শিক্ষার মান যাচাইয়ে শিক্ষাদপ্তর, ক্লাস থ্রির খুদে মাতৃভাষা পড়তে-লিখতে না পারলে শাস্তি হবে শিক্ষকের!

ALN NEWS DESK
ALN NEWS DESK
Updated : Jul 19, 2026, 10:12 PM IST
3 min read
  • linkedin
  • twitter
  • facebook
  • instagram
  • whatsapp

রাজ্যজুড়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান যাচাই করবে রাজ্য শিক্ষা দপ্তর। পরীক্ষায় পাশ না করলে শাস্তি পাবেন শিক্ষকরা।

তৃতীয় শ্রেণির পড়ুয়া মাতৃভাষা লিখতে ও পড়তে না পারলে শাস্তি পেতে পারেন স্কুলের শিক্ষকরা। রবিবার আরএসএসের শিক্ষক সংগঠনের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে একথাই জানান রাজ্যের স্কুল শিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মণ। তিনি বলেন, রাজ্যজুড়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের শিক্ষার মান যাচাই করবে রাজ্য শিক্ষা দপ্তর। পড়ুয়ারা সেই পরীক্ষায় পাশ না করলে শাস্তি পাবেন শিক্ষকরা। আবার পড়ুয়াদের শিক্ষার মান ভালো হলে শিক্ষকরাই পুরস্কৃত হবে। কার্যত ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার মান দিয়ে যাচাই হবে শিক্ষকদের মান। তৃতীয় শ্রেণির পড়ুয়াদের উপর হবে অডিট। তারা মাতৃভাষা লিখতে ও পড়তে পারছে কি না তা খতিয়ে দেখবে দপ্তর।

রবিবার আরএসএসের শিক্ষক সংগঠন অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘের ফালাকাটা সার্কেলের সংগঠন পরিচিতি বর্গ অনুষ্ঠিত হয়। ফালাকাটা হাইস্কুলে এই অনুষ্ঠানে অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘের জেলা সভাপতি বাসুদেব দত্ত, জেলার যুগ্মসম্পাদক সুমন্ত সিংহ, জেলা হিসাব পরিক্ষক প্রান্তিক দে-সহ বিভিন্ন নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এই পরিচিতি বর্গের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী দীপক বর্মণ। মন্ত্রী বলেন, “আমরা রাজ্যের প্রত্যেকটি স্কুলে অডিট করব। এই অডিটে ক্লাস থ্রির বাচ্চারা মাতৃভাষায় লিখতে ও পড়তে পারে কি না তা পরীক্ষা করা হবে। বাচ্চারা যদি মাতৃভাষায় লিখতে ও পড়তে না পারে সেক্ষেত্রে শিক্ষকরা শাস্তির কোপে পড়বেন। আবার যদি বাচ্চারা ভালোভাবে মাতৃভাষায় লিখতে ও পড়তে পারে তাহলে শিক্ষকরা পুরস্কার পাবেন।”

মন্ত্রীর এই বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন রাষ্ট্রবাদী শিক্ষক সংগঠন এবিআরএসএম। এই সংগঠনের জেলার যুগ্ম সম্পাদক সুমন্ত সিংহ বলেন, “আমাদের ভাবধারাই হচ্ছে রাষ্ট্রহিতে শিক্ষা, শিক্ষা হিতে শিক্ষক, শিক্ষক হিতে সমাজ। আমরা বিশ্বাস করি আমাদের স্কুল আমাদের গর্ব। আমাদের শিক্ষকতার অধিনে থাকা ক্লাস থ্রির পড়ুয়ারা অবশ্যই মাতৃভাষায় লিখতে ও পড়তে পারবে। এই রকম মুল্যায়ন অবশ্যই হওয়া উচিত।”

রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান মন্ত্রী। বর্তমানে রাজ্যে প্রাথমিক স্তরে প্রতি ২২ জন ছাত্রছাত্রী পিছু একজন করে শিক্ষক রয়েছেন। এই হার ৩০:১ অনুপাত করা হবে। ৩০ জন পড়ুয়া পিছু একজন শিক্ষক থাকবেন। ফলে যেসব স্কুলে বাড়তি শিক্ষক আছেন তাঁদের অন্যত্র বদলি করা হবে। এক্ষেত্রে আগে শিক্ষকরা কোথায় বদলি চান তা জানা হবে। তারা না জানালে শিক্ষা দপ্তর ওই শিক্ষকের বাড়ির ঠিকানা দেখে বদলি করবে। জেলার বাইরে চাকরি করা স্কুল শিক্ষকদের নিজের জেলায় বদলির যথাসম্ভব চেষ্টা করবে সরকার।

এদিন আদালতের নির্দেশে চাকুরি যাওয়া ২৬ হাজার হাইস্কুল শিক্ষকদের প্রসঙ্গে দীপক বর্মণ বলেন, “আদালতের রায় আমাদের মাথায় রয়েছে। আমরা দ্রুত হাইস্কুলে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করব। তারপরেও এসএসসি পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।” এদিন শিক্ষা মন্ত্রীর বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়েছেন অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘের রাজ্য অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক অসীম দাস। তিনি বলেন, “এতদিন বিভিন্ন সরকার রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। শিক্ষা ব্যবস্থার পুনর্গঠনে অত্যন্ত সদর্থক ভূমিকা নিচ্ছে বর্তমান সরকার।”

Get More Updates

To learn more about the latest developments in Education News, stay updated with our exclusive reports and analyses on AiLensNews.

Related News