ই-কেওয়াইসি ছাড়া মিলবে না আয়ুষ্মান, গ্রাহকদের জন্য ডাকঘরে সেবা

ALN NEWS DESK
ALN NEWS DESK
Updated : Jul 22, 2026, 06:17 AM IST
4 min read
  • linkedin
  • twitter
  • facebook
  • instagram
  • whatsapp

আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের জন্য ই-কেওয়াইসি বাধ্যতামূলক। ডাকঘরের সঙ্গে চুক্তির ফলে দ্রুত হবে সেবা। বিস্তারিত পড়ুন।

বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প, যা ভারতের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, তার সুবিধা পেতে গ্রাহকদের জন্য ই-কেওয়াইসি (ইলেকট্রনিক নো-ইনফরমেশন কেওয়াইসি) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি ডাক বিভাগের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা এই প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে, রাজ্যে ১ কোটি ৪ লক্ষ উপভোক্তার ই-কেওয়াইসি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার ৬ কোটিরও বেশি মানুষের জন্য এই প্রকল্পের সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করছে।

‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের আওতায় প্রত্যেক উপভোক্তার জন্য একটি নির্দিষ্ট নম্বর বরাদ্দ করা হয়, যা ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আশা কর্মীরা মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে যে ফর্ম পূরণ করাচ্ছেন, সেই ফর্মে এই নম্বরটি অন্তর্ভুক্ত থাকে। পশ্চিমবঙ্গ আশা কর্মী ইউনিয়নের রাজ্য সম্পাদিকা ইসমত আরা খাতুন জানিয়েছেন, প্রশাসন থেকে যে তালিকা ও ফর্ম দেওয়া হয়েছে, সেই অনুযায়ী তাঁরা কাজ করছেন। তবে, ই-কেওয়াইসি করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি আশা কর্মীদের হাতে থাকলেও, তাঁদের প্রশিক্ষণ সীমিত হওয়ায় অনেক কর্মী এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে পারছেন না।

এছাড়া, ই-কেওয়াইসি করার জন্য ব্যবহৃত পোর্টালের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিচ্ছে। অনেক জায়গায় নেটওয়ার্কের সমস্যা থাকায় কাজটি দীর্ঘ সময় নিচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে এটি সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না। আশা কর্মীরা মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে দক্ষ হলেও, এই নতুন প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জগুলো তাঁদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করেছে। তাঁরা বারবার প্রশাসনকে এই বিষয়ে অবহিত করেছেন এবং প্রতিবাদও করেছেন। ডাকঘরের সঙ্গে চুক্তি করায় তাঁদের দাবি কিছুটা হলেও মেনে নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন ইসমত আরা।

ডাক বিভাগ কীভাবে এই প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করবে, তা নিয়ে ডাক বিভাগের পোস্টমাস্টার জেনারেল (মেল অ্যান্ড বিজনেস ডেভেলপমেন্ট) ঋজু গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন যে, উপভোক্তাদের তাঁদের আয়ুষ্মান ভারতের নির্দিষ্ট নম্বর, মোবাইল এবং আধার নিয়ে আসতে হবে। ডাক বিভাগের কর্মীরা ওটিপির মাধ্যমে ই-কেওয়াইসি যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন। রাজ্যের সব পোস্ট অফিসেই এই সুবিধা পাওয়া যাবে। এই পরিষেবা চালুর জন্য কর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। পোস্টমাস্টারদের মোবাইলে নির্দিষ্ট সফ্টওয়্যার ইনস্টল করা হবে, যা এই প্রক্রিয়ায় সহায়ক হবে।

‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পটি ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দ্বারা চালু করা হয়, যার উদ্দেশ্য হলো দেশের সকল নাগরিকের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। এটি বিশেষভাবে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষের জন্য একটি নিরাপত্তা নেট হিসেবে কাজ করে। প্রকল্পের আওতায় উপভোক্তারা বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা পেয়ে থাকেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া, অপারেশন, এবং অন্যান্য চিকিৎসা খরচের জন্য অর্থ প্রদান করা হয়।

এই প্রকল্পের সাফল্য নির্ভর করছে এর কার্যকরী বাস্তবায়নের ওপর। ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হলে, উপভোক্তাদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজতর হবে। তবে, প্রযুক্তিগত সমস্যা এবং প্রশিক্ষণের অভাবের কারণে অনেক আশা কর্মী এখনও এই প্রক্রিয়ায় বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। ডাক বিভাগের সাথে চুক্তি করার ফলে আশা করা হচ্ছে যে, এই সমস্যাগুলো কিছুটা কমবে এবং গ্রাহকদের জন্য পরিষেবা দ্রুততর হবে।

এছাড়া, ন্যাশনাল রুরাল লাইভলিহুড মিশন (এনআরএলএম)-এর আওতায় থাকা কর্মীরাও ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিচ্ছেন। এই মিশনটি গ্রামীণ উন্নয়ন এবং দারিদ্র্য বিমোচনে কাজ করে। এর ফলে, গ্রামীণ এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে এবং প্রকল্পের আওতায় আসা মানুষের সংখ্যা বাড়বে।

রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগের ফলে স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ডাক বিভাগের সহযোগিতা, উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ। তবে, এই উদ্যোগ সফল করতে হলে, প্রশিক্ষণের মান উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিগত সমস্যাগুলো সমাধান করা অত্যন্ত জরুরি। যদি এই চ্যালেঞ্জগুলো সফলভাবে মোকাবেলা করা যায়, তাহলে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

অতএব, এটি একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ, যা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং গ্রাহকদের জন্য সুবিধা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। সরকারের এই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে, দেশের স্বাস্থ্যসেবার চিত্র পরিবর্তন ঘটাতে পারে এবং জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে সচেতনতা ও প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি করতে পারে।

এছাড়া, স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে, ডাক বিভাগের কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী হিসেবে ডাক বিভাগ নতুনভাবে পরিচিতি লাভ করবে। এই পরিবর্তনগুলি দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করবে।

এমনকি, এই উদ্যোগের ফলে গ্রামীণ এলাকার স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের পাশাপাশি, শহুরে এলাকার মানুষের জন্যও সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ডাক বিভাগের সহযোগিতা, উভয়ই এই উদ্যোগের সফলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এখন, সরকারের উচিত এই প্রকল্পের কার্যকরী বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ করা এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করা। একইসঙ্গে, প্রশিক্ষণের মান উন্নয়ন করা এবং আশা কর্মীদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি সরবরাহ করা অত্যন্ত জরুরি।

অতএব, ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হলে, এটি দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সক্ষম হবে। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ডাক বিভাগের সহযোগিতা, উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ। এই উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন হলে, লক্ষ লক্ষ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার চিত্র পরিবর্তিত হবে।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে, সরকারের উদ্দেশ্য হলো দেশের সকল নাগরিকের জন্য স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানো। আশা করা হচ্ছে, এই উদ্যোগের ফলে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা আরও কার্যকরী হবে এবং জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।

Get More Updates

To learn more about the latest developments in Health News, stay updated with our exclusive reports and analyses on AiLensNews.

Related News