• Home
  • Education
  • Education News
  • পশ্চিমবঙ্গে ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ কর্মসূচির রূপরেখা

বাংলায় এবার ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ কর্মসূচি, তৈরি রূপরেখা

ALN NEWS DESK
ALN NEWS DESK
Updated : Jul 12, 2026, 06:02 AM IST
4 min read
  • linkedin
  • twitter
  • facebook
  • instagram
  • whatsapp

পশ্চিমবঙ্গে ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ কর্মসূচি চালু হতে চলেছে। কন্যা শিশুর নিরাপত্তা ও শিক্ষা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগ। বিস্তারিত পড়ুন।

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গেও এবার ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ কর্মসূচি। সম্প্রতি বারুইপুরে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। এই ঘটনার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পুলিশি পদক্ষেপ করেছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। এই আবহে রাজ্যে কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার। আর সেই লক্ষ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সমাজকল্যাণ দপ্তরের মাধ্যমে শীঘ্রই ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ কর্মসূচি চালু হতে চলেছে বলে সূত্রের খবর। পরবর্তীতে জনশিক্ষা, কারিগরি শিক্ষাসহ অন্যান্য একাধিক দপ্তরকেও এই কর্মসূচিতে যুক্ত করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

নবান্ন সূত্রে খবর, ইতিমধ্যে এই প্রকল্প রুপায়ণের রুপরেখা তৈরি হয়ে গিয়েছে। শীঘ্রই প্রতিটি জেলাকে এ সংক্রান্ত নির্দেশিকা পাঠানো হবে। এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হবে কন্যাভ্রূণ হত্যা ও লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য রোধ করার লক্ষ্যে প্রচার চালানো, কন্যা শিশুর নিরাপত্তা, পুষ্টি ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা, তাদের শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি করা, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে মেয়েদের স্কুলছুটের হার কমানো, সমাজে কন্যাসন্তানের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তোলা এবং নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা। প্রতি মাসে নির্দিষ্ট একটি বিষয়ের উপর ভিত্তি করে কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

২০১৫ সালের এই কর্মসূচির সূচনা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অন্যান্য রাজ্যে চালু হলেও সম্পূর্ণ কেন্দ্রীয় বরাদ্দে চলা এই প্রকল্প রূপায়িত হয়নি পশ্চিমবঙ্গে। তবে সরকারে এসেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সমস্ত কেন্দ্রীয় প্রকল্প চালুর নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই মতো পদক্ষেপ করে নারী ও শিশু উন্নয়ন এবং সমাজকল্যাণ দপ্তর। এই কর্মসূচি চালাতে বছরে প্রায় ৬ কোটি টাকা দেওয়া হবে।

‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ কর্মসূচির লক্ষ্য কেবলমাত্র কন্যাশিশুর নিরাপত্তা ও শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি করা নয়, বরং এটি একটি বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলনের অংশ। এই কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার চেষ্টা করবে সমাজে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য দূর করতে এবং কন্যাসন্তানের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলতে। ভারতে নারীর ক্ষমতায়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, বিশেষ করে যখন এটি কন্যাশিশুর ভবিষ্যতের সাথে সম্পর্কিত।

ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে কন্যাভ্রূণ হত্যা একটি গুরুতর সমস্যা। এটি কেবলমাত্র একটি সামাজিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি স্বাস্থ্য সমস্যা হিসাবেও দেখা যেতে পারে। কন্যাভ্রূণ হত্যার ফলে সমাজে লিঙ্গের ভারসাম্য বিঘ্নিত হচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার আশা করছে যে তারা এই সমস্যা সমাধানে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে পারবে।

এই কর্মসূচির আওতায় কন্যা শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। যেমন, স্কুলে নিরাপত্তার ব্যবস্থা, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি। এছাড়া, কন্যা শিশুর পুষ্টি ও স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার জন্য স্বাস্থ্য দপ্তরের সঙ্গে সহযোগিতা করা হবে। স্বাস্থ্য ও পুষ্টির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি চালু করা হবে, যাতে কন্যা শিশুরা স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করতে পারে।

শিক্ষার ক্ষেত্রে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে মেয়েদের স্কুলছুটের হার কমানোর জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি করার জন্য সরকার বিভিন্ন স্কলারশিপ এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে। এছাড়া, প্রযুক্তিগত শিক্ষার ওপরও জোর দেওয়া হবে, যাতে মেয়েরা বিভিন্ন পেশায় প্রবেশ করতে পারে।

এই কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সমাজে কন্যাসন্তানের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তোলা। সরকার এই লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রচারাভিযান চালাবে, যেখানে কন্যা শিশুর গুরুত্ব ও তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে। এই প্রচারাভিযানগুলি স্কুল, কলেজ এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরে অনুষ্ঠিত হবে।

নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার নারীদের জন্য বিভিন্ন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার চেষ্টা করবে। নারীরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হলে, তারা সমাজে আরও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার আশা করছে যে নারীরা তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হবে এবং তাদের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

এছাড়া, এই কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় সাধন করবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সমাজকল্যাণ দপ্তরের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা হবে, যাতে এই প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হতে পারে। সরকারের এই উদ্যোগের ফলে রাজ্যে কন্যাশিশুর নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিত হবে, যা সমাজের জন্য একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

অবশেষে, ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ কর্মসূচি কেবলমাত্র একটি সরকারি উদ্যোগ নয়, বরং এটি একটি সামাজিক আন্দোলন। সমাজের সকল স্তরের মানুষকে এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হতে হবে, যাতে কন্যাশিশুর নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়। সরকারের এই উদ্যোগের ফলে কন্যাসন্তানের প্রতি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে, যা দেশের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ কর্মসূচির গুরুত্ব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ এটি সরকারের নীতি ও পরিকল্পনার মাধ্যমে কন্যাশিশুর প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের লক্ষ্যে কাজ করছে। এই প্রকল্পের আওতায় কন্যা শিশুর নিরাপত্তা, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার জন্য একটি সমন্বিত ও বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে, যা সমাজের প্রতিটি স্তরে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।

বাংলাদেশের মতো প্রতিবেশী দেশে যেখানে নারী ও শিশুদের অধিকার নিয়ে অনেক সমস্যা রয়েছে, সেখানে ভারতের এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক স্তরেও একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। কন্যা শিশুর প্রতি সহিংসতা, বৈষম্য এবং অবহেলার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য এই ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব অপরিসীম।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার আশা করছে যে তারা কন্যাসন্তানের প্রতি সামাজিক মনোভাব পরিবর্তন করতে পারবে, যা কেবলমাত্র কন্যা শিশুর জন্য নয়, বরং সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নারীর ক্ষমতায়ন এবং কন্যা শিশুর শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে, তা সমাজের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।

পরিশেষে, ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ কর্মসূচি কেবলমাত্র একটি উদ্যোগ নয়, বরং এটি একটি সামাজিক আন্দোলন, যা সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে একত্রিত করে কন্যাশিশুর নিরাপত্তা ও উন্নয়নের জন্য কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করবে। সরকারের এই উদ্যোগের ফলে কন্যাসন্তানের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হবে এবং এটি দেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

Get More Updates

To learn more about the latest developments in Education News, stay updated with our exclusive reports and analyses on AiLensNews.

Related News