিষয় নিয়ে বিক্ষোভও হয়েছে। এই ধরনের পরিস্থিতি রাজ্যের সরকারের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে মহিলাদের কল্যাণের জন্য ঘোষিত প্রকল্পগুলি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এই প্রকল্পের কার্যকারিতা এবং এর আওতায় নাম বাদ পড়ার ঘটনাগুলির পরিপ্রেক্ষিতে, সরকারের উচিত হবে মহিলাদের জন্য আরও কার্যকরী এবং সহজ শর্তাবলী তৈরি করা, যাতে তারা আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সক্ষম হন। মহিলাদের জন্য এই ধরনের প্রকল্পগুলি শুধুমাত্র তাদের ব্যক্তিগত উন্নয়ন নয়, বরং সমাজের সামগ্রিক উন্নতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সুতরাং, মহারাষ্ট্র সরকারের উচিত হবে এই প্রকল্পের দুর্বলতাগুলি চিহ্নিত করা এবং সেগুলিকে সমাধানের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। সরকারের সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে মহিলাদের জন্য এই প্রকল্পটি একটি সফল উদ্যোগে পরিণত হতে পারে, যা তাদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।
To learn more about the latest developments in Politics, stay updated with our exclusive reports and analyses on AiLensNews.