• Home
  • Culture & Arts
  • Visual Arts
  • দুর্গাপুরের মিষ্টি ব্যবসায়ীর লিওনেল মেসির প্রতিকৃতি

দুর্গাপুরের মিষ্টি ব্যবসায়ীর লিওনেল মেসির প্রতিকৃতি বিশ্বকাপের আবহে আকর্ষণ

ALN NEWS DESK
ALN NEWS DESK
Updated : Jul 14, 2026, 09:43 PM IST
5 min read
  • linkedin
  • twitter
  • facebook
  • instagram
  • whatsapp

দুর্গাপুরের এক মিষ্টি ব্যবসায়ী লিওনেল মেসির প্রতি ভালোবাসা জানাতে তৈরি করেছেন মিষ্টির একটি জীবন্ত প্রতিকৃতি, যা এখন শহরের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

দুর্গাপুর: ফিফা বিশ্বকাপের উন্মাদনায় যখন কাঁপছে সারা বিশ্ব, ঠিক সেই সময়েই প্রিয় ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির প্রতি ভালোবাসার (Lionel Messi) এক অনন্য নজির গড়লেন দুর্গাপুরের এক মিষ্টি ব্যবসায়ী। খোয়া, মিষ্টির উপকরণ এবং ফুড কালারের নিখুঁত ব্যবহারে তিনি তৈরি করেছেন লিওনেল মেসির এক জীবন্ত প্রতিকৃতি, যা এখন দুর্গাপুরের ইস্পাত নগরীতে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

দুর্গাপুরের মামড়া বাজারের পরিচিত মিষ্টি ব্যবসায়ী দেবাশীষ ঘোষ ছোটবেলা থেকেই আর্জেন্টিনার একনিষ্ঠ সমর্থক। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের ঠিক আগে প্রিয় ফুটবল তারকাকে শ্রদ্ধা জানাতে তিনি এই অভিনব উদ্যোগ নেন। প্রায় দেড় কেজি খোয়া এবং বিভিন্ন মিষ্টির উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে এই প্রতিকৃতি। মেসির মুখের অভিব্যক্তি, দাড়ি, চুল এবং আর্জেন্টিনা দলের জার্সির রঙ—প্রতিটি খুঁটিনাটিতেই ফুটে উঠেছে অসাধারণ কারুকার্য। এক নজরে দেখলে মনে হয়, মিষ্টির শরীরেই যেন প্রাণ পেয়েছেন বিশ্ব ফুটবলের এই মহাতারকা।

দেবাশীষ ঘোষের কথায়, “মেসি আমার কাছে শুধু একজন খেলোয়াড় নন, তিনি আবেগ এবং স্বপ্নের প্রতীক।” মিষ্টির মাধ্যমে এই শিল্পকর্ম তৈরির পাশাপাশি তিনি ফুটবলের প্রসার নিয়েও কথা বলেন। তাঁর মতে, দেশের ফুটবলকে আরও জনপ্রিয় করতে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন, যাতে কম বয়সী ছেলেমেয়েরা ফুটবল খেলার প্রতি আরও বেশি আকৃষ্ট হয়।

মিষ্টির দোকানে মেসির এই প্রতিকৃতি দেখতে ইতিমধ্যেই ভিড় জমাচ্ছেন অসংখ্য ফুটবলপ্রেমী। শহরের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে স্থানীয় খাদ্যরসিকরা—সবাই দেবাশীষবাবুর এই সৃজনশীল কাজের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। বিশ্বকাপের এই উত্তেজনার মাঝে দুর্গাপুরের এই মিষ্টির দোকানের ‘মিষ্টি মেসি’ যেন ফুটবলপ্রেমীদের বাড়তি পাওনা।

ফুটবল বিশ্বকাপের প্রতি মানুষের আবেগ ও উন্মাদনা একটি বৈশ্বিক ঘটনা। প্রতি চার বছরে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টটি শুধুমাত্র একটি খেলা নয়, বরং এটি বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং জনগণের আবেগের কেন্দ্রবিন্দু। পুরো বিশ্ব যখন এই টুর্নামেন্টের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন দুর্গাপুরের দেবাশীষ ঘোষের উদ্যোগ ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

বিশ্বকাপের সময়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ফুটবল নিয়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। এই সময় স্থানীয় শিল্পীরা নিজেদের প্রতিভা প্রদর্শনের সুযোগ পান। দেবাশীষ ঘোষের মতো শিল্পীরা যে শুধু খেলা নয়, বরং এর সাথে সম্পর্কিত শিল্পকলা ও সংস্কৃতির প্রসার ঘটান, সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মিষ্টির মাধ্যমে তিনি যে মেসির প্রতিকৃতি তৈরি করেছেন, সেটি শুধুমাত্র একটি খাদ্যপণ্য নয়, বরং এটি একটি শিল্পকর্ম যা ফুটবল এবং খাদ্যের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করেছে।

দেবাশীষ ঘোষের উদ্যোগের মাধ্যমে ফুটবলের প্রতি আগ্রহী নতুন প্রজন্মের কাছে একটি বার্তা পৌঁছে যাচ্ছে। মেসির মতো একজন তারকার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে, তিনি ফুটবল খেলার প্রতি তরুণদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন। এটি একটি সদর্থক পদক্ষেপ, যা দেশের ফুটবল সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

দুর্গাপুরের এই মিষ্টির দোকানে মেসির প্রতিকৃতি তৈরি করার মাধ্যমে, দেবাশীষ ঘোষ ফুটবলের প্রতি তার ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। ফুটবলের প্রতি এই ভালোবাসা শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং এটি একটি বৃহত্তর সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলন। ফুটবল খেলা, খেলার মাঠ, এবং খেলোয়াড়দের প্রতি মানুষের আবেগের প্রকাশ ঘটায়।

এছাড়া, মিষ্টির দোকানে এই প্রতিকৃতি দেখে অনেকেই নিজেদের স্মৃতিময় মুহূর্তগুলোকে মনে করছেন। ফুটবল বিশ্বকাপের সময় অনেকেই তাদের প্রিয় খেলোয়াড়দের সাথে নিজেদের স্মৃতি জড়িয়ে রাখেন। দেবাশীষ ঘোষের এই উদ্যোগ সেই স্মৃতিগুলোকে আরও জীবন্ত করে তুলেছে।

দুর্গাপুরের এই মিষ্টির দোকানে ভিড় জমাচ্ছেন ফুটবলপ্রেমীরা, যারা শুধু মিষ্টি খেতে আসছেন না, বরং মেসির প্রতিকৃতির সাথে সেলফি তুলতে এবং তাদের প্রিয় খেলোয়াড়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসছেন। এটি একটি সামাজিক সংযোগের উদাহরণ, যেখানে মানুষ একত্রিত হয়ে তাদের ভালোবাসা ও আবেগ ভাগাভাগি করছেন।

বিশ্বকাপের আবহে দেবাশীষ ঘোষের এই সৃজনশীল উদ্যোগ শুধুমাত্র দুর্গাপুরের মিষ্টির দোকানকে নয়, বরং পুরো শহরকে ফুটবল প্রেমীদের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করেছে। এর ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্যও নতুন সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। শহরের অন্যান্য মিষ্টির দোকান এবং খাবারের দোকানগুলোও এই ধরনের সৃজনশীল উদ্যোগ গ্রহণ করতে উৎসাহিত হচ্ছে।

ফুটবল বিশ্বকাপের মতো একটি বৃহৎ ইভেন্টের প্রেক্ষাপটে, দেবাশীষ ঘোষের উদ্যোগ একটি উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে যে কীভাবে স্থানীয় শিল্পীরা তাদের প্রতিভা এবং সৃজনশীলতা ব্যবহার করে একটি বৃহৎ সামাজিক আন্দোলনের অংশ হতে পারেন। এটি ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা জানাতে একটি নতুন পন্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দেবাশীষ ঘোষের কাজের মাধ্যমে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে যে উন্মাদনা সৃষ্টি হয়েছে, তা কেবল দুর্গাপুর পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়। এটি একটি বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে ফুটবল সংস্কৃতির প্রসার ঘটাচ্ছে। মেসির প্রতি এই শ্রদ্ধা ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার একটি উদাহরণ, যা সারা বিশ্বের মানুষকে একত্রিত করে।

এভাবে, দুর্গাপুরের দেবাশীষ ঘোষের মিষ্টির দোকান ফুটবল বিশ্বকাপের সময় একটি বিশেষ স্থান দখল করে নিয়েছে। তাঁর সৃজনশীলতা এবং উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা ফুটবলপ্রেমীদের জন্য একটি নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে, যা তাদের মনে দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতি তৈরি করবে।

ফুটবল এবং খাদ্যের এই মিলন ঘটিয়ে দেবাশীষ ঘোষ শুধু নিজের ব্যবসাকে নয়, বরং পুরো শহরের সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছেন। তাঁর কাজের মাধ্যমে ফুটবলপ্রেমীরা শুধু মিষ্টি খাচ্ছেন না, বরং একটি সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন, যা তাদের ফুটবলের প্রতি ভালোবাসাকে আরও গভীর করে তুলছে।

এমনকি, দেবাশীষ ঘোষের এই উদ্যোগের ফলে স্থানীয় পর্যায়ে ফুটবল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং ক্লাবগুলোর প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পেতে পারে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ফুটবল খেলার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হলে, এটি দেশের ফুটবলকে আরও শক্তিশালী করবে।

এভাবে, দেবাশীষ ঘোষের মিষ্টির দোকান শুধু একটি খাদ্যস্থল নয়, বরং এটি ফুটবল সংস্কৃতির একটি কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে। ফুটবলের প্রতি এই ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা দুর্গাপুরকে একটি নতুন পরিচয়ে পরিচিত করছে, যেখানে ফুটবল এবং খাদ্য মিলিত হচ্ছে।

দেবাশীষ ঘোষের এই উদ্যোগের ফলে দুর্গাপুরের মিষ্টির দোকানগুলোতে নতুন সৃজনশীলতা এবং উদ্ভাবন দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় মিষ্টি ব্যবসায়ীরা এখন নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করছেন, যাতে তারা নতুন ধরনের মিষ্টি এবং খাবার তৈরি করতে পারেন, যা ফুটবল বিশ্বকাপের থিমের সাথে সম্পর্কিত।

ফুটবল এবং খাদ্যের এই মিলন দুর্গাপুরের মানুষের মধ্যে একটি নতুন উৎসাহ সৃষ্টি করেছে। এটি কেবল মিষ্টির দোকানগুলোর জন্য নয়, বরং পুরো শহরের ব্যবসা ও অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

দেবাশীষ ঘোষের উদ্যোগের ফলে দুর্গাপুরের ফুটবল সংস্কৃতির একটি নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। এটি শুধু একটি মিষ্টির দোকান নয়, বরং একটি সামাজিক আন্দোলন, যা ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধাকে উদযাপন করছে।

Get More Updates

To learn more about the latest developments in Visual Arts, stay updated with our exclusive reports and analyses on AiLensNews.

Related News