ভারতে পলিমার নোট চালুর প্রস্তুতি, কবে উঠবে ১০ ও ২০ টাকার নোট?

ALN NEWS DESK
ALN NEWS DESK
Updated : Jul 19, 2026, 11:32 AM IST
4 min read
  • linkedin
  • twitter
  • facebook
  • instagram
  • whatsapp

ভারতে কাগজের বদলে পলিমার ব্যাঙ্কনোট চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে। ১০ ও ২০ টাকার পলিমার নোট বাজারে আসার সম্ভাবনা।

ভারতে পলিমার নোট চালুর প্রস্তুতি এখন এক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া-র অধীনস্থ মুদ্রা মুদ্রণকারী সংস্থা ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক নোট মুদ্রণ প্রাইভেট লিমিটেড পলিমার নোট তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ সাবস্ট্রেট সরবরাহে দেশি-বিদেশি সংস্থার কাছ থেকে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে। আগ্রহী সংস্থাগুলিকে ১৮ আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে আবেদন জমা দিতে হবে।


গত মাসে আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা জানিয়েছিলেন যে, ভারতে পলিমার নোট চালুর বিষয়টি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে নতুন দরপত্র প্রকাশের ফলে স্পষ্ট হয়েছে যে, প্লাস্টিকের তৈরি এই নতুন ধরনের নোট চালুর প্রস্তুতি জোরকদমে এগোচ্ছে। পলিমার নোটের ব্যবহার এখন আন্তর্জাতিকভাবে বাড়ছে, এবং অনেক দেশ ইতোমধ্যেই এই প্রযুক্তি গ্রহণ করেছে। উদাহরণস্বরূপ, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং নিউজিল্যান্ডের মতো দেশগুলি পলিমার নোটের মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ ও টেকসই করেছে।


প্রথমে আসতে পারে ১০ ও ২০-র পলিমার নোট
সূত্রের খবর, পরীক্ষামূলকভাবে প্রথম পর্যায়ে ১০ এবং ২০ মূল্যমানের পলিমার নোট বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই নোটগুলি বিশেষ নিরাপত্তা কালি ব্যবহার করে ছাপানো হবে, যা ভারতীয় নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুযায়ী তৈরি করা হবে। পলিমার নোটের অন্যতম সুবিধা হল এগুলি জল ও তেলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী, যা তাদের দীর্ঘস্থায়ী করে তোলে।


প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ৬৮,০০০ রিম ভিত্তিক পলিমার সাবস্ট্রেট কেনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রতিটি রিমে থাকবে ৫০০টি শিট। ভবিষ্যতে পরীক্ষামূলক ব্যবহার সফল হলে আরও বড় পরিমাণে এবং বিভিন্ন মূল্যমানের নোটের জন্য নতুন দরপত্র ডাকা হবে বলে। এই প্রক্রিয়া নিশ্চিত করবে যে, সরকার পর্যায়ক্রমে পলিমার নোটের ব্যবহার বাড়ানোর দিকে এগোচ্ছে।


থাকবে একাধিক আধুনিক নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য
নতুন পলিমার নোটে জালিয়াতি রোধে একাধিক উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল—
স্বচ্ছ উইন্ডো সহ প্রতিকৃতি
ধাতব সংখ্যার ছাপ 
ম্যাগনেটিক ছদ্ম সিকিউরিটি থ্রেড
শ্যাডো ইমেজ
আইরিডিসেন্ট প্যাটার্ন
দরপত্রে কঠোর নিরাপত্তা শর্ত


জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে দরপত্রে একাধিক কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে। আবেদনকারী সংস্থাগুলিকে নিশ্চিত করতে হবে যে তাদের চীন বা পাকিস্তানে থাকা ব্যবসায়িক কাজ ভারতের সঙ্গে যুক্ত কাজ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা থাকবে। এছাড়া চীন বা পাকিস্তান থেকে কোনও কাঁচামাল সংগ্রহ করা যাবে না এবং ওই দুই দেশে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন কর্মীদেরও এই প্রকল্পে নিয়োগ করা যাবে না। ভারতের সঙ্গে স্থলসীমান্ত ভাগ করে এমন দেশের সংস্থাগুলিকে অংশগ্রহণের জন্য রেজিস্ট্রেশন কমিটির অনুমোদন থাকতে হবে।


কারা আবেদন করতে পারবেন?
দেশি ও বিদেশি নির্মাতা, যৌথ উদ্যোগ, প্রযুক্তি সহযোগী বা সহযোগী সংস্থা—সকলেই আবেদন করতে পারবেন। তবে তাদের অন্তত তিন বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে কোনও কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক বা সরকারি নিরাপত্তা মুদ্রণ সংস্থাকে নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যযুক্ত পলিমার সাবস্ট্রেট সরবরাহ করার ক্ষেত্রে।


এছাড়া মোট চাহিদার অন্তত ৩০ শতাংশ, অর্থাৎ ২০,৪০০ রিম সরবরাহ করার সক্ষমতা থাকতে হবে। আবেদনকারীদের পরীক্ষাগারে যাচাইয়ের জন্য অন্তত ১০টি নমুনা পলিমার শিট জমা দিতে হবে। সেই সঙ্গে প্রমাণ দিতে হবে যে উপাদানগুলিতে প্রাণিজ চর্বি নেই। আর্থিক ক্ষমতা, উৎপাদন ক্ষমতা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত অনুমোদনের নথিও জমা দিতে হবে।


ভারতে পলিমার নোট চালু হলে তা কাগজের নোটের তুলনায় অনেক বেশি টেকসই হবে, সহজে ছিঁড়বে না এবং জাল নোট তৈরি করা আরও কঠিন হবে। সফল পরীক্ষার পর ভবিষ্যতে আরও বিভিন্ন মূল্যের নোটেও এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হতে পারে। পলিমার নোটের ব্যবহার শুরু হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং তারা নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হবে।


এছাড়া, পলিমার নোটের সুবিধা শুধু নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এগুলি পরিবেশবান্ধবও। কারণ পলিমার নোটগুলি পুনর্ব্যবহারযোগ্য এবং দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের জন্য উপযোগী। এটি পরিবেশের উপর চাপ কমাতে সাহায্য করবে এবং নোটের জীবনকাল বাড়াবে।


অতীতে, ভারতীয় অর্থনীতিতে কাগজের নোটের ব্যবহার নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে, কাগজের নোটের জালিয়াতি এবং তাদের দ্রুত ক্ষয়ের কারণে সমস্যা হয়েছে। পলিমার নোটের আগমন এই সমস্যাগুলির সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


পলিমার নোট চালুর ফলে সরকারের অর্থনৈতিক নীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে। এটি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে।


এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন হলে, ভারত অন্যান্য দেশে পলিমার নোটের উৎপাদনে একটি প্রধান কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। এটি দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে একটি নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।


সার্বিকভাবে, পলিমার নোটের চালু হওয়া ভারতের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও নিরাপদ করার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সরকারের এই উদ্যোগের ফলে দেশের জনগণ একটি নতুন ধরনের নোটের সঙ্গে পরিচিত হবে এবং তাদের নিরাপত্তা ও সুবিধার জন্য এটি একটি ইতিবাচক পরিবর্তন হতে পারে।


পলিমার নোটের প্রযুক্তি এবং এর সুবিধাগুলি নিয়ে আলোচনা করলে, এটি পরিষ্কার যে, বিশ্বজুড়ে অনেক দেশ ইতোমধ্যে এই প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণ করছে। পলিমার নোটের দীর্ঘস্থায়িত্ব এবং নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যগুলি তাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াচ্ছে।


ভারতে পলিমার নোটের চালু হওয়া কেবল একটি প্রযুক্তিগত পরিবর্তন নয়, বরং এটি একটি সামাজিক পরিবর্তনও। সাধারণ মানুষকে নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করার মাধ্যমে, এটি অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ এবং নিরাপদ করে তুলবে।


এই উদ্যোগের ফলে, সরকারের অর্থনৈতিক নীতিতে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। এটি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে।


পলিমার নোটের চালু হওয়া একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ভারতের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণ করার পাশাপাশি, নাগরিকদের জন্য একটি নিরাপদ এবং টেকসই অর্থনৈতিক পরিবেশ তৈরি করতে সহায়তা করবে।

Get More Updates

To learn more about the latest developments in Inflation & Prices, stay updated with our exclusive reports and analyses on AiLensNews.

Related News